সম্প্রীতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বি,জি,বি এবং ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বি,এস,এফ এর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে যে ১৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবী জানানো হয়েছে তাদের মাঝে অন্যতম ঢাকা মহানগর পুলিশের সবচেয়ে বড় ক্রাইম জোন হিসেবে পরিচিত পল্লবী থানার তালিকাভুক্ত ১ নং শীর্ষ সন্ত্রাসী ডি,এম,পি , ডিবি এবং র্যাব এর মোষ্ট ওয়ান্টেড আসামী মফিজুর রহমান মামুন এর পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পল্লবীর অলিগলি এমনকি মূল সড়কের ডিভাইডারগুলোও।
মামুনকে ক্ষমতায় এলে দেশে ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যিনি কিছুদিন আগেও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আওয়ামীলীগ নেতাদের সন্ত্রাসী মদদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। আওয়ামী সরকার কৃতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ এর মুক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার বি,এন,পির এই শীর্ষ নেতা এখন এই আসনের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মদদ দিচ্ছেন পল্লবীর এক সময়কার ত্রাস যার চাদাবাজিতে অতিষ্ট ছিল এলাকাবাসি সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন কে। আর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে লাগানো রঙ্গিন এসব পোষ্টারে আতংকিত ঢাকা ১৬ আসনের বিএনপির ত্যাগীনেতৃবৃন্দ। তাদের মতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের এসব পোষ্টার ও ফেস্টুনের কারনে কমে যাচ্ছে বিএনপির সাধারন ভোট ব্যাংক কারণ সাধারন মানুষের ধারনা বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবারও অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং মাদকের রমরমা ব্যাবসায় হয়রানির মুখে পরবে তারা।
মূলত মামুন যুবদলের নেতা হিসাবে পরিচয় দিলেও পল্লবী তথা বৃহত্তর মিরপুর যুবদলে কোন পদ নেই তার। সম্প্রতি পল্লবী ২২ নাম্বার রোডের শাহআলম নামের এক বাড়ির মালিক পল্লবী থানায় নিরাপত্তা ডায়েরি করে। ডাযেরি সূত্রে ধরে জানা যায়, ঢাকা ১৬ আসনের মনোনয়ন প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার ইফতার মাহফিলের নামে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন ইন্ডিয়া থেকে তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাদা দাবি করে।
তবে তিনি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে রক্ষা পান। তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানা ছাএদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী পরিদর্শক আনিছ এর জোড়া হত্যাসহ ৭ টি খুনের মামলা ১৫ টি চাদাবাজির মামলা , ৪ টি অস্ত্র ৩টি মাদক মামলাসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আরও অনেক মামলা রয়েছে । বি,এন,পি জোট সরকারের আমলে ধ ব্লক ও সাংবাদিক কলোনী খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ ফেন্সিডিল আড়ত পরিচালনাকারী মামুন ২০০২ সালে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টায় পল্লবী থানায় হামলা চালালে প্রায় ২ ঘণ্টা বন্দুক যুদ্ধের পর অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন। সে সময় উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে মামুনের এক সহযোগী সহ দুইজন নিহত হন।
ব্যরিষ্টার রফিকের সহায়তায় একদিনে সাতটি মামলার জামিন নিয়ে ২০০৫ সালের জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতে পালিয়ে যায় এই শীর্ষ সন্ত্রসী যার ফলে তখন জোট সরকারকে পরতে হয় মিডিয়ার কঠোর সমালোচনার মুখে। ভারতে পালিয়ে যাবার পর সেখানেও অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন এবং তার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার এর এক মন্ত্রী পদ্যত্যাগ করেন। মাঝখানে জামিনে মুক্তি পেলেও বর্তমানে অবৈধ পাসপোর্ট রাখার মামলায় কারাভোগ করছেন তিনি। আর কারাগারে বসেই মোবাইল ফোনে চালাচ্ছেন চাদাবাজী ঘটাচ্ছে হত্যাকান্ড। সর্বশেষ গতবছর ২৬ নভেম্বর তার বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে খুন হন গার্মেন্টস কাপড় ব্যাবসায়ী রমজান। আর এই মামলায় তাকে প্রধান আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করে চলতি বছরের ১২ জুন পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। অভিযোগ পত্র নং ২৪৯ -১২-০৬-২০১৩। ভারতের কারাগার হতে ব্যবহার করা ৯১৯৮৭৪৭৩৫৫৭৭ এবং ৯১৯৬৭৯৭৩৩৮১ এই দুই নাম্বারের ফোনে পল্লবীর ব্যবসায়ীরা এখন অতিষ্ট। তার আপন বড় ভাই জামিল ৫টি হত্যা সহ ১৭টি মামলার আসামী এবং পল্লবী থানার তালিকাভুক্ত ২ নং শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ছোট ভাই মশিউর রহমান গাজীপুরের সাবেক জনপ্রিয় সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ হত্যা মামলার ফাসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামী।
ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া মুলত গত রোজায় মামুনের সহযোগী একাধিক হত্যা মামলার আসামী এবং পল্লবী থানার তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী দিদার, কিবরিয়া, মাইচ্ছা দুলাল, শাওনদের সাথে নিয়ে হোন্ডা শোভাযাত্রা সহ বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহনের মাধ্যমে পল্লবীর বি,এন,পির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান কে সুসংগত করতেই মামুন কে আবার লাইমলাইটে নিয়ে আসেন।
নিচে মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা কিছু মামলার তালিকা।।
পল্লবী থানার মামলা নং- ৩১(১০)০০, ২৫(৭)৯৬, ৩(৪)৯৬, ৬(৪)৯৬, ৫৪(৯)৯৯, ১৭(৪)০১, ২৬(২)৯৮, ৪৮(১১)০১, ৪৯(১১)০১, ৫১(১১)০১, ২৩(৭)০১, ১২৫(৮)০৭, ১০(১০)০৯, ৫৮(১)০৮, ২৮(১)০৬, ৮০(৩)০৭, ৩৬(৯)০১, ১৮(৮)০৭, ৩৬(১)০০, ৩৩(১২)০১, ৩৩(৩)০৫, ৩০(৫)৯৭, ১৪(৯)৯৭, ৫৬(৬)০৭, ১(১)৯৬, ৪(২)৯৮, এবং মোঃপুর থানার মামলা ৫(১১)০৫।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





