somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু স্মৃ্তি.......বিস্মৃত হওয়ার আগে

০৩ রা নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি এমন কেউ নই যার জীবনের ছোট ছোট ঘটনা গুলো অনেক মানুষ জানবে বা মনে রাখবে। আবার এটাও ঠিক সময়ের সাথে আমি নিজেও হয়তো অনেক কিছু ভুলে যাব। আমি যখন হারিয়ে যাবো সেগুলোও হারিয়ে যাবে। কাজেই স্মৃতিগুলোকে ধরে রাখার দায়িত্ব শুধুই আমার। এ কারণেই এ লেখার শুরু।একজন ও যদি পড়ে সেটাই অনেক। অচেনা-অজানা কেউতো একজন আমার সময় গুলো জানবে। দেখা যাক কতটুকু পারি।

আমরা বইবেলাঃ স্কুল জীবনে বইয়ের পোকা ছিলাম আমরা কয়েকজন। গোগ্রাসে গিলতাম তিন গোয়েন্দা, সেবার কিশোর ক্ল্যাসিক, কিশোর তারোকালোক, কুয়াশা, সায়েন্স ফিকশন।আর চলতো বইয়ের আদান প্রদান। যে স্যার বা ম্যাডামের ক্লাস বিরক্ত লাগতো , তার ক্লাসে পাঠ্য বইয়ের ফাঁকে থাকতো গল্পের বই। ভালোই চল ছিল এভাবে। কিন্তু একদিন নাজমা আপা ক্লাসে এসেই ক্যাপ্টেনকে হুকুম দিলেন গল্পের বই অভিযান চালাতে। সেদিন আমার ব্যাগে এবং ডেস্কে না হলেও ৩/৪ টা বই।ভয়ে তো হাল খারাপ। ধরা পরলে শ্যাস। সৌভাগ্যক্রমে বসে ছিলাম ক্লাসের মাঝামাঝি। আমার কাছে আসতে আসতে মাথায় বুদ্ধি এলো বইগুলো চেয়ারে রেখে তার উপর বসে পড়লে কেমন হয়। কাউকে তো আর সিট থেকে উঠিয়ে চেক করছে না।যে ভাবা সে কাজ। এবং সেদিন সত্যি আমি ছাড়া ক্লাসের বাকী সবার বই জব্দ হয়েছিল।

আমার স্কুল জীবনে আমার টিচার ছিল আমার বাপি।বইয়ের ভেতর বই রেখে পড়া বাসাতেও চলত।তাতেও যেন হচ্ছিল না। আমার তখন মাথায় বুদ্ধি এল বাথরুমে তো বসেই থাকি ঐ সময়টুকু কাজে লাগালেই তো পারি।আর কী এর পর থেকে শুরু আমার বাথ্মরুমে বই পড়া।মাঝে মাঝেই মামনির হাতের নরম-গরম চড় খাবার পরও আমি আমার পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। বিরক্ত হয়ে আম্মাজান বাপিকে বলে দিল এবং একদিন তার হাতে ধরা পড়লাম। থাক সেই কথা আর মনে করতে চাই না :P
আমার সুখের আকাশে কালো মেঘ কয়দিন আর ভালো লাগে। এর মধ্যে বাসায় এল মেজমামা আর মামীমা।ভাবলাম এই সুযোগ। তারা বাসায় থাকলে তো আর বাপি-মামনি কিছু বলবে না। আবার শুরু করলাম বাথরুম অভিযান। কপালে সুখ সইল না। ভুল করে কিশোরতারকালোক তাকের উপর রেখে চলে এলাম।আর কী....বাপি র হাতেই পড়ল। /:)
আমাকে বাঁচাতে মামা-মামী ছুটে এলেন এবং কাহিনি শুনে থ। মামী কিশোরতারকালোক দেখে হাসতে হাসতে বলল, "আমি তো ভাবছিলাম অন্যরকম কোন বই;) আর বাথরুমে যেয়ে বই পড়ার কী হলো!!!!!"
আমার মহৎ চিন্তাটার কেউ কোন দামই দিলো না।
এই ঘটনা পড়ে কেউ এটা মনে কইরেন না যে আমার আব্বাজান বা আম্মাজান বই পড়ার বিপক্ষে। তারাই কিনে দিত। প্রতিবছর বার্ষিক পরীক্ষার পর একটা বাজেট দেওয়া হত বই কেনার জন্য।

তিন গোয়েন্দা পড়ার আমাদের একটা আলদা গ্রুপ ছিল। আমরা নিজেরা নিজেদের তিন গোয়েন্দার চরিত্রগুলোর নাম ধরে ডাকতাম।আমি ছিলাম মুসা আমান, লিমা-কিশোর পাশা, স্নিগ্ধা-রবিন মিলফোর্ড, তৃণা-জিনা, জেসমিন-ফগ র‍্যাম্পার আর চুমকি-রাফিয়ানা(জিনার কুকুর)।চুমকি ভয়াবহ খেপত যখন ওকে রাফি বলা হত।

(চলবে)
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×