১৯৮২/৮৩ সাল হবে। প্রি-স্কুল শেষ করে ভর্তি হয়েছি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে। বিশাল সরকারী স্কুল। ফেলে আসা প্রি-স্কুলের তুলনায় সব বিশাল; ক্লাসরুম, হলরুম, ফুটবল খেলার মাঠ, পুকুর, ছোট শুধু আমি।
পঞ্চম শ্রেণীতে দাখিলা হলো; শিক্ষক, বিমল বাবু স্যার। অসাধারণ অমায়িক পিতৃ-সদৃশ এক ভদ্রলোক। সবাই অনেক গন্ডগোল-হইচই করছিল। তিনি ক্লাস'এ এসে থেমে থেমে বললেন 'ছেলেরা ... তোমরা যারা ... কোনো রকম দুষ্টামি করবা ... বা করতে চেষ্টা করবা ... তাদেরকে কিন্তু আমি কঠিন শায়েস্তা করবো। এই যে দেখসো বেত, একটা মাইর'ও কিন্তু মাটিতে পরবে না। আমার কিন্তু অনেক রাগ।' পাটিগণিতের শিক্ষক ছিলেন আমাদের, মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে শুনতাম আর বুঝতাম পাটিগণিত।
জিলা স্কুলে কাটিয়েছি আরো ৭ বছর। একদিনের জন্যে স্নেহ, মমতা, নির্মল হাসি আর আশির্বাদ ছাড়া কোনোদিন সেই বেতের একটি আঘাত'ও পরেনি কারো শরীরে। মাঝে মাঝে পাশে দিয়ে হেটে যাবার সময় কাঁধে হাত দিয়ে হাটতে হাটতে বলতেন 'পড়াশুনা যত ভালো করে করবে জীবন ততো সহজ হবে।'
স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে আর ময়মনসিংহে থাকা হয়নি, দেখা হয়নি স্যারের সাথে। আমার মেয়ের সাথে মাঝে মাঝে গল্প করি স্যারের। বলি 'মেয়েরা ... তোমরা যারা ... কোনো রকম দুষ্টামি করবা ... বা করতে চেষ্টা করবা ... তাদেরকে কিন্তু আমি কঠিন শায়েস্তা করবো। এই যে দেখসো বেত, একটা মাইর'ও কিন্তু মাটিতে পরবে না। আমার কিন্তু অনেক রাগ।' মেয়েরা দেখতে চায় স্যারের ছবি।
ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় হয় মাঝে মাঝে; আমার স্কুলের চেয়ে বড় তিনি, আমার শিক্ষক। শিক্ষক যদি হয় মানুষ গড়ার কারিগর, তবে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কারিগর। যিনি জানেন কিভাবে ভালবাসার সাথে শিক্ষা মিশিয়ে তৈরী করতে হয় মানুষ।
দীর্ঘায়ু হোন তিনি।
আমার সালাম – নমস্কার ... আপনার শত-সহস্র শিক্ষার্থীর পক্ষ হয়ে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

