somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এইবার আমি ক্লান্ত, নিজের জন্যই ক্লান্ত।

৩১ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে যে ক'টা মোড় নেয়,তার মাঝে বন্ধুদের সাথে physical distance হওয়াটা একটা।
প্রাইমারি স্কুলের সহপাঠিদের আমার মনে পড়েনা, একাই বসতাম পেছনে। সবাই খেলতে যেতো, আমি বসে থাকতাম, মাঝে মাঝে একটা মেয়ে বসে বসে বাইরের বাকিদের খেলা দেখতো, আমি পেছনে বসে দেখতাম তাকে। তার বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকা,আমার সাথে কেউ কথা বলতোনা, তাই নাহয় আমি বাইরে খেলতে যাইনা,কার সাথেইবা খেলবো! ওর তো বান্ধবী আছে,যাদের সাথে বসে,পাশে জায়গা রাখে,তবে কেন খেলেনা?

একটা সময় ওর সাথে পরিচয় হলো,কথা হলো,পাশাপাশি বসতাম, একসময় আরো একটা ছেলের সাথে কথা হলো- এই দুইজন বন্ধু আমার। বাসায় নিজের ভাইবোন ছাড়া কারোর সাথে খেলার অনুমতি ছিলোনা,গেটের বাইরেই যেতে পারতামনা! পাড়ার নিজের বয়েসীদের তো চেনার কোন উপায় নেই।

হাইস্কুলে এসে সেই যেই সেই! এক কাজিনের সাথে যেতাম,সে স্যার বের হওয়ার সাথে সাথে বের হতো খেলতে,আমি ক্লাসে বসে থাকতাম। মাঝে মাঝে বাইরে গিয়ে দেখতাম। আমার পুরোন বান্ধবী আরেকটা সেকশানে,আর বন্ধু গেলো ছেলেদের স্কুলে।

একটা দিনের আমার একঘরে স্বভাবের মাঝে এসে একটা মেয়ে জানতে চাইলো,তুমি এখানে একা কেন? আমি স্বভাবমতো উত্তর দেইনি,আবার জানতে চাইলো, তুমি কি সেই? আমি বললাম, হুম। তারপর আবার পাশফিরে অন্যদিকে দেখতে লাগলাম। চলে গেলে আমার শান্তি লাগলো!

আরেকদিন আবার এলো কথা বলতে! প্রায়ই অসুস্থ থাকতাম,ও তো জানতোনা,তাই একবার অসু্স্থ হয়ে বেশ ক'দিন স্কুলে যাওয়া হলোনা, ও আমার বাসার খোঁজে ঘুরে ফিরে এলো! চিঠি দিলো আমার সেই কাজিনের কাছে।
স্কুলে ফিরলে সে তার এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম না,বুঝতেই চাইলাম না সে চিন্তা করেছে! একসময় চিঠি আদান প্রদান, বন্ধুতা!

আরো ক'জন হলো, তার সাথেই আমার সখ্যতা বেশি হলো। আর সেই সখ্যতায় একটা বাধা এলো - কলেজে ভর্তি হওয়ার সময়। দুইজনের দুই শহর,দুই কলেজ। আর সেই বন্ধুতা হলোনা কারোর সাথে। কিভাবে যে কলেজ শেষ হলো,জানিনা। ভর্তি হলাম ভার্সিটি তে।

একলা একলা লাগে,ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ক্লাস শেষে টং এ আড্ডা দেয়,চা খায়, আমার বাইরে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস নেই, সবার সামনে চা খেতে লজ্জা লাগে। রুমে আসি, রুমমেট দের সাথেও সেরকম সখ্যতা হয়নি তখনও।

একটা একলা লাইফ ছিলো এক বছরের মতোন,তারপর দুইজন ছেলে, একটা মেয়ে- কেমন করে জানি ওদের সাথে মিলে গেলাম, বন্ধুতা। আমার মনে হলোনা আর আমি একলা! ওদের সাথে আমার বিশাল একটা সময় পার করে আসলাম,ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো,আমার বন্ধুরা চলে যাবে তাদের দেশে, একজন বাকি রইলো,হয়তো এরকম করেই সেও তার লাইফটা গুছিয়ে নিবে,আমার বন্ধুতার এখানেও একটা মোড়- আর একসাথে চা খাওয়া হবেনা, ওরা আমার লজ্জা নিয়ে হাসাহাসি করবেনা, সেটাকে পাত্তা না দিয়ে আর আরো কতগুলো জিনিস আমার উপর চাপিয়ে দিবেনা, আমাদের মাঝে আর মান অভিমান হবেনা, আমি প্রবলেম এ পরলে একজন বলবেনা আমি দেখছি,অথবা কাল দেখিয়ে দিবো।

কেন এরকম হয়?কেন? বন্ধুরা চলে যায়, না,আমিও তো যাই। কেন এই দূরত্ব হয়?কেন?
সময়টা কেন থেমে থাকেনা? আরো কতোবার একলা একটা সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে? আজকাল বড়ো ক্লান্ত মনে হয়, কিন্তু এখন মাত্র শুরু, কোন দিকে যাবো তাও জানিনা। কে জানে! স্বপ্ন গুলোও আজকাল ধূসর হয়ে এসেছে।একদিনেই মনে হচ্ছে বৃদ্ধা হয়ে গেলাম!




২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×