somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সে আমার সাথে দেখা করতে ইচ্ছুক নয়

১৯ শে আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১০.১১.২০১৪
ঢাকা থেকে নেত্রকোনার দিকে রওনা হলাম । ২০১৫ সালের এইস.এস.সি পরিক্ষা জন্য টেষ্ট পরিক্ষা দিতে গিয়েছিলাম । যদিও এটাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য এর বাইরেও একটা উপ-উদ্দেশ্যও ছিল । সেটা হল অতীত প্রেমকে বর্তমান ও ভবিষ্যত করার উদ্দেশ্য । ২০১০ থেকে আমি নীলাকে ভালবাসি । তখন থেকেই নীলা আমার সাথে সহনশীল আচরণ করত , তবে নীলার ভালবাসা পূর্ণ প্রকাশ পায় ৬ই ফেব্রুয়ারী ২০১২ তে । নীলার ফোন নাম্বারটা আমার আগেই সংগ্রহ করা ছিল । ফোন করার অনুমতি পায়নি বলে ফোন করতামনা । ৬ই ফেব্রুয়ারী নীলা তার এক বান্ধবীকে আমার কাছে পাঠিয়েছিল একটা খবর দিয়ে, আর তা হল ঐ দিন বিকালে সে ফ্রি থাকবে আমি যেন তাকে ফোন দেই । সেই ফোন করার মধ্যে ও একটা নিয়ম ছিল সেটা হল বিকাল ৫ টায় আমি তাকে মিসকল দেব,যদি সে কথা বলার অবস্থায় থাকে তবে সে পূনরায় আমাকেও একটা মিস কল দিবে পরে তার সাথে আলাপ । আমি এই খবরটা পায় দুপুর ১২ টার দিকে আর তখন থেকেই আমি বিকাল ৫টার অপেক্ষা করতে খাকি । অপেক্ষার প্রহর যে কাটতে চায়না সেটা আামি ঐ দিনই বুঝেছিলাম । অতঃপর ৫টা বাজতেই আমি তার ফোনে একটা মিসকল দেই,,পরক্ষনেই ওপাশ থেকে আরেকটা মিসকল আসে । তখন আমি সরাসরি কল দিলাম এবং নীলা কলটা ধরলো । ফোনে প্রথম কথাটা নীলাই বলেছিল ,
নীলা – হ্যালো ,
আমি-হুম কেমন আছো তুমি ?
নীলা – ভালো ।আপনি কেমন আছেন ?
আপনার পরিক্ষা কেমন হচ্ছে ?
আপনি এখন কোথায় আছেন?
আমি – আস্তে আস্তে বল , আমি খুব ভাল আছি ।
পরিক্ষাও ভাল হচ্ছে ( তখন আমি এস.এস.সি পরিক্ষার্থী )
এখন আমি আমাদের নদীর পাড়ে ।

ঐদিন আরো অনেক কথা হল নীলার সাথে ।
সম্পর্কটা দীরে ধীরে কাছের হতে থাকলো । কিছু দিন ফোনে কথা বলার পর একদিন দেখা করার কথা বললাম নীলাকে । নীলা অমত করলনা । সে তখন নবম শ্রেণীতে পড়ে । স্কূল ছুটির পরে আমি তার সাখে দেখা করি ।রেললাইন ধরে অনেকটা পথ দুজন কথা বলতে বলতে গেলাম । নীলার বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে আমি ভিন্ন পথ ধরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । তখন থেকেেই নিয়মিত ফোনে কথা বলা দেখা করা হতো । আমি পরিক্ষা শেষ করে ঢাকায় গেলাম বেড়াতে । মাস দুয়েক ঢাকা থাকার পর বাড়িতে গেলাম । পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ হল । পরিক্ষায় পাশ করলাম ।নীলার উষ্ম অভিন্দন পেলাম ।



নেত্রকোনা সরকারি কলেজ এ ভর্তি হলাম ।
এর পর একদিন নীলার সাথে দেখা করলাম । নীলা সেই দিন আমাকে কিছু কথা বলেছিল :
আমি কেন তাকে ভালবাসি ?আমি যদি তাকে ভাল না বাসতাম তাহলে নাকি তার চেয়ে ভাল মেয়ে পেতাম ;আমি যেন তাকে ভুলে যাই !


কথাগুলো শোনার পর কিছুটা সময় স্তব্ধ ছিলাম । কিছুক্ষন পর নীলাকে অনেক বকা ঝকা করলাম । কেন সে আমাকে বলল তাকে ভুলে যেতে ? তার চেয়ে ভাল মেয়ে তো আমার দরকার নেই । আর এই চোখে যাকে একবার ভাল লাগে মরণোত্তর সেই ভাললাগা রয়ে যায় ।
নীলা তার ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চায় । আমিও মনে কিছু রাখলাম না ।
সেই দিনের মত বিদায় নিয়ে নিলাম ।

এর কিছুদিন পর থেকেই নীলার আচরনে ভিন্নতা দেখতে পায় ।আগের মতো ফোন করেনা,দেখা করেনা । কেমন যেন হয়ে গেছে । এরকম করার কারন জানতে চাইলেও সে কিছু স্পষ্ট করছেনা ।
খুব সংকোচের মধ্যে দিন কাটছে । এরকম সময়ে আবার আমাদের পরিবার নেত্রকোনা থেকে ঢাকা শিপ্ট করলো । আমিও তাদের সাথে চলে এলাম । কলেজে তখন দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে এলাম ।
ঢাকা থেকে গিয়ে ২০১৪ সালের এইস.এস.সি পরিক্ষার জন্য পি-টেষ্ট দিতে গেলাম । পরিক্ষা দিলাম উত্তীর্ণ হলাম ।কিন্তু পরবর্তীতে টেষ্ট দিতে যায়নি । কারণ নীলার সাথে রাগ করে ।যার ফলে ২০১৪ সালের এইস.এস.সি পরিক্ষাও দেওয়া হয়নি ।

সর্বশেষ এ বছর সিদ্ধান্ত নিলাম পরিক্ষা দেব । যার কারনে ১০.১১.২০১৪ বাড়িতে যাওয়া ।
বাড়িতে গেলাম , ২০১৫ সালের এইস.এস.সি পরিক্ষা জন্য টেষ্ট পরিক্ষা দিলাম । পরিক্ষার ফাঁকে সুযোগ খোজছিলাম নীলার সাথে দেখা করার কিন্তু পারছিলাম না । ২৬.১১.২০১৪ এ দিন নীলা এক বান্ধবিকে দিয়ে দেখা করার অনুরোধ করলাম । সে তার বান্ধবির কাছে বলেছে
‘‘‘‘‘‘‘‘সে আমার সাথে দেখা করতে ইচ্ছুক নয় , এবং আমি যেন তাকে ভুলে যাই’’’’’’
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:০১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×