মেয়েটির দিকে তাকাই। গোল গোল বড় বড় চোখ। যেন বিস্ময়ের একটা স্থায়ী ছাপ পড়ে গেছে ঐ চোখে। গভীর টলটলে চোখ দেখলে পলকের জন্য বিভ্রম জাগে। মনে হয় অতল সমুদ্র। সেই চোখের দিকে ভালো করে তাকালে মনে হয় সেখানে সাঁতরানো যাবে নিরন্তর। আমি চোখ ফিরিয়ে নিই। এই মূহুর্তে সাঁতার খেলার কোন ইচ্ছে নেই আমার।
সেইদিনই প্রথম পাত্রী দেখতে যাওয়া। তার এক সপ্তাহ পর আমাদের বিয়ে হয়।
রাত ১টা ২০। টেবিলে বসে আছি। কবিতা লিখার চেষ্টা চলছে কিছুক্ষণ ধরে। আসছে না। অথচ একসময় বেশ কবিতা লিখা হতো। কতজনকে নিয়ে কতশত কবিতা লিখে ফেলেছিলাম! অথচ নিজের স্ত্রীকে নিয়ে একটা কবিতাও লিখতে পারিনি। প্রায় প্রতিটা নিশ্চুপ রাতের কিছু সময় চলে যায় একই চেষ্টায়। ফলাফল শূণ্য।
বাসে বা ট্রেনে করে কোথাও যাওয়ার সময় জানালার পাশের সিট আমার প্রথম পছন্দ। বিয়ের পর অবশ্য স্ত্রীর কাছে সেটা স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে। কিচ্ছু করার নেই। এটাই নিয়ম। কিশোর বয়সে যখন এরকম মূহুর্তের স্বপ্ন দেখতাম, তখন পাশের জনকে অন্যভাবে কল্পনা করা হত। খোলা চুল উদ্যম হাওয়ায় উড়ছে। বেঁধে রাখার পরেও গালের পাশের কয়েকটা চুল তার মুখের উপর পড়ছে। সে সেগুলো সরাতে ব্যস্ত। আমি ব্যস্ত মুগ্ধতায় ডুবে যেতে। বাস্তবতার দৃশ্যপটে খানিকটা বদল হয়েছে অবশ্য। আমি মুগ্ধ বটে। তবে কেবল তার চোখের মায়ায়। আমার তাকিয়ে থাকা দেখে সে তাকায় আমার দিকে। কিছু বলে না। তার চাহনিতেই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে তার ঢেকে থাকা মুখের মুচকি হাসি।
গন্তব্য আমাদের কক্সবাজার। সমুদ্র দেখার শখ আমার অনেকদিনের। সুবিশাল নীল জলরাশির সামনে প্রিয় মানুষটিকে পাশে নিয়ে কিছু উদাস মূহুর্ত কাটানোর বাসনা ছিল আগে থেকেই। হঠাৎ কয়দিনের ছুটি সুযোগ করে দিল সাগরের কাছে ছুটে যাওয়ার। এমন সুযোগ হেলায় কে হারায়?
অবশেষে সমুদ্র। যেখানে অসীম আকাশ মিশেছে বিস্তীর্ণ জলে। লাল সূর্যটা ডুবে যাওয়ার অপেক্ষায়। গোধূলীর রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। কথা বলতে বলতে ওর দিকে তাকিয়ে হঠাৎ থমকে গেলাম। মনে হচ্ছে নতুন করে আবিষ্কার করলাম ওকে। এতদিনের পরিচিতা নয় সে। মায়াময় অন্য কোন মোহনীয় সত্ত্বা। সে মানবী নয়, যেন সে এক রক্ত মাংসের কবিতা। কেন তাকে নিয়ে কেন কবিতা লিখতে পারি নি আচমকাই সেটা উপলব্ধি করলাম। পৃথিবীর কোন ভাষাতেই কি এমন কোন শব্দ আছে যা দিয়ে তাকে বর্ণনা করা সম্ভব!! সম্ভব না। বুঝলাম; শব্দের কবিতা নয় সে, সে আমার রক্ত মাংসের কবিতা। আর আমিও কোন কবিতার কবি নই, আমি কেবলই কবি... তার!!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


