somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজাকারদের নামে ইসলাম কে কুলসিত করা- এইসব বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নাস্তিক-বামপন্তীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামাতে ইসলামী ইসলামের নামে, ভারত বিরোধিতার নামে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো-এর দায়ভার জামাতের, এর দায়ভার কোনভাবেই ইসলামের উপর চাপানো যাবেনা। কিন্তু আজকাল কিছু বামপন্তী, নাস্তিক এর দায়ভার ইসলামের উপর চাপিয়ে ইসলামের সমালোচনা করতে শুরু করে। এইসব বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নাস্তিক-বামপন্তীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

অথচ এরা জানেনা যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো ইসলামের নামে, আল্লাহ্‌র নামে, পাকিস্তানী শোষকদের হাত থেকে বাংলার মজলুম জনগণকে মুক্ত করার জন্যে। বিশ্বাস না হয়, ইতিহাস খোলে দেখুন। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের ময়দানে নামাজ পড়ে, আল্লাহ্‌র কাছে বিজয় প্রার্থনা করে, আল্লাহ্‌র নাম জপতে জপতে যুদ্ধ করেছে। এমনকি অনেক বড় বড় আলেম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। “আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে” এবং “একাত্তরের চিঠি” এই বই দুইটি পড়লেই ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে পারবেন।

আমি বুঝিনা এইসব নাস্তিক বামপন্তীগুলো কোন সাহসে ৯০% মুসলিমের দেশে, যে দেশের মাটিতে শুয়ে আছেন শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহ পরান(রঃ)এর মতো ইসলামের বীরসেনানীরা সে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার মতো একটি কুফরি মতবাদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ পায়, ইসলামী আইনের বিরোধিতা করার সাহস পায়, আল্লাহ্‌ রাসুলের সমালোচনা করার সাহস পায়।

আসলে দোষ ওদের না, দোষ আমাদের কারণ আমরা এখন নামেমাত্র মুসলিম আর ওঁরা হচ্ছে কাজে কর্মে নাস্তিক,বামপন্তী।

বাম-রাম ও নাস্তিকদের পরবর্তী টার্গেট, অজামাতী ইসলামপন্থীরা!!!

ইসলামপন্থীদের একটা শ্রেণীকে রাজাকার বলে কলঙ্কিত করার মিশন সফল হওয়ার পথে। এটা দেখে অজামাতী ইসলাম পন্থীদের অনেকেই বেশ খোশ মেজাজে আছেন। ভাবছেন, জীবনভর ফতোয়া দিয়ে যা না করা গেছে, ৪বছরে নাস্তিকরা তা করে ফেলেছে। শত্রু (!) খতম!

কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি, নাস্তিকদের জামাত দমন মিশন শেষ হয়ে গেলেই তারা ঘরে ফিরে যাবে না। তখন শুরু হবে নতুন আইটমের আন্দোলন। সেটার শিরোনাম হতে পারে ''মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ চাই'' জামাত তো কিছুটা সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হওয়াতে মার খেয়েও কিছুটা নড়ার শক্তি ছিল, বাকিদের মনে হয় সে সুযোগও মিলবে না।

আর যারা চার দেয়ালে ইসলাম বন্দি থাকার প্রবক্তা, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোন কালে কোন ইসলাম বিরোধীদেরই মাথাব্যথা নেই। প্রথম আলোর ভাষায় তারা হলো, ধর্মপ্রাণ মুসলমান! সুতরাং অজামাতী ইসলামিক এ্যক্টিভিস্ট ও ঠান্ডা ইসলামপন্থীরা সবাধান হোন!!! শুধু জামাত নির্মুল হলে তো ব্যপার ছিল না, নির্মুল যে হতে যাচ্ছে ইসলাম!!সচেতন না হরে সৃষ্টি হতে পারে আরেকটি তুরস্ক ও মোবারক পূর্ববর্তী মিশরের!!!

