somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ প্রার্থনা শুধুই একজন বাবার জন্য

২৪ শে জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আল্লাহর কাছে আমার জন্য কিছুই চাই না আমি..ভাববেন না আমি কোন মহামানবী..হ্যাঁ আমিও চাই তবে অন্য কারো জন্য..

তিনি আমার জন্মদাতা,আমার প্রিয় বাবা..


ভাবছেন এত ভণিতার কি আছে?আছে..কারণটায় পরে আসছি..আগে আমার বাবার সম্পর্কে কিছু বলি..


আমার স্কুলশিক্ষক বাবার ৫সন্তানের মাঝে আমি ৫ম..ছোট থেকেই দেখতাম আমার মানুষ গড়ার কারিগর বাবা আমার গরু গাধা ঘোড়া পিটিয়ে মানুষ করছেন..আমাদের ৫টিকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে রক্ত পানি করছেন..মাত্র ৫বছর বয়সে এতিম হওয়া মানুষটা অমানুষিক কষ্ট করে আজ এখানে..হয়ত বলবেন একটি বেসরকারি হাইস্কুল শিক্ষক এ আর এমন কি..যে মানুষটাকে অতটুকুন বয়সে পৈত্রিক সম্পত্তি সামলাতে মাঠে কাজ করতে হয়েছে সারাদিনে একটা পেঁয়াজ আর পান্তা খেয়ে,১৬বছর বয়সে মেট্রিক পাশ করেই যাকে শিক্ষকতায় ঢুকতে হয়েছিল তার জন্য পাকিস্তান আমলে বি.এ বি.এড করাটা কষ্টকরই বটে..তবুও বাবা করেছিলেন..হয়তো পরে অনেক ভাল চাকরি করতে পারতেন,করেননি..করেননি কারণ বদলির সরকারি চাকরি করে আমাদের থেকে,দাদি থেকে দূরে থাকতে চাননি,তার দুটি বোন যেন কারণে অকারণে ছুটে আসার মত ছাঁয়া পায় ।

ভাবছেন আমার দাদি কেন কিছু করল না?জমিদার বাড়ির মেয়ে আর গ্রামের প্রধান বনেদী পরিবারের বউ আমার দাদিকে তত্‍কালীন সমাজ ঘর থেকে বেরুতে দেয়নি..তবুও তিনি যা করেছেন তার জন্য তাকে স্যালুট দিতে ইচ্ছে করে..সে কাহিনী না হয় আরেকদিন বলব..

ফিরে আসি আমার বাবার কথায়..ছোট থেকেই আব্বুকে যত রাগী দেখেছি তাতে উনাকে খুবই ভয় পাওয়ার কথা..কিন্তু আব্বুর সাথে সবসময় ঝগড়াই করতাম আমি..(যে ঝগড়া আজও চলছে)..বন্ধুর মত ব্যবহার আমাদের মাঝে..

জীবনে চোখ মেলার পর থেকেই দেখতাম চাওয়ার আগেই সব হাজির..কোনদিন বাবাকে দেখিনি নিজের জন্য কিছু কিনতে..জিজ্ঞেস করেছি তোমার শৈশব কৈশোর তো ভাগ্যের কাছে পরাজিত ছিল..বাকিটা কেন আমাদের পেছনে এভাবে উড়িয়ে দিলে?বাবা উত্তরে শুধুই হাসত..

উদয় থেকে রাত ১১টা নাগাদ ছাত্র পড়াতো বাবা..তখন বুঝিনি বাবা তুমি কতটা সৎ মানুষ..আজ বুঝি কতখানি রক্তঝরা ঘামের বিনিময়ে আজ আমরা ভাইবোনেরা সুপ্রতিষ্ঠিত..

সারাদিন শেষে যখন খাটুনির পর একটু অবসর পেতো রাতে..এসে দেখতো আমাদের কার কি লাগবে..কিভাবে ঘুমাই,মশারি কাথা ঠিক করে দিতো..জ্বর এলে সারারাত পাশে বসে থাকতো..মাঝরাতে আইসক্রিম এর আবদার কিভাবে মিটাতো বাবাই জানে..অথবা আমার গভীর রাতে ঘুম ভেঙে নাস্তার অভ্যাসটা আব্বু কিভাবে টের পেয়েছিল জানিনা..কত রাত বাবা মেয়ে মিলে নাস্তা আর গল্পে কাটিয়েছি শেষ নেই..

এত কিছুর পরও বাবা তোমার জন্য তোমার অযোগ্য সন্তানেরা কিছুই করতে পারেনি..বড় ভাইয়াকে খুব হিংসা হয় আমার..বড় ভাইয়া যেদিন ডাক্তার হল সেদিন আমার বাবা অবোধ শিশুর মত কেঁদেছিল..গর্বের কান্না..আমার বাবাকে খুব আবার গর্বের কান্না কাঁদাতে ইচ্ছে হয়..জানিনা পারব কিনা..

আজ তাই আল্লাহর কাছে এইটুকুই চাই যেন আমার বাবা সুস্থ্য থাকেন..সুখে থাকেন..আর আমি একবার আবার তাকে সুখের কান্না কাঁদাতে পারি..আমীন
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। :#(

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৯



হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। সারাবিশ্ব থেকে ০৬ দিন সংযোগ বিচ্ছিন রেখে আপনারাই জিতছেন। অপরদিকে আলুপোড়া খেতে আসা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি (নাকি অপশক্তি) আপনারাও জিতছেন। দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন ছিলাম আমরা?

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫৫


কি দুঃসহ কয়েকটা দিন কাটালাম আমরা- কয়দিন কাটালাম মাঝেমধ্যে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে! অনলাইন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেন আশির দশকে ফিরে গিয়েছিলাম আমরা। পার্থক্য; বিটিভির পরিবর্তে অনেকগুলো নতুন রঙ্গিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের মুখে এই সরকারের পতন না হোক।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:২৯


গত ১৫ বছর এই সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছে, বিরোধীদেরকে যেভাবে কন্ট্রোলে রেখেছে এবার সেভাবে পারেনি। শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যে দেখা গিয়েছে উনি খুবই চিন্তিত ছিল এই আন্দোলন নিয়ে। একটি সাদামাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের এত বড় বড় দায়িত্ব নিয়ে ছেলেখেলা আর কতদিন?

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৫১

আচ্ছা, ডাটা সেন্টারে আগুন লাগলে সমস্ত দেশের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়? কোন মদনা এই কথা বিশ্বাস করতে বলে? পলক ভাইজান? তা ভাইজানের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? পলিটিক্যাল সায়েন্স। আর? এলএলবি। উনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর ক'টা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি: বাংলাদেশ কখনও এই নির্মমতা ভুলে যাবে না!

লিখেছেন মিথমেকার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ১:৪৮


ইতিহাসে "৭১" এর পর এত স্বল্প সময়ে এত প্রাণহানি হয়নি। সম্ভবত আধুনিক বিশ্ব এত প্রাণহানি, এত বর্বরতা, স্বজাতির মধ্যে এর আগে দেখেনি। সমগ্র বিশ্বে বর্বরতার দৃষ্টান্ত হলো বাংলাদেশ!
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×