somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা আমার মনের কোঠায়

২৯ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবিতা আমার মনের কোঠায়
আমি একটা উপন্যাস পড়ছি । মোড়ের মাথার সাইবার কাফেতে রফিক সকাল বিকাল নিয়ম করিয়া যায় কমপিউটারে টাইপিং স্পিড বাড়ানোর অনুশীলণে । চাকুরির পরীক্ষায় যা যা আসে সেগুলি পাঠ করে নিয়মিত , ঘড়ি ধরিয়া । যত পড়ে ততোই উদ্যম বাড়ে । একটা আত্মবিশ্বাস গড়িয়া ওঠে । চাকুরি সে পাইবেই । নুতন নুতন উদ্যমে সে প্রতিদিন নুতন করিয়া বাঁচিবার রসদ পায় । ভবিষ্যতের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাধনায় রফিক অবিচল , কিছুতেই তাকে থামানো যাইবে না

থামাও তোমার রফিককে । কে তোমাকে এই সাহিত্যবাসরে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ? আস্তো একখানা ঊপন্যাস নিয়ে এসেছো এই পাঁচ মিনিটে গেলানোর জন্য ? নাকি জানোইনা তোমার জন্য সময় বরাদ্দ মাত্র পাঁচ মিনিট ; গুটোও তোমার জাবেদা খাতা । তার চেয়ে বরং একটা কবিতা টবিতা কিছু পড়ো ।

কবিতা ? কবিতা তো আমি লিখিনা , মানে আমার কথা আমার ভাবনা ভাব গতিক ঠিক কবিতায় আমি ধরতে পারিনা । উপন্যাসই আমি লিখি । তা না হলে বড়ো জোর বড়ো গল্প লিখি , নইলে আমার মাথার এলোমেলো চিন্তাগুলো ছবির মতো সাজে না , সাজানো যায় না । উপন্যস আর বড়ো গল্প , এই দুটোই শুধু আমি লিখতে পারি ।

বড়ো গল্প ? কত বড়ো ? মানে ক'পাতার ?

ধরুন না কেন বিশ তিরিশ পাতা ।

তিরিশ পাতা , ছাপা , না পান্ডুলিপির ?

পান্ডুলিপির , মানে ছাপা তো হয়নি একটাও ,লিখেছি লিখেই গেছি । গল্পগুলো তিরিশ -চল্লিশ পাতার আর উপন্যাস গুলো ? তা মোটামুটি এক খাতা ।

এক খাতা ? এটাএকটা হিসেব হোলো ? বলি ক;পাতার খাতা ? ক' নম্বর খাতা ?

তা তো জানা নেই , মানে অতোশতো দেখিনা তো , রফিক যার সাইবার কাফেতে যায় তারই একটা স্টেশনারি দোকানও আছে , টাইপিং-এর ফাঁকে ওখান থেকেই এটা সেটা কিনি আমি ।।

রফিক তো বললে তোমার উপন্যাসের চরিত্র , তাই না ? তুমি বাস্তবে কি করে রফিকের সাইবার কাফের মালিকের স্টেশনারি দোকানে যাবে ? আর শোনো বাপু , এটা কোনো উপন্যাস টুপন্যাস পড়ার জায়গা নয় । কবিতাও লিখতে পারোনা , তাহলে কি করবে তুমি এখন ?

তাহলে আমার মনের কথাগুলো এমনিই বলে যাই ?

বলো , বলতে পারো তবে খুব সংক্ষেপে , অতি সংক্ষেপে ,মানে সংক্ষেপের সংক্ষেপ , ওই ইংরাজিতে যাকে বলে প্রেসির সামারি ।

