somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুহামম্াদ  হুসাইন বিল্‌লাহ
সেই নৈসর্গিক স্বপ্নগুলো ব্যাঞ্জনবাধা শব্দে বন্দী,যার কোন প্রত্যক্ষদর্শী নেই।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলামী ভাবধারা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মুহাম্মদ হুসাইন বিল্লাহ
-------------------------
তাং ২০-১৬-২০১৬ ইং
পৃথিবীরর মানুষ এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে।
ধর্ম এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
কেউ ধর্মকে বিশ্বাস করে আবার কেউ করেনা।
কেউ ভাবে ধর্মই মুক্তির চাবিকাঠি আবার কেউ ভাবে ধর্মই সকল অশান্তির মূল।
এই ধর্ম এবং ধর্মহীন দুটি মেরুই একে অপরের মুখোমুখি।
অথচ দুটি দর্শনই মানবতার কথা বলে!
কি আজব!
আমরা ধর্মীয় বিশ্বাসীরা যেমন মনে করি যে ধর্ম ছাড়া মানবজীবনে শান্তি আসবে না ঠিক তার বিপরীত পক্ষ ভাবে ধর্মই সকল সমস্যার মূল -তাই প্রথমেই ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিত্যাগ করতে হবে।
কিন্তু মূল বিষয় একই থাকা সত্বেও কেন এই ধর্মীয় ও ধর্মহীন কোন্দল?
সূচনা:
--------
১৮৫১ সনে জর্জ জ্যাকব সর্ব প্রথম ধর্মনিরপেক্ষতার ধারনার জন্ম দেন।
তিনি এটা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে ধর্ম কোন রাষ্ট্রের অংশ নয় বরং ধর্মই রাষ্ট্র থেকে আলাদা ও সতন্ত্র একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে।
তার এই দর্শন ছিল মূলত খৃষ্টান ধর্মকে নিয়ে।
কেননা ১৮১৫ থেকে ১৮৪৪ সাল পর্যন্ত মানুষ গীর্জাবিমূখ হতে শুরু করে।
কারণ, ১৭৬০ সালের থেকে ১৮০০ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত খৃষ্টীয় ধর্মীয় নেতারা জোরপূর্বক রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে।
যার থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ধর্মহীনতার পথে পা'বাড়ায়।
(নোট:১)
১৮১৫ সাল থেকে ১৮৪৪ সাল পর্যন্ত এই ক্ষোভ দানা বেধে বিক্ষোভে রুপান্ত্রিত হয়।
এর কিছুদিন পরই অর্থাৎ ১৮৫১সালে ধর্মনিরপেক্ষতার আইডিয়া তুলে ধরেন।
এটা প্রকাশ হওয়ার পরপরই বিশৃঙ্খল মানুষ পঙ্গপালের মত ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে ছুটে যায়।
জন্ম হয় ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের।
এটাই ছিল ধর্মনিরপেক্ষতার সূচনা।
(এখানে আপনি দ্বিমত পোষণ করলে যুক্তি ও তথ্য সহকারে তুলে ধরবেন বলে আশাকরি)
এখানে ইসলামের কোনো সংশ্রব ছিলোনা।

কি এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ?
------------------------------
“ নিরপেক্ষ" শব্দের অর্থ কোনও পক্ষে নয় ৷ “ধর্ম-নিরপেক্ষ" শব্দের অর্থ, কোন ধর্মের পক্ষে নয় ৷ অর্থাৎ সমস্তর ধর্মের সাথে সম্পর্কহীন ৷
উইকিপিডিয়ার মতে সেক্যুলারিজম শব্দের আভিধানিক অর্থ - একটি মতবাদ, যা মনে করে
রাষ্ট্রনীতি , শিক্ষা প্রভৃতি ধর্মীয়
শাসন থেকে মুক্ত থাকা।
জর্জ জ্যাকব ১৮৯৬ সালে তাঁর ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কিত এক প্রকাশনার ধর্মনিরপেক্ষতাকে নিম্ন লিখিত ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন:" ধর্মনিরপেক্ষতার জীবন, বিশুদ্ধরূপে মানুষের বিবেচনার উপর প্রতিষ্ঠিত, যারা ধর্মের অনির্দিষ্ট বা অপর্যাপ্ত, অবিশ্বস্থ বা অবিশ্বাস্য ধর্মতত্ত্বকে বিশ্লেষণ করেতে ইচ্ছুক তাদের জন্যই এই মতবাদের উৎপত্তি। এর তিনটি মূল ভিত্তি বিদ্যমান, যথাঃ- (১) উন্নয়ন: জীবনকে নৈতিক গুণাবলীর ভিত্তিতে গড়ে তুলতে। (২) বিজ্ঞান মানুষের উপলব্ধ রিযিক. (৩) যে কাজ ভালো তাকে ভালো ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং পাথির্ব জীবনের সার্বিক কল্যাণকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি :কি পেয়েছি আমরা এ মতবাদে?
