somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্তরীক্ষে আলোছায়া

১৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মু ক্তি যু দ্ধ ভি ত্তি ক টে লি ফি ল্ম
অন্তরীক্ষে আলোছায়া
চ রি ত্র লি পি......................................................

নয়ন আশরাফ...................................
এক অস্পষ্ট চেহারার শিশু......................
রাজাকার রওশন আলী.........................
হাসনাহেনা.......................................
আমিনুল..........................................
পুলিশ ইন্সপেক্টর.................................
পুলিশ কনস্টেবল................................
অন্যান্য...........................................


কাহিনী সংক্ষেপ

# মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এই টেলিফিল্মের প্রতিটি ঘটনা কাল্পনিক। বাস্তবের কোনো ঘটনার সাথে এর কোনোরকম মিল নেই। ঘটনাচক্রে যদি কোনোরকম মিল খুঁজে পাওয়া যায় সে জন্যে লেখক বা নির্দেশক দায়ী নয়।..................
নয়ন আশরাফ একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার। একসময় এটা ছিলো তার শখ। শখের বশে ছবি তুলতে গিয়ে কোথায় কোথায় চলে গেছে সে। কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে ফেরার পথটাও আর মনে নেই। বহু কষ্টে তাকে ফেরত আসতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গণকবর আবিষ্কার এবং তার সিরিজ ছবি তুলে আলোচিত এবং পুরষ্কৃত হয়েছেন আশরাফ। ভালোবাসেন কোনো এক গাঁয়ের মেয়ে হাসনাহেনাকে। আশরাফের বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অসম সাহসী যোদ্ধা। যুদ্ধের সময়ই তিনি এক অপারেশনে গিয়ে আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে নিখোঁজ হন। এ যাবত তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আশরাফ ছবি তোলার ছলে এখনও তার বাবাকে খুঁজে বেড়ান। কোথায় পাবে সে তার বাবাকে? কেউ বলতে পারে না। বিয়াল্লিশ বছর ধরে তার বাবার খোঁজ পাবার স্বপ্ন আশরাফের।
ইদানিং এক দুঃস্বপ্ন তাড়া করে ফেরে আশরাফকে। প্রায়ই তার স্বপ্নে এসে হাজির হয় এক অস্পষ্ট চেহারার শিশু। কোনো এক পরিত্যক্ত বাড়ির আঙিনায় বসে তাকে ডাকে শিশুটি। এরপর কাঁদতে শুরু করে। আশরাফ তাকে কোলে তুলে নিলে সে কোনো এক বাড়ির দিকে পথ দেখায়। আশরাফ ওকে কোলে নিয়ে সেই অস্পষ্ট বাড়ির দরজা পর্যন্ত যেতেই একটা কালো হাত বাচ্চাটাকে ছিনিয়ে নেয়। ভয় পেয়ে যায় আশরাফ। বাড়িটাকে চেনার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। কেন সে বার বার একই স্বপ্ন দেখে বুঝে উঠতে পারে না আশরাফ।
হাসনাহেনা গ্রামের মেয়ে হলেও যথেষ্ট পড়াশোনা করে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। হাসনাহেনা মুক্তিযুদ্ধকে লালন করে হৃদয়ে। ইন্টারনেটে তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংবাদ আপডেট করে সে। মহাজন বাড়ির বর্তমান মালিক রওশন আলী। যুদ্ধকালীন সময়ে নিরুদ্দেশ থাকলেও যুদ্ধের পর কোনো এক সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা দাবীদার রওশন আলী নানান সামাজিক কর্মকান্ডে নিজের পরিচয়টা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। যুদ্ধের সময় তার এই বাড়িটা পাক সেনারা কনসেনট্রেশন ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করেছে এই দুঃখ রওশন ভুলতে পারেন না। তিনি ঘোষণা দেন মহাজন বাড়িটি পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি দান করবেন। হাসনাহেনাকে তিনি অনুরোধ করেন যেন তার বীরত্বগাথা হাসনাহেনার ইন্টারনেট পেজে স্থান পায়। মহাজন বাড়ির ইতিহাস আপলোড করতে গিয়ে হাসনাহেনা কোনোভাবেই তার পেজটা ওপেন করতে পারে না। শুধু বার বার ভেসে ওঠে একটি শিশুর মুখ। কোনো কারণও খুঁজে পায় না হাসনাহেনা । সে আশরাফকে খবর পাঠায় তাদের বাড়িতে আসার জন্য। আশরাফ ছুটে আসে হাসনাহেনার কাছে। হাসনাহেনার কথা শুনে হোঁচট খায় আশরাফ। স্বপ্নে না হয় অনেক কিছু দেখা যায় কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার স্ক্রীনে একই ঘটনা। তাও আবার দুটো জায়গায়! কিভাবে সম্ভব! আশরাফ আর এ ব্যাপারে কিছু বলে না হাসনাহেনাকে। হাসনাহেনা মহাজন বাড়ির রওশন আলীর কথা বলে। বাড়িটার ইতিহাসও বলে আশরাফকে। রওশন আলীর বাড়িটা দেখার ইচ্ছা পোষণ করে আশরাফ। হাসনাহেনাই নিয়ে যায় আশরাফকে রওশন আলীর বাড়ি দেখাতে। রওশন আলী যথেষ্ট আপ্যায়ন করে আশরাফদের। রওশন আলীর বাড়িটা খুব পরিচিত মনে হয় আশরাফের কিন্তু মনে করতে পারে না। রওশন আলী বাড়িটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখায় আশরাফকে। নিজের বীরত্ব তুলে ধরে। একটি তালা মারা ঘর শুধু আশরাফ দেখতে চাইলেও রওশন এড়িয়ে যায় কথাটা। হাসনাহেনার সাথে বসে আশরাফ ঠিক করে মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায় নিয়ে তারা ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
গভীর রাতে সেই দুঃস্বপ্ন আবার ফিরে আসে আশরাফের ঘুমে। উঠে বসে স্থির হয় আগে। এবার বাড়িটা পরিচিত মনে হয় আশরাফের। স্বপ্নে দেখা বাড়িটার সাথে অনেক মিল। আশরাফ সিদ্ধান্ত নেয় রাতের বেলা ওই বাড়িতে অভিযান চালাবে সে।
সকালে হাসনাহেনাদের বাড়িতে যায় আশরাফ। এসময়টায় বাচ্চাদের গান শেখায় সে। এখানে এসে জানতে পারে হাসনাহেনাদের পরিবারের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল কিন্তু তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। ব্যাপারটা ভাবিয়ে তোলে আশরাফকে। হাসনাহেনা পরিচয় করিয়ে দেয় সহপাঠী আমিনুলের সাথে। প্রগতিশীল তরুন আমিনুল জানায় কয়েকদিন আগে তাদের গ্রামে একটা গণ কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওরা গিয়ে সেই জায়গাটা দেখে আসে। আশরাফ আমিনুল আর হাসনাহেনাকে জানায় তার দুঃস্বপ্নের কথা। হাসনাহেনা অবাক হয় তার ঘটনার সাথে মিলে যাচ্ছে দেখে।
আশরাফ জানায় রাতে সে অভিযানে যেতে চায়। আমিনুল সঙ্গী হতে রাজী হয়। হাসনাহেনাকে দায়িত্ব দেয়া হয় ওদের সাথে যোগাযোগ রাখার। অনেক রাতে আমিনুল তৈরী হয়ে আশরাফের বাসায় আসে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ওরা নিঃশব্দে বেরিয়ে যায়। হাসনাহেনা বসে ল্যাপটপ নিয়ে।
গভীর নিস্তব্ধ রাত। চারদিকে ঝিঁ ঝিঁ পোকা আর কুকুর শেয়ালের ডাক শোনা যায়। সতর্ক নজর রেখে পায়ে পায়ে সেই বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ায় ওরা। চারদিক দেখে নিয়ে তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। টর্চ জ্বেলে এগিয়ে যায় সামনে দিকে। পুরো বাড়িটা ঘুরে ওরা সেই বন্ধ দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। দেখে ঘরের মেঝেটার মাঝখানে একটা বিরাট গোল বৃত্ত। দেখে বোঝা যায় বৃত্তের অংশটুকু অনেক পরে পাকা করা হয়েছে। দুজন মিলে গর্ত করতে শুরু করে। একসময় বেরিয়ে আসে গর্ত। গর্তের ভেতরে দেখো যায় কতগুলো কঙ্কাল। তার ভেতর একটা শিশুরও কঙ্কাল আছে। আর আছে একটা ডায়েরি। ডায়েরিটা দু এক পাতা পড়ার পর আশরাফ বুঝতে পারে এটা তারই বাবার লেখা। ওরা দ্রুত ঘরটার ছবি তুলে পাঠিয়ে দেয় হাসনাহেনার কাছে। এরপর ওরা বেরিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায়।
হাসনাহেনাদের বাড়িতে ফিরে আসে ওরা। ডায়েরি পড়ে ওরা সব জানতে পারে। বেরিয়ে আসে রওশন আলীর আসল চেহারা। পরদিন পুলিশে খবর দেয় ওরা। পুলিশ আসে কিন্তু রওশন আলী ততক্ষণে পালিয়ে যায়। গন কবরে পাওয়া যায় আশরাফের বাবা হাসনা হেনার বাবা এবং চাচাদের কঙ্কাল। পাওয়া যায় স্বপ্নে দেখা সেই শিশুটি আর তার মায়ের কঙ্কাল। এলাকার লোকজন ওদের ধন্যবাদ জানায় এমন একটি ঘটনা আবিস্কার করার জন্য। আশরাফ আর হাসনাহেনা মিলে একটি মুক্তিযুদ্ধ ও গণকবর বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট ওপেন করে সেখানে প্রকাশ করে এই ঘটনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটু চালাক না হইলে আসলে এআইয়ের দুনিয়াতে টেকা মুশকিল।