দেশপ্রেমের ব্যবসা আসলে খুবই লাভ জনক। আমাদের মৌলভীরা এটা একটু কম বোঝে। মুক্তিযুদ্ধের একটা সার্টিফিকেটের কতো মুল্য এই বাজারে, সেটা কে না জানে? চাকুরী, বানিজ্য থেকে নিয়ে সব কিছুতেই বিশেষ কোটা সুবিধা! ভাতা তো আছেই! খবরদারি ফ্রী। আমার কেন যেন মনে হয়, আজকের শাহবাগকেও সেমি মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণা দিয়ে বাম ও নাস্তিকরা আমাদের জাতীয় জীবনে আরেকটি ক্রেডিট নিয়ে আরো একশ বছর খবরদারী পাকাপোক্ত করবে এদেশে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের মতো শাহবাগ আন্দোলনের সার্টিফিকেট নামে সনদ বিতরণ করা হবে। মৌলভীরা এবারও চেয়ে চেয়ে দেখবে মাত্র।

শাহবাগ জ্বরে ভুগছেন যারা:

ডেনমার্ক কিংবা কানাডায় কেউ বিশ্বনবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন তৈরি করলে কিংবা পশ্চিমা দুনিয়া অবমাননাকর ফিল্ম বানালে বাংলাদেশের আকাশে বাতাশে তার বিরোদ্ধে মুসলিমদের প্রতিবাদের ঝড়ের শব্দ শোনা যায়। মহাম্মাদ সা: কে 'মহা উম্মাদ' বলে উচ্চারণ অযোগ্য অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করা নাস্তিক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন, ফেসবুক ইউজার রাতুল, অন্ধ পুথিবী প্রমুখ স্বঘোষিত নাস্তিকদের ডাকে সেই মুসলিরাই আজ শাহবাগে জড়ো হয়েছে মানবতা বিরোধী অপরাধের রায় বিরোধী সমাবেশে!!

তাদের প্রাথমিক দাবি ছিল কাদের মোল্লার ফাঁশি, এরপরে সেটা উন্নীত হয়েছে জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে, আন্দোলনের সর্বশেষ ভার্সন হলো ইসলামিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি!!! জাত চেনাতে যে নাস্তিকরা দেরি করবে না, সেটা জানা ছিল আগেই। তবে নামধারী অবচেতন মুসলিমরা যে বুঝতে অনেক দেরি করে ফেলছে সেটাই শংকার বিষয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চাওয়া যে কারো অধিকারই নয় কেবল, নৈতিক দায়িত্বও বটে। তবে গণহত্যাই কেবল মানবতা বিরোধী অপরাধ নয়, যে কোন হত্যাই মানবতা বিরোধী অপরাধ। সুরা মায়েদা আয়াত নং ৩২ এ আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি কোন একজন নিরপরাধ মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, সে যেন সকল মানুষকে (গোটা মানবতাকে) হত্যা করলো।

মাত্র একজন মানুষকে হত্যার দায়ে যদি মানবতা হত্যার অভিযোগ করা যায়, তবে লাখো মানুষের হত্যার দায় কতো বড়? কিন্তু সেই গণহত্যার জন্য কে কতোটা দায়ী, তা সন্দেহাতীত ভাবে না জেনে মন্তব্য করা কোন বিবেচকের জন্যই সমীচীন নয়। বিশেষ করে গণতান্ত্রির রাজনীতির ফায়দা লুটার সমাজে বিষয়টি আরো বেশি জটিল। সবচে বড় কথা হলো, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরোদ্ধে যদি এমন কোন শ্রেণী নেতৃত্ব দেয়, যারা নিজেদের দাবি মতেই ইসলামের চূড়ান্ত শত্রু হওয়া দিনের বেলায় সূর্যের আলোর মতো পরিস্কার-তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করা শুধু মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরোদ্ধেই অবস্থান নয়, ইসলামের বিরোদ্ধেও অবস্থান বটে। কারণ এই আন্দোলনের সবচে বড় ফসলটি তুলবে সেসব নাস্তিকরা, এতে মানবতা বিরোধী অপরাধের রায় বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি তাদের চেতনাও অনেকাংশে প্রতিষ্ঠিত হবে।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×