somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলার জমিন থেকে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন উপড়ে ফেলা সময়েরদাবি।

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের অবস্থা ভালো নয়। কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই, মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে । একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি দিনে দিনে বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, সামনে অনেক বিপদ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমেরিকা জঙ্গি বানিয়ে এদেশে আসতে চায়। তাই আইএস’র নামে তারা ষড়যন্ত্র করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং এর আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, সরকারবিরোধী দেশ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আছে। বাংলাদেশকে কোনো মতে অনিরাপদ ঘোষণা করা ও বাংলাদেশে আইএস আছে, জঙ্গি আছে, যদি এমন ধরনের কিছু স্বীকার করানো যায় তাহলে বাংলাদেশের ওপর তারা হামলা করতে পারে।
অতএব, দেশ ভালো আছে, এমন কথা বলার সুযোগ নেই।
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, একটি মহল সম্পূর্ণ নির্বিকার। মহলটি গান-বাজনা, সঙ্গীত ও নাটকে মেতে আছে।
তাদের আয়োজন কখনো লোকসঙ্গীত উৎসবের নামে, কখনো উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবের নামে ভারতীয় শিল্পীদের ‘শো’ চলছে। এই মুহূর্তে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে চলছে শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের মহা-উৎসব। পাঁচ দিনের এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের যে তালিকা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, সবাই ভারতীয় শিল্পী । এই আয়োজনে একটি দিনও বাংলাদেশী শিল্পীদের জন্য রাখা হয়নি। অথচ কে না জানে, উপমহাদেশের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে বাংলাদেশীদের অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। বিস্ময়ের আরও একটি দিক হলো, এসব অনুষ্ঠানে সরকারের প্রয়োজনীয় সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে। যখন ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে মানুষ নিরাপত্তাহীন, যখন গণগ্রেফতার, গণতল্লাশি, বিশেষ করে মসজিদ-মাদ্রাসায় তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে, তখন উৎসবগুলোতে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিনা টিকিটের শ্রোতা দর্শকদের নিরাপত্তা দিতে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, যাতে মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। ভারতীয় শিল্পীদের শো মানে, ভারতীয় সংস্কৃতির শো। এদেশে এমন কিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যারা শিল্প, সাহিত্য সঙ্গীত, নৃত্য ও সংস্কৃতির নামে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রসার ঘটাচ্ছে এবং যথারীতি সরকারী সহযোগিতাও পাচ্ছে । এরা এসব অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ কোথায় পাচ্ছে সেটা একটা বড় প্রশ্ন এবং তার কোনো জবাব নেই। সংস্কৃতির মূল উৎস ধর্ম। সংস্কৃতি বিনির্মাণে ধর্ম সর্বাপেক্ষা প্রভাবক ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের সংস্কৃতিতে ইসলামের প্রভাব সঙ্গতকারণেই বেশী। একই ভাবে ভারতে অধিকাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে তাদের সংস্কৃতিতে হিন্দু ধর্মের অধিক প্রভাব রয়েছে। ফলে দু’দেশের সংস্কৃতির পার্থক্য অনিবার্যভাবেই থাকবে এবং আছে। অবস্থাদৃষ্টে এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতির ওপর ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি চাপিয়ে দেয়ার একটা অপতৎপরতা চলছে। একেই বলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এই আগ্রাসন ঠেকাতে না পারলে আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বহুদিন ধরেই আমাদের দেশে নীরবে-কৌশলে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে। দলে দলে ভারতের কবি-সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, চলচ্চিত্র, নাট্য ও নৃত্যশিল্পী আসছেন, শো করছেন, কাজ করছেন এবং পারিতোষিক নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এটা বহু পুরনো কথা, যদি কোনো জাতিকে ধ্বংষ করতে হয়, তাহলে আগে তার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে হবে। কোনো জাতি তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নীতি-আদর্শ হারালে তার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রিক অস্তিত্ব থাকে না। আমাদের ওই রকম পরিণতি যাতে না হয়, সে জন্য অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। ভারতসহ সকল ভিনদেশী অপসংস্কৃতি প্রতিহত করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলার জমিন থেকে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন উপড়ে ফেলা সময়েরদাবি। এ ব্যাপারে সরকার, রাজনৈতিক সংগঠন, শিল্পী-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় আমাদের ধ্বংষ অনিবার্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:১৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×