somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একেবারেই গুরুত্বহীন কিছু কথা......(১)

০৫ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধরুন রাজধানীর গুলশানের ফ্ল্যাটে বসে দুই ভাবি কথা বলছেন।যেহেতু ভাতের চিন্তা করা লাগে না,স্বামীও যেভাবেই হোক মাসে লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করেন(ইংরেজিতে এর একটি সুন্দর বাগধারা আছে,যাকে বলে by hook or by crook) সেই সুবাদে এনারা খুবই সৃজনশীল,মননশীল(!) সামাজিক প্রাণী!!
এবার তাদের কথোপকথনে আসি,
মীতা ভাবিঃ ভাবি জানেন তো নুসরাত ফতেহ আলি খান সাহেব ঢাকায় আসছেন।আর আপনি তো যানেনই আমি তার গানের কি ভক্ত!!(আর মনে মনে বলছেন হয়ত “উহহু কখনও নাম শুনেছিস উনার?? আমার মত কি আর দুনিয়ার সব খবর রাখিস???” )
রীতা ভাবিঃও হ্যাঁ হ্যাঁ ডেইলি ষ্টার পত্রিকায় পড়লাম তো।(ইংরেজী পত্রিকার কথা বলা শুধুই নিজেকে প্রতিযোগীতায় এগিয়ে রাখার খাতিরে)!!! ভাবি ঈদের কেনাকাটা কিছু করেছেন নাকি??(উনি আবার বলছেন হয়ত “ইইইইহহ তুই কি গান শুনিস তা আমি জানি,যাবি ত শুধু দেড় লাখ টাকার শাড়ী দেখানোর জন্য!!ভাব মারিস ফকিরনী!!!”
বিঃদ্রঃ(তারা এখন অভিজাত শ্রেনীর মানুষ পারসোনাতে যায়,ঈদের সময় রাষ্ট্রপতি ভবনে যায়,শাহরুখ খানের নাচ দেখতে যান, তাই শিক্ষাগত(পড়ুন “সুশিক্ষাগত”) যোগ্যতা কিংবা অতীত ইতিহাস ভুলে যান...ওসব জিজ্ঞাসা করা দণ্ডযোগ্য অপরাধও বটে।)
মীতা ভাবিঃনা ভাবি তেমন কিছু আর কই কিনতে পারলাম এই শাড়ীটাই যা একটু(!!) খরচ পড়ল।

দূর্ভাগ্যক্রমে এমন আরও ৩ জন মীতা ভাবী অনুষ্ঠানের দিন উপস্থিত হলেন।আর কথায় আছে “when great minds(!!) meet good things happen”.আর হলও তাই।অনুষ্ঠানে ফাতেহ আলী খান আসেননি,তার ছোট ভাই দল সহ এসেছেন।ব্যাপারটা আয়োজকদের ধৃষ্টতার কারনেও হতে পারে।শিল্পী গান শুরু করার আগেই মীতা ভাবী তার মীতাদের নিয়ে হৈচৈ শুরু করে দিলেন,ভাবটা স্বভাবের বশবর্তী হয়ে গ্রাম্য ঝগড়ার মত হল,মুহুর্তেই পুরো রুমে হৈচৈ।শিল্পী কি করবেন বুঝতে পারছেন না।তিনি বোধহয় ঘোরের মধ্যে আছেন।
এক ঘন্টা পরঃশিল্পী কোন গান না গেয়েই বিদায় নিয়েছেন,ভাবি আবার বেচারার চেহারা দেখে খুশি হলেন।কিছু হলেও টাকা উশুল হল।তার মত মননশীল শ্রোতার এত বড় অপমান!!!
আয়োজকদের অপরাধ আছে মানলাম।কিন্তু আগেই বলেছি যে কথা গুলো গুরুত্বপূর্ন নয় তা-ই বলছি, একটা বিদেশী শিল্পী কোন দেশে এসে গান না গেয়েই এভাবে বিদায় নেয়াটা আমাদের জন্যে কতটুকু সম্মানের ছিল?? আয়োজকদের সাথে পরে সব মিমাংসা নিশ্চই করা যেত...।।কিন্তু ওসব কে ভাবে??মীতা ভাবী যে রূপ দেখালেন তারপর এই শিল্পী আর কোনও দিনও এদেশে আসার সাহস পাবেন না।আর আমাদের মধ্যে বোধহয় এমন মননশীল মানুষই বেশি।
হায়রে টাকা দিয়েতো সবই হয় কিন্তু মনের দৈন্যতা দূর হবে কি দিয়ে???তাই স্বভাবও আর বদলায় নাহ্‌।গুলশান থেকে একটা বস্তির দুরত্ব কত হবে?? ২ কিঃমিঃ ????কারও বাসা ভাড়া ৩০,০০০ আর ২ কিঃমিঃ দূরে ভাড়া ৬০০ টাকা,কিন্তু দুরত্বটা কয়েক হাজার আলোক বর্ষের!!!যে ৫০০ টাকা দিয়ে পারসোনাতে পা ঘষে আসি তা দিয়ে কয়জন লোককে খাওয়ানো যেত???এই চিন্তা কখনও মাথায় আসেও না,আর এই চিন্তা নিজ থেকে না আসলে স্বয়ং করুনাময়ও তা করে দিতে পারবেন না।
(ঘটনাটা সত্যি আর সুত্রঃসময় টেলিভিশন এর রিপোর্ট)
আর রীতা ভাবী তার বাসার কাজের মেয়েকে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন না কিন্তু কাজের মেয়েকে প্রতিদিনই “শিক্ষা” দেন।এই মেয়েই এক সপ্তাহ পর বাসার ছাদ দিয়ে পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে মারা যায়,সৎ মাকে নগদ ২ লাখ টাকা দিয়ে এ যাত্রায় বাঁচলেন।ভাবছেন মেয়ের সৎ মা না থাকলে তো বিপদ হত???হ্যাঁ,ঠিকই ধরেছেন কারন পুলিশকে তো দিতে হত ৭/৮ লাখ টাকা!!!পাঠকরা ভেবেছিলেন আমি বিপদ বলতে শাস্তির কথা বুঝিয়েছি,কিন্তু নাহ্‌ শাস্তি-আইন এগুলো সবার জন্য না।
আর কি??তারা বেশ ভালই আছেন,স্বামী কালো হোক সাদা হোক যে কোন টাকা দিয়েই হোক তাদের লক্ষাধিক টাকার শাড়ির আবদার মেটান।দুঃখ একটাই-তাদের সন্তান গুলো কেন জানি বখে যায়,এক ঘুমে কখনোই রাত পার করতে পারেন না,কেন জানি মাঝ রাতে শুধু ঘুম ভাঙ্গে,হজ্জ্ব-নামাজের পরও মনে কেন জানি একটা পাপ বোধ থেকে যায়-এই কাজগুলো কেন যে টাকা-আভিজাত্য দিয়ে করা যায় নাহ্‌????কে জানে????
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×