মালালা ইউসুফজাই। বর্তমানে সাহসিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে আমরা পেয়েছি মালালা ইউসুফজাইকে। সে শুধু সাহসিকতাই নয়, নারীশিক্ষার উন্নতি ও নারীর অধিকারের জন্যও সংগ্রাম করেছে এবং করছে। মালালা সম্বন্ধে আমরা সবাই কম-বেশি জানি। সে একজন ব্লগার ও সমাজকর্মী। মালালা তার মনের কথাগুলো বিবিসি ব্লগে খুব স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে উপস্থাপন করেছে। সবচেয়ে বড় কথা সে কাজটি করেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
মালালাকে নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি। কিন্তু কেউ কী একবার ভেবে দেখেছি এরকম সাহসী হাজার হাজার মেয়ে যে আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশেও আছে? মালালার পাশে আমরা যেভাবে দাঁড়িয়েছি তাকে উৎসাহ দিতে, তাকে সমর্থন দিতে, সেভাবে কী এই মেয়েগুলোর পাশেও দাঁড়াতে পারি না?
মানুষ বেঁচে থাকে স্বপ্ন, আশা আর ভালবাসা নিয়ে। যখন জীবনযুদ্ধে হেরে যেতে বসে, তখন সে খড়কুটোর মত আঁকড়ে ধরে এই স্বপ্ন, আশা আর ভালবাসা। এগুলো নিয়ে সে বাঁচতে চেষ্টা করে। এদেশের এবং শুধু এদেশের নয়, সারা বিশ্বের যে মানুষগুলো স্বপ্ন দেখে সমাজ, দেশ আর পৃথিবী পালটে দেয়ার, তারাও কিন্তু এর ব্যতিক্রম নয়। তারা তাদের সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে। স্বপ্নপূরনের আশা নিয়ে বেঁচে থাকে। আর সবাই ভালবেসে পাশে এসে দাঁড়াবে- এই চিন্তা নিয়ে বেঁচে থাকে। তেমনই একজন মালালা। সে অনেক বেশি সাহসী বলেই সে তালেবানদের ভয়ে নিজেকে কুঁকড়ে না রেখে এগিয়ে গেছে তাঁর স্বপ্নপূরণে। মালালার মত স্বপ্ন কিন্তু বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বেড়ে ওঠা অনেক মেয়েই দেখে। তারা বদলে দিতে চায় সমাজটা, দেশটা।তারা নিজের কথা ভাবে না, ভাবে কাছের মানুষদের কথা, পরিবার-পরিজন বন্ধুদের কথা। তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নারী-পুরুষের সমান অধিকার, দূর করতে চায় বৈষম্য। কিন্তু সমাজের ভয়ে তারা কিছু বলতে পারে না। হয়তো একটা সময়ে আস্তে আস্তে ধুলো জমে যায় মনের গহীনে লুকিয়ে রাখা স্বপ্নগুলোতে, আস্তে আস্তে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। আমিও সেই মেয়েগুলোর মধ্যে একজন। আমিও এমন স্বপ্ন দেখি, কিন্তু তার বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে যেতে পারি না। কারণ আমি বড্ড ভীতু। তাই আমার মনে হয়, আমাদের এই ভয়কে জয় করার জন্য সবার উচিত আমাদেরকে উৎসাহ দেওয়া, আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানো। আমরা জানি, আমরা কেউ মালালা হতে পারব না। আর আমি সেটা হতে চাইও না। কারণ আমি যত যাই করি না কেন, মানুষ আমাকে মালালা বলবে না, বলবে মীম। মালালা মীম হতে পারে না আর মীমও মালালা হতে পারে না। তাই আমি কাউকে মালালা হতে বলি না। আমি বলি নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে। তবে জীবনে কারো না কারো কাছ থেকে তো অন্তত সাহস নেওয়া যায়, উৎসাহ নেওয়া যায়। তাই আমার মতামত, মালালার কাছ থেকে প্রেরণা নিয়ে স্বপ্নপূরণে এদশের মেয়েরা যেন এগিয়ে যায়। আমি যেমন মালালার কাছ থেকে প্রেরণা নিচ্ছি নিজেকে জীবনযুদ্ধের উপযুক্ত যোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত করতে। আর সবার কাছে অনুরোধ, আমাদের পাশে থেকে আমাদের সমর্থন দেবেন প্লিজ, ঠিক যেভাবে দিয়েছেন মালালাকে। বলা তো যায় না, দেখবেন আমরাই হয়তো একদিন পালটে দেব বাংলাদেশকে, নিয়ে যাব নতুন এক উচ্চতায়। শুধু একটাই কথা, আমি তো খুব ভীতু, পাশে থেকে একটু উৎসাহ দিয়ে শুধু বলবেন, ভয় কী? আমরা তো আছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




