থার্ড ইয়ারের শুরু থেকেই ভাবছিলাম ভিখারি জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া দরকার । দরকার পৃথিবীর উচ্চ থেকে উচ্চতম বিলাসিতার উপকরণ । সেই ভাবনা থেকেই বিলিওনিয়ার হউয়ার উপায় নিয়ে ভাবা শুরু করলাম । বিলিওনিয়ারদের ইতিহাস ঘেঁটে বিলিওনিয়ার হউয়ার জন্য নিচের অনুসিধানতগুলোতে উপনীত হলাম ।
১। একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের ভালো/খারাপ যেকোনো ধরনের জ্ঞান থাকতে হবে । হতে পারে বাস্তব জীবনের জ্ঞান অথবা বই পত্রের জ্ঞান হলেও চলবে । তবে অবশ্যই যে বিসয়ে কাজ করে বিলিওনিয়ার হতে চাই সে বিষয়ে অনেক পরিমান জানা থাকতে হবে তা সে গরু জবাই করার জ্ঞানই হোক আর মানুষ জবাই করার জ্ঞানই হোক।
২। অবৈধ পন্থায় বিলিওনিয়ার হউয়া বৈধ পন্থায় বিলিওনিয়ার হউয়ার চেয়ে অনেক কঠিন। তবে অবৈধ পন্থায়ও বিলিওনিয়ার হউয়া যায় । আমেরিকা ইউরোপের বেশিরভাগ তেল কোম্পানি অবৈধ পন্থায় বিলিওনিয়ার হয়েছে আর এজন্য তাদেরকে বিলিওন বিলিওন মানুষও মারতে হয়েছে । (exxon,Chevron from USA , BP from UK , Total from France, & Royal Dutch Shell )
৩। আগডুম বাগডুম স্বপ্ন দেখে বিলিওনিয়ার হউয়ার যায় না । এরকম কখনও হবে না যে কোটিপতির মেয়ের গাড়ির নিচে পড়ে যেয়ে / কোটিপতির মেয়েকে গুণ্ডার হাত থেকে রক্ষা করে / কোটিপতি বাবসায়ির জীবন রক্ষা করে কোটিপতি হয়ে যাব যেমনটি আগের কালের বাংলা ছবিতে হত (এখনও হয় কিনা জানি না)। যেটা ঘটতে পারে সেটা হল কোটিপতির মেয়ের গাড়ির নিচে পড়লে সে দামী গাড়ি রক্ষা করার জন্য আমাকে রাস্তায় ফেলেই গাড়ি নিয়ে ভাগবে । কোটিপতির মেয়েকে গুণ্ডার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তার বয়ফ্রেন্ড তো অবশ্যয় থাকবে উল্টা বয়ফ্রেন্ডের হাতে মার খাওয়ার সমূহ সম্ভবনা আছে । আর যদি কোটিপতি বাবসায়ির জীবন রক্ষা করেও ফেলি তাহলেও দেহরক্ষীর চাকরীর চেয়ে বেশি কিছু জুটবে না।
৪। অবৈধ পন্থায় গায়ে হাত বুলিয়ে নরম কথায় বিলিওনিয়ার হউয়া যাবে না। অবৈধ পন্থায় অবশ্যয় গায়ের জোর খাটিয়ে জবর দখল করে বিলিওনিয়ার হতে হবে । মানে বিলিওনিয়ার মেয়ে বিয়ে করে বিলিওনিয়ার হউয়া যাবে না কিন্তু বিলিওনিয়ার মেয়ে বিয়ে করে তাকে খুন করে তার সম্পত্তি দখল করে বিলিওনিয়ার হউয়া যাবে।
৫। সঠিক সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারলে বিলিওনিয়ার হউয়ার যাবে না । সবার জীবনেই বিলিওনিয়ার হউয়ার সুযোগ আসে কিন্তু হয় কেউ সুযোগটা বুজতেই পারে না, না হয় বুঝেও কাজে লাগায় না।
৬। আশেপাশের নানান সমস্যাকে বাধা হিসেবে ধরলে এগিয়ে যাওয়া যাবে না , সমস্যা থাকবেই , আর বিলিওনিয়ারের বৈশিষ্ট্যয় হল বাধা পেরিয়ে বিলিওনিয়ার হউয়া । মনে রাখতে হবে বিলিওনিয়ার হউয়ার যদি এত সহজই হত তাইলেত সবাই বিলিওনিয়ার হত।