লিখেছেন Sujon Mahmud, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৫



সকাল থেকে চ্যাটজিপিটি আর ন্যানো ব্যানানার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বলেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার পশ্চাৎদ্বেশ চাটে, এইটার একটা ছবি তৈরি করে দাও।

শালারা দিবেই না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডিপস্টেট তাহলে সসস্র বিপ্লবের গোলা বারুদের সরবরাহকারী! জঙ্গি আসিফ’কে কেউ প্রশ্ন করেনি ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



বাংলাদেশে একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট-এর বিরুদ্ধে যখন জুলাই-আগস্ট মাসে তথাকথিত “মুভমেন্ট” চলতেছিল, তখন এটাকে অনেকে খুব ইনোসেন্টভাবে “পিপলস আপরাইজিং” বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্নটা খুবই সিম্পল—এইটা কি আসলেই স্পনটেনিয়াস... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলারা কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলে গেলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২০


ডিপ স্টেট নিয়ে আজকাল চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্ট বক্স সবখানেই বেশ জমজমাট আলোচনা। কেউ বলছেন দূতাবাস, কেউ বলছেন মিলিটারি, কেউ আবার আঙুল তুলছেন কোনো বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:২৫



আমি একজন প্রতিভা শূন্য মানুষ।
আমি দুটো কাজই পারি, এক, মাথা নিচের দিকে রেখে পা উপরের দিকে রাখতে। তাও বেশিক্ষণ পারি না। বড়জোর এক মিনিট। দুই হচ্ছে আমি সুপারম্যান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×