“দুঃখ করবেন না…………”
বিশ্বাস করুন আমি ঐ “আশাবাদী” দেরই একজন।যখন আনিসুল হক স্যার পত্রিকায় বাংলাদেশ নিয়ে কলাম লিখেন আমিও স্বপ্ন দেখি পরিবর্তনের।কিন্তু আমরা কি একটু বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছি না??আর কত দিন উন্নয়নশীল(পড়ুন “পরনির্ভরশীল”) দেশের মুখোশ পরে থাকব??চলুন কিছু “চরম নৈরাশ্যবাদী” কথা বলি আর কয়েকটা সমীকরন মিলিয়ে দেখি।
আজ থেকে প্রায় ১০/১২ বছর আগে সিঙ্গাপুর ডলার ছিল ৩৮ টাকা আর এখন প্রায় ৬০ টাকা ছুঁই ছুঁই।হয় সিঙ্গাপুর ডলার শক্তিশালী হয়েছে অথবা আমাদের দেশের টাকার মান কমেছে,আমাদের দেশের মন্ত্রীরা নিশ্চয়ই দ্বিতীয় ব্যাপারটা অস্বীকার করবেন!!(যদিও ঘটনা দুইটাই সত্যি)।যাই হোক,একটা দেশ ১০/১২ বছরে কি পরিমান উন্নতি করতে পারে তার উদাহরন দিলাম।আর আমরা তো ৪০ বছর ধরে চেষ্টা করেই যাচ্ছি!!(আর দেশ হিসেবে সিংগাপুরের উদাহরন দিলাম কারন আমার জানা মতে টাকার বিপরীতে এই ডলারই বেশি শক্তিশালী হয়েছে এই ১২ বছরে-কোন পারিবারিক কারনে না,আমরা আবার এই কটাক্ষ গুলো ভাল করতে পারি তো!!!)
একটা জাতীয় দৈনিকে সম্পাদকীয়তে বোধহয় পড়েছি “হাসিনা-খালেদা কেউই কথা রাখেননি”,কিন্তু আমি নিশ্চিত লেখক নিজেই নির্বাচনে এদের কাওকেই ভোট দিয়েছেন।দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের দেশের মানুষ এখনও দুই দলে বিভক্ত।এখন আমাদেরকে দিয়ে কি আসলেই পরিবর্তন সম্ভব??আমার নৈরাশ্যবাদী উত্তরঃ না।যে দেশে ঈদের জামাত পড়া নিয়ে ঈদের দিনই ৪০ জন আহত হয়-সেই জাতিকে দিয়ে আর বেশি কি হবে??এখনও আমরা দুই দলের নামে মরতে চলে যাই।তবে কি আমার সমস্যা এই দুই দলকে নিয়ে??নাহ,আমার সমস্যা তাদের সততা নিয়ে।যে জোট সরকার গত নির্বাচনের ঠিক ৬ মাস আগে ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প না দেখে অনুমোদন দেয় শুধু সেই টাকা “নির্বাচনী খরচ”(!) চালানোর জন্য,যে দলের তারেক রহমান স্বীকৃত ভাবে দূর্নীতি করে,হাওয়া ভবনে জামাত নেতাদের নিয়ে হাসিনাকে “নাস্তা খাওয়ানোর” পরিকল্পনা করে-সেই দল পরের বার ক্ষমতায় গেলে সৎ ভাবে দেশ চালাবে এর নিশ্চয়তা কি???
আর এই সরকার যারা মানুষের সাধারন মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারে না,যে বানিজ্যমন্ত্রী কম খাওয়ার উপদেশ দিয়ে বানিজ্য করেন (মন্ত্রী সাহেব দেশের মানুষ আপনার কথাই শুনেছে,তারা ভাতই তো খেতে পায় নাহ),আর যে মন্ত্রী দুই জন গুনি লোকের মৃত্যুকে নিয়ে কটাক্ষ করেন এই বলে যে ইসলামে অপমৃত্যু বলে কিছু নেই-তাদের কাছে আরও কিছু কি আশা করেন??
আর কেও একা রাজনীতি করে দেশ বদলে দেবে??-সে কথা ভুলেও ভাবতে যাবেন না।কারনটা বলছিঃ
শামীমঃ১৭(সন্ত্রাস)
তৈমুরঃ১১(দূর্নীতি)(সূত্রঃপ্রথম আলো)
এই হচ্ছে আমাদের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের কৃতীত্ব(!!)।সংখ্যা গুলো হচ্ছে কার নামে কত গুলো মামলা আছে।এখন এদের বিরুদ্ধে কেও স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়াবে বলে মনে হয়??প্রানের ভয় আমারও আছে,সামান্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার যে হারে খুনো-খুনি হয়েছে আর এ তো হাই-ভল্টেজ নির্বাচন!!আর আমি লিখিত বলতে পারি এই সব জানার পরও তাদের কেওই নির্বাচনে জিতবে,আর আমরা রাস্তা ঠিক হয়না বলে কপাল চাপড়াবো,চায়ের টেবিলে দু-চারটা সস্তা কৌতুক করব।
নতুন দল যারা আছে সে সবই ১/১১ সুযোগে গড়ে ওঠা,আর সুজনের মত সংগঠন গুলো মানুষের হাত তালি পাওয়া পর্যন্তই খুশি,আর আমরা তো শুধু প্রতিক বদলাতেই জানি-এই সব গুলো সমিকরনকে মিলিয়ে দেখলে আমাদের শিঘ্রই কোন পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়??
কি করব বলুন কষ্ট হয় যখন দেখি কোটি টাকার ঋন খেলাপীরা মাথা উঁচু করে হাটে আর ১০,০০০ টাকার জন্য ৬০ বছরের বৃদ্ধ বর্গা চাষী জেলে যান।কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই,তাই এই সব ব্যাপারকে স্বাভাবিকভাবে নিতে শিখুন-এ দেশে থাকতে হলে জানতে হবে।
দুঃখ করবেন না-আমরা এই ভাবেই থাকব,আমাদের এখন কিছুই করার নেই।একটা জায়গায় ৯ জন মিথ্যুক থাকলে বাকি ১ জন সত্য বলতে পারে না,শুধু সত্যবাদী হয়ে বেঁচে থাকতেই হয়।
আর যারা এখনও “আশাবাদী” আছেন তাদের বলি “বাংলাদেশী মুদ্রা কিন্তু ইউ.এস ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে,ফ্রি-লেন্সিং এ আমাদের দেশ এখন ৩য়”-(নিরাশার কথা আমাদের কাছে “উন্নয়ন” বলে যে সব উদাহরন চাপিয়ে দেয়া হয় সে গুলো অধিকাংশই মূলত সামাজিক পরিবর্তন-“উন্নয়ন নহে”)!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


