বছরের কিছু কিছু দিন বিশেষ উপলক্ষ্য হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কাটাই। আর এই ভিন্নভাবে কাটানোর কারণটাই হচ্ছে সেই বিশেষ উপলক্ষ্য। আমাদের জানতে হবে বুঝতে হবে কোন দিনটা আনন্দ উৎসব পালনের জন্য আর কোন দিনটা উৎসব হলেও আনন্দমুখর নয়। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য কোনো উৎসবের উপলক্ষ নয়। একুশে ফেব্রুয়ারি মানে এই না যে আপনি মাথায় কতগুলো ফুল দিয়ে, হাত ভর্তি চুড়ি পরে, সুন্দর করে শাড়ি পরে প্রেমিকের হাত ধরে ঘুরে বেড়াবেন। একুশে ফেব্রুয়ারি মানে এই না যে আপনি এখানে সেখানে কনসার্ট বসিয়ে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো করে লাফালাফি করবেন। একুশে ফেব্রুয়ারি মানে এই না যে - আপনি "অ ", "আ " এর মত করে কেক বানিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করবেন। একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতে কি এত কিছু লাগে?? সঠিকভাবে জানুন না কেন অন্য দিনগুলো থেকে এই দিনটা কেন আলাদা। যে কারণে ওইদিন কিছু তরুণ নিজেদের জীবন বিলীন করে দিয়েছিলো, নিজেদের রক্তে ঢাকার রাস্তা রক্তাক্ত করেছিল সেই উদ্দেশ্যটাকে আমরা সঠিকভাবে মেনে চলি। তাহলেই তো একুশে ফেব্রুয়ারি সফল হয়। শহীদদের আত্মাও শান্তি পাবে। ভাষা সৈনিকেরাও খুশি হবে। অবাক হয়ে ভাবি তারা যদি নিজের চোখে আজ দেখতে পেতো তাদের জীবন দিয়ে পাওয়া সেই বাংলা ভাষা ভুলে আজ আমরা মম, ব্রো, ইয়ো তে কথা বলি, সাথে আবার মিশিয়ে নেই উর্দু হিন্দি ইংরেজি আর শহীদ দিবসকে আমরা আমাদের মতো করে উৎসব দিবস বানিয়ে পালন করছি , তাহলে তারা কি করতো? ভালো যে, আমাদের এমন অধঃপতন সেই মহান মানুষদের নিজের চোখে দেখতে হয়নি। সময় থাকতে এই কুপমুণ্ডকতা থেকে আমরা বের হয়ে আসি, বের হয়ে আসি অধঃপতন থেকে। একুশ নিয়ে লেখা সেই গানটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি "। আশা করি মনের মধ্যে গেঁথে রাখবেন।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



