somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইমনের ডায়েরিটি যেন ঝরাপাতা-১

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরেকটা কথা বললে একদম থাপ্পড় দেব।
গাল পেতে দিলাম, দে।
কদিন ধরে এই শহরে তুমুল বর্ষা, যেন ত্রিকাল ধেয়ে বৃষ্টি নামছে।
বিকেল থেকে হরর ছবিতে ডুবে ছিল ইমন। ছাতা নিয়ে রুমানা এসে দরজা ধাক্কাতে থাকে। ছবির মোহাচ্ছন্নতার কঠিন ইন্দ্রজাল থেকে নিজেকে বিযুক্ত করে রুমানাতে বিন্যস্ত হয় ইমন। এ সময় রুমানার আগমন ইমনকে বিরক্ত করে।
রুমানা হরর জাতীয় কোনো কিছু দুচোখে দেখতে পারে না। এরপরও ইমনের সঙ্গ পেতে রুমানা বেশ কিছুক্ষন হরর ছবি দেখেছে। কী অদ্ভুতভাবে একটি ঘাড় থেকে মস্তক খসে পড়ল। কারও-বা ঘাড়ের মধ্যে দাঁত বসিয়ে দিচ্ছে। রূপসী নারীর বীভৎস দাঁত। কবর থেকে উঠে আসছে জ্যান্ত লাশ। কিছুক্ষণ দেখে দেখে হাই তুলতে তুলতে ইমনকে ধাক্কায়। এই একজনই তো বন্ধু তার, যার কাছে আবিরের গল্প করা যায়। রুমানার অন্তরে জ্বলে উঠতে থাকা প্রদীপের উল্লম্ফন সমূলে দাবিয়ে ইমন বলে, তোদের সম্পর্কটা আমি বুঝি না, যেন দাতা আর গ্রহীতা। ভার্সিটিতে থাকতে তোকে নোট দিয়ে হেল্প করত, অবিন্যস্ত তোকে বিন্যস্ত করে নিজের মতো চলতে শেখাল আবির। ওর কাছে গিয়ে তুই মাটির ঢেলা হয়ে গেলি। তোর নিজস্বতা ওর সামনে দাঁড়ায়ই না।
ঈর্ষা করছিস ওকে? ইমনের গা জ্বালাতে ঠোঁট চেপে হাসে রুমানা, আমি আদতে কোনো ভদ্রমানুষ নাকি? ক্লাস ওয়ান থেকে তোর সঙ্গে চলে চলে তোর মতোই বুনো হয়ে গিয়েছিলাম।’
আমি তোর প্রেমে পড়লাম কবে যে ওকে ঈর্ষা করব?
আমার এই খালি ঘর পেয়ে তোরা কী সব অসভ্যতা করিস... সুযোগ তো আমিই করে দিই, না?
বৃষ্টির ছাট জানালার শার্সি কাঁপাচ্ছে।
কালই রুমানার বিয়ে। মেয়ে আজ এসে আজাইরা বকবক করছে।
আবিরের সঙ্গে কত পথ হেঁটেছে রুমানা। কী চৌকস তার দেহ ভঙ্গিমা। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কত মেয়ে প্রেমে পড়েছিল আবিরের। ছেলেটি সামনে এসে দাঁড়ালে ফলসা পাতার মতো কাঁপত রুমানা। আবির সবাইকে বাদ দিয়ে...। ভাবলেই রুমানা অদ্ভুত রোমান্সের নৌকায় ভাসতে থাকে। নিজ চিত্তের আদলে রুমানাকে বিন্দু বিন্দু করে গড়ে নিয়েছে আবির।
আবিরকে রুমানা প্রায়ই বলে, ইমনটা জংলি। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ভাগা দিয়েছে। দিনরাত নিজ আলস্যে কার্পেটে গড়ায়। ওর বাবা-মা ওকে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন।’
সেদিন ইমনের ঘরে ছিল আলো-ছায়ার সঙ্গম। আবিরের সঙ্গে শরীরের প্রায় শেষ ধাপে গিয়ে যৌনজ্বরে কাতর রুমানা যখন চাদরের মতো নিজেকে বিছিয়ে দিয়েছে, ছটফট করতে করতে নিজেকে টেনে তোলে আবির, এখন নয়। এসব বিয়ের পর হবে।’ এতে করে রুমানার হৃদয়ের কানকোর সঙ্গে এমন সুন্দরভাবে গেঁথে গেছে আবির, অবিরাম ওর গল্প করার জন্য ইমনের মতো ভালো শ্রোতা সে আর পায় না।
তুইকি ইন্টার পাসই থাকবি?
তোর প্রবলেম কী?’ রিমোট হাতে টিভির স্ক্রিন পাল্টাতে থাকা ইমন বলে। তর ঝাঁকড়া চুলে কদিন চিরুনি পড়েনি সেই হিসাব নে। মাঝেমধ্যেই পাহাড়-জঙ্গলে উধাও হয়ে যায় সে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে টাকা ফুরোলে তারপর চলে আসে আবার।
একটানা ইমন না থাকার সময়টা বড় শূন্য লাগে রুমানা। আবিরের সান্নিধ্যও তাকে পূর্ণতা দেয় না। ওর সাহচর্য সাধনের চেয়েও অনেক তীব্র এই গল্পগুলো রঙিন সুতোয় বুনে বুনে ইমনকে শোনানো।
তুই মানুষ না হয়ে অন্য কিছু হওয়ার কথা ছিল।’
রুমানার এ কথায় হা হা করে হাসে ইমন, এদ্দিনে বুঝলি?
শুধু কি আবিরের গল্প? আবির যখন তার জীবনে আসেনি, নিজের জীবনের প্রতিটি টুকরো গল্পকে রীতিমতো রূপকথা বানিয়ে রুমানা ইমনের কাছে প্রকাশ করেছে।
শৈশব থেকেই রুমানা অনুভব করে, একটা ছায়া ঘোরে তার সঙ্গে, যার কোনো অবয়ব নেই, রূপ নেই। যখন সে একা থাকে তখন ফিসফিস করে সেই ছায়ার সঙ্গে ভরা পূর্ণিমার চাঁদে যাওয়ার কথা বলে। কুয়াশা-ভোরে অনন্তে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া থেকে মাছকুমারী হয়ে রুমানাকে সমুদ্রে সাঁতার কাটার গল্প বলে সেই ছায়া। ভয়ে হাত-পা হিম হয়ে আসে বলে কখনো একা ঘরে ঘুমায় না রুমানা।
রুমানা শৈশবে এসব কথা বললে সবাই হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। একমাত্র ইমন বিশ্বাস করে বলেছে, তোর ছায়ার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে গেছে, সে এখন আমার সঙ্গেও ওই সব গল্প করে । [চলবে]
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×