----------
যারা মনে করে ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই ধর্মীয় বিষয়ে সকল সমস্যার সমাধান- তাদের কাছে আমার প্রশ্ন যে, আপনারা ধর্মকে ত্যাগ করে ধর্মহীন উপয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন বিগত কয়েকশত বছর ধরে।
কিন্তু আপনাদের কাঙ্ক্ষিত মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কি?
জনগণও আপনাদের উপর ভরসা করেছিল।
যারা করেননি তাদেরকে কারাবন্দী করে বাধ্য করিয়াছেন।
কেন পারেন নাই আপনারা মানবজাতির সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তি দিতে?
মানব রচিত জীবনব্যাবস্থা একটা দিয়ে নয় বার বার পরিবর্তন করেছেন।
কখনো সমাজতন্ত্র সাম্যবাদ গণতন্ত্র রাজতন্ত্র কম্যুনিজম ফ্যাসিবাদ বিভিন্ন মতবাদে প্রবেশ করেছেন।
উলটে পালটে দেখেছেন কোনটায় কি আছে।
কিন্তু ফলাফল কেউ ইতিবাচক দেখাতে পারবেন? বরং পরিস্থিতি আরোও খারাপ হয়েছে।
অস্ত্রের জোরে কোন মতাদর্শ পরাজিত করা যায় না।
মানুষের মনে পুঞ্জিভূতক্ষোভ, অস্ত্রের জোরে হয়তো সাময়িক সমাধান করা গেলেও স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়।
এই স্থায়ী সমাধান কোন পথে তার খোজে বারবার মানুষ পঙ্গপালের মত ছুটে গেছে সমাজতন্ত্র রাজতন্ত্র গণতন্ত্র'র ছায়ায়।
আজো গণতন্ত্র গায়ের জোরে চাপিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষে লক্ষ লক্ষ আদম সন্তানকে হত্যা করে চলেছে কতৃত্বাবাদীরা।
যে লক্ষে সমাজতন্ত্র রাজতন্ত্র একনায়কতন্ত্র গণতন্ত্রের অভূদ্যয় হয়েছে তার এক ভাগও সাফলতা দেখাতে পারিনি।
নির্বাচনের সময় মানুষ হত্যা, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা (সব দেশ) দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ,
সর্বোপরি এক ভয়ানক পরিস্থিতি এসে উপস্থিত হয়।
দিন দিন অন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতন খুন ধর্ষণ ছিনতাই হাইজ্যাক নারী নির্যাতন
শিশু নির্যাতন ধাঁ ধাঁ করে বেড়েই চলেছে।
যেদিকে তাকায় সেদিকে শুধুই অন্যায় অবিচার। মানুষ তার প্রকৃষ্টতা হারিয়ে অনার্যে পরিণত হয়েছে।
মানবতাবোধ শুধুই কিছু শব্দজালে বন্দী।
নিরাপরাধ মানুষগুলো বিনা বিচারে কারাভোগ করছে।
জেল বন্দী হয়ে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে (সব দেশে)।
পৃথিবীর এক ইঞ্চি জায়গা নেই যেখানে শান্তি দেখতে পাওয়া যায়।
অথচ শান্তির জন্য কত ত্যাগ কুরবানি ও বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ।
অর্থনীতির পাহারাদাররা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে।
দেশে দেশে শান্তিরক্ষী পাঠিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়। একটার পর একটা জোট গঠন করা হচ্ছে।
সামরিক জোটও গঠন করা হয়েছে।
নিরাপত্তাচুক্তি করা হচ্ছে।
রেলপথ নৌ-পথ কঠর নযরদারীতে আনা হয়েছে।
সিমান্তে কাটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
তবুও।
তবুও শান্তি প্রতিষ্টা হয়েছে কি?
মানব রচিত মতাদর্শ আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
জাতিসংঘের পরাজয় ঘটেছে।
কি চাই আর! আর কি চাই বিশ্ববাসী?
এই জীবনব্যস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কোটি কটি মানুষের প্রাণ হরণ করা হয়েছে।
দেশ জনপদ মসজিদ মন্দির প্যাগোডা গির্জা ধ্বংস করা হয়েছে।
আহত বিকলঙ্গ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে লক্ষ কোটি মানুষ।
শান্তি?
সুদুর পরাহত!
মানুষ ধর্মকে পৃথক করেছিল পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।
ধর্ম সেখানে ব্যর্থ হয়েছে।
এই যে ধর্মের ব্যর্থতা -এর জন্য দায়ী কে?
চলবে...
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৫৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×