৭। আশেপাশের লোকজনের কথা ও মতামতকে যে গুরুত্ব দেবে সে জিবনেও বিলিওনিয়ার হতে পারবে না । তাকে যদি ১ বিলিওন টাকা দেওয়াউ হয় তবু তার পক্ষে লোকজনের কথা শুনে ১ বিলিওন টাকা ১ দিনে খরচ করে রাস্তার ভিখারি হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা ১০০%।শুধুমাত্র সেই বিলিওনিয়ার হতে পারবে যে অন্য কোনকিছু দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে শুধু মাত্র লজিক ব্যবহার করে সিধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাবে।
৮। পরিশ্রম করতেই হবে বিলিওনিয়ার হউয়ার জন্য , সেটা বৈধ / অবৈধ যে কোন পথে হতে পারে । আরাম করে বিলিওনিয়ার হউয়ার ইতিহাস নেই।
৯। মরার আগের দিন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে লেগে থাকার সাহস না থাকলে বিলিওনিয়ার হউয়ার স্বপ্ন দেখে লাভ হবে না।বিলিওনিয়ার হউয়ার সঠিক সুযোগটি মরার আগের দিনও আসতে পারে। ওই হতভাগা বেকুবের কথা ভুলে গেলে চলবে না যে অ্যাপল এর দুর্দিনে মাত্র $৮০০ এর বিনিময়ে অ্যাপল এর ৫০% শেয়ার বেচে অ্যাপল থেকে বিদায় নিয়েছিল যে কিনা এখনও এই পৃথিবীতে বেচে আছে।
১০। উড়া ধুরা ইস্টাইলে কাজ করা যাবে না । পরিকল্পিত উপায়ে এগিয়ে যেতে হবে । বর্তমান বিশ্বে বাবসা বাণিজ্য খুবই পরিকল্পিত । রিস্ক এবং মুনাফা সংশ্লিষ্ট নিয়ামকগুলো ঠিকমত ব্যবহার করতে পারলেই কাজ হবে।
১১। সবশেষে ভাগ্যও বড় একটা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান এক্ষেত্রে ।
১২। বিলিওনিয়ার হউয়ার সম্ভব এই আত্মবিশ্বাস না থাকলে বিলিওনিয়ার হউয়ার সম্ভব না।
১৩। বিয়ের সাথে বিলিওনিয়ার হউয়ার নেগেটিভ কোরিলেশন আছে ।আমেরিকা ইউরোপের বেশীর ভাগ বিলিওনিয়ার বিয়ের আগেই বিলিওনিয়ার হয়েছে তবে মধ্যপ্রাচ্ছের অনেকেরই বিয়ের পরে বিলিওনিয়ার হউয়ার ইতিহাস আছে। তবে সামগ্রিকভাবে গার্লফ্রেন্ডের সাথে পজিটিভ কোরিলেশন আছে। কম বেশি সকল বিলিয়নিয়ারেরই গার্লফ্রেন্ডের ছিল বিলিওনিয়ার হউয়ার আগে। তবে কাওকে পাপ কাজে উন্সাহিত করা আমার উদ্দেশ্য নয় ।
১৪। বিলিওনিয়ারদের সাথে ফেসবুকেরও গভীর সম্পর্ক আছে তা হল ডজন ডজন ছবি আপলোড করা এবং প্রতিবার ভাত খাওয়ার পর প্রোফাইল পিকচার চেঞ্জ করা বাক্তিবর্গ কোনদিনই বিলিওনিয়ার হতে পারবে না। বরং সম্প্রতিকালের গবেষণায় দেখা গেছে যে এগুলো মানসিক সমস্যার লক্ষণ। তাছাড়া ইতিহাসে এমন ১টা রেকর্ডও নেই । এখন বাঙ্গালীরা যদি করতে পারে।
১। লাস্টে হুমায়ুন আহমেদের একটা অবিস্মরণীয় বাণী দিব “সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্য পাশাপাশী দুই বোন সৌভাগ্য নামের বোনটার চেহারা খুবই সুন্দর উচ্চতাও অনেক অন্যদিকে দুর্ভাগ্য নামের বোনটার মুখে কালো মেছতার দাগ , সবাই চলার পথে সৌভাগ্য নামের বোনটির হাত ধরতে চায় কিন্তু এটা জানেনা যে সৌভাগ্য নামের বোনটির হাত ধরার আগে দুর্ভাগ্য নামের বোনটির হাত ধরতে হয় । “
সবগুলো সিধান্তই মুটামুটি পরিক্ষিত তারপরও যেকোনো ধরনের আলোচনা সমালোচনা মোস্ট ওয়েলকাম । বিলিওনিয়ার হউয়ার সবচেয়ে লজিকাল পাথ খুজে বের করাই এই পোষ্টের একমাত্র লক্ষ্য ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