প্রেসির সামারি ? তাহলে দু নিঃশ্বাসে বলে দিই ?
বাবা মারা যাবার আগে .... । মানে বাবা ভারী অসুখে ভুগছিলেন , তবুও জমি তিনটে বিক্রি করলেন না , মাকে বোঝালেন , ডাক্তার তো বলছে এ রোগে বাঁচার আশা খুব কম । টাকা লাগবে কাঁড়ি কাড়ি । আরামের গ্যারেন্টি নেই ।জমিবিক্রি করবো না । কিছুতেই না । জমি তিনটে বিক্রি করলে বাবা মা খাবে কি ! তুমি খাবে কি / সংসার চালাবে কি করে ? খোকার পড়াশুনা চালাবে কি করে ? মেয়ে দুটোর বিয়ে দিতে হবে না ?
বাবা মারা গেলেন । টাকার অভাবে । চিকিৎসা ঠিকঠাক হলে বাঁচতোই , আমরা সবাই জানতাম । বাবা মারা গেলেন , তবুও জমি বেচলেন না , অথচ সে জমিই বেচতে হোলো দিদিদের বিয়ের জন্য । কতো সুন্দর সুন্দর সেই জমির নাম । বৈঁচি তলা , কুসুম পুকুর , ঊনো বীজ ! নামগুলোতেই কতো মায়া , তাই না ? মা একা একা থাকলেই কাঁদতো । আচ্ছা মা কাঁদতো কেন ? মা তো জমি গুলো কখনো দেখেই নি । জানেন জমি হোল চাষি ঘরের একটা মায়া । শুনেছি ঐ আবেগে নাকি যুগ যুগের জগদ্দল সাম্রাজ্যও তাসের ঘরের মতো ধ্বংস হয়ে যায় , বালির বাঁধ দিয়েও তাকে আটকানো যায় না ।

শোনো ! এটা কি হচ্ছে ? এখানে রাজনীতিটা কি না করলেই নয় ? দেখো বাপু তুমি কবিতা যদি এনে থাকো তো পড়ো নইলে মান থাকতে থাকতে বিদেয় হও ।

জানেন কবিতা আমিও লিখেছিলাম । আমার কলেজ জীবনে । মানে ফার্স্ট ঈয়ারে যখন পড়তাম । বাকি টা পড়া হয়নি ।
ওকে দেখেছিলাম লাইব্রেরীতে । আমি যে বইটা খুঁজছিলাম সেটা ছিলো ওর হাতে । পড়ছিলো । আমি বুঝতে পারছিলাম না ও নেবে নাকি ফেরৎ দেবে । যদি ফেরৎ দেয় আমি নেবো । বইটা ও ফেরৎ দিয়েছিলো । আমি নিয়ে বাইরে আসতে লক্ষ্য করেছিলাম ও তখনও দাঁড়িয়ে ছিলো , কার জন্য অপেক্ষা করছিলো ?

আমি অবাক হয়ে যেতাম যখন দেখতাম ও আমার জন্যই অপেক্ষা করে । ওর অল্টো এসে গেলেও ও বাড়ি যেতে চায় না । ড্রাইভারকে রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়েই রাখে । সে কিছুটা আন্দাজ করতে পারে , অধৈর্য হয় । আমি বাসে উঠে লক্ষ্য করতাম বাস ছাড়ার পরেও ও আমার নিরাপদ যাত্রা যতটা পারে দেখে তবেই কারে উঠতো ।

ওর জন্যই কবিতা লিখেছিলাম ।


ওঃ ! এতোক্ষণ তাহলে কেন ভ্যানতাড়া কেন করছিলে ? তোমার সেই প্রেমের কবিতাটাই শোনাও । অবশ্য তোমার পাঁচ মিনিট অনেক ক্ষণ আগেই শেষ হয়ে গেছে ।তবুও প্রেমের কবিতা হলে শুনতে আমাদের আপত্তি নেই ।


সে কবিতা টা । সেতো এখন একটা কাব্য । সেই কবিতাকে আমি এ্যাতো দিন লালন করেছি । আমি পালন করেছি ।একটু একটু করে তাকে গড়েছি । ভেঙেছি । সযত্নে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছি । সে কবিতা তো এই জন সমাগমে প্রকাশ করা যায়না । সে যে আমার একান্ত নিজস্ব । আমার গভীর গোপনীয় । আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে পড়ি । পড়ে কাঁদি , কেঁদে দুঃখ ভুলি । ওই কবিতা যে আমার সকল দুখের সান্ত্বনা । তাকে তো আমি বাজারে দেখাতে পারি না । সে কবিতা শুধু আমার নিজের , আমাদের নিজের । আমি জীবনের অন্তিম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি । যেদিন তার অবসর হবে সেদিন তাকে শোনাবো ।
আমার এ কবিতা শুধু ওরই জন্য ........



সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×