somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কর্মব্যস্ত টিয়াখালী তীর, চলছে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্প

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দেশের তৃতীয় ‘পায়রা সমুদ্রবন্দর’ দক্ষিণ উপকূলের মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে এ জনপদের অর্থনৈতিক চিত্রও। অবহেলিত রামনাবাদপাড়ের মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন এই পায়রা সমুদ্রবন্দর। তাদের বহু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন অনুধাবন করছেন প্রতি মুহূর্তে। বন্দর ঘিরে প্রকল্প এলাকায় চলছে বিরামহীন উন্নয়ন কার্যক্রম। শত শত শ্রমিক পেয়েছে কর্মসংস্থান। টিয়াখালী নদীর তীরে প্রকল্প এলাকা এখন পরিণত হয়েছে আলোকিত জনপদে। এ জনপদের মানুষ এক সময় জমিজমা চাষাবাদে চরম অনীহা দেখাত। আর এখন তাদের কাছে সেই জমি যেন সোনা ফলা মাটি। এটা তাদের আর্থিক দৈন্যের যেন ইতি টানছে। ইতোমধ্যে পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত ইট বিছানো সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। পটুয়াখালী সদর থেকে পর্যটন শহর কলাপাড়া উপজেলা সদর হয়ে সোজা গাড়িতে মানুষ যেতে পারছে পায়রা বন্দর প্রকল্প এলাকায়। পড়ন্ত বিকেলে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় লেগে যায় বন্দর এলাকায়। প্রকল্প এলাকায় টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে সৌরবিদ্যুত সিস্টেম। আলোকিত হচ্ছে জনপদ। টানা হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের লাইনও। চলছে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ কাজ। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় বহির্নোঙ্গরের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। রামনাবাদ মোহনা থেকে কাজল, তেতুলিয়া নদী হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত সমুদ্রের (নৌপথের) গভীরতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। অধিকাংশ রুটের গভীরতা সাত থেকে ১৫ মিটার। তবে শুধু চালিতাবুনিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় খনন কাজ করতে হবে। অন্য বন্দরে জাহাজ চলাচলে যেমন জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করতে হয়, পায়রা বন্দরে এ সমস্যা নেই। গভীরতা বেশি থাকায় এ রুটে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে কাউয়ারচরে বাতিঘর স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। এর বাস্তব প্রতিফলন এখন দেখছেন তারা। অজানা, অচেনা এ জনপদ এখন হয়ে আছে কর্মমুখর। ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলবে অন্তত টানা ১৫ বছর। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষ সারা বছর থাকবে সম্পৃক্ত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বেছে নেয়া হয় রামনাবাদ চ্যানেলকে। বেশ কয়েক বার দেশী এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল সমীক্ষা চালায়। ঝড়-ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধ এ অঞ্চলের মানুষকে এক সময় শুধু কৃষি এবং মাছ ধরার পেশাকেই বেছে নিতে হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এ পেশায় দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। ধুঁকে ধুঁকে চলা পেশার চলন শক্তিতে এখন যেন গতির সঞ্চার ঘটেছে পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ঘিরে। সরকার প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় উপলব্ধি করতে পেরে পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় পরিবর্তনের ছোঁয়া এনে দিয়েছেন। শিল্পভিত্তিক অঞ্চল ছাড়াও পর্যটন শিল্পকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপ নিতেই তার এ প্রচেষ্টা। মাদার ভ্যাসেলকে বহির্নোঙ্গরে রেখে লাইটার জাহাজে এই বন্দর দিয়ে পণ্য ওঠানামা করা যাবে। বন্দর এলাকা এক্সক্লুসিভ জোনে পরিণত হবে।



০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: আমি ডাক্তার হবো

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

দ্রুত মাছ ধরার জালগুলো গুছিয়ে নেয় মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে অন্যান্য যন্ত্রগুলোও গুছিয়ে রেখেছে একপাশে। “জমির, ও জমির” বলে উঁচুস্বরে ডাকে কিছুক্ষণ পর পর। চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি। সবাই ব্যস্ত। কেউ বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×