একটা বিষয় আমি বুঝতামনা চক্রবর্তীসম্রাট আর রাজার মধ্যে পার্থক্য কি ! মহাভারত পড়ে জানতে পারলাম রাজা হলেন কোন রাজ্যের অধিপতি আর সম্রাট হলেন সেই ব্যক্তি যার রাজ্যের আশেপাশের রাজ্যের সকল রাজা ও রাজ্য তার অধিনস্ত । চক্রবর্তী সম্রাট তাকেই বলে যার বলয়ের মধ্যে সকল রাজা ও রাজ্য অধীনতা স্বীকার করে । এটা রাজনৈতিক বিষয় । বর্তমানে আমরা সুপার পাওয়ার বলতে একটা চক্রবর্তী সম্রাটের সাথেই তুলনা করতে পারি । যেমনটি যুক্তরাস্ট্র ব্রিটেন ফ্রান্স চীন । ....... ভারতের বহুদিনের খায়েশ তারা চক্রবর্তী সম্রাট হবে । একসময় ছিল , যখন রাজা অশোক বা মুঘল সম্রাজ্য অথবা হস্তিনাপুরের শাসন ছিল । এখন অধুনিক গণতন্ত্রে এসে ভারতে সেই সুপারপাওয়ারের দাবিদার । তাদের অর্থনীতি , তাদের শিক্ষা , তাদের অস্ত্রশক্তি সবই হয়েছে । কিন্তু সবচেয়ে বড় যে বিষয় তা হল আঞ্চলীক প্রভাব গড়ে তুলতে পারেনি । তবে ভারতের কুটনৈতিক তৎপরতা কিন্তু অনেক বড় । তাদের কুটনৈতিক তৎপরতার অনেক বড় উদাহরণ পাওয়া যাবে । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় তাদের কুটনৈতিক তৎপরতার বড় বিজয় । ভারতীয় 'র' এর কাছে সেই সময় পাকিস্তানী আইএরআই ও যুক্তরাস্ট্রের এনএসআই হার মানে । হার মানে মার্কিন নীতি । এছাড়া বহুক্ষেত্রে ভারতের কুটনৈতিক তৎপরতার বিষয় আছে । তবে আঞ্চলিক বলয় গড়ে তুলতে পারেনি ভারত । তা যে টুকু পারতে তা ভবিষ্যতে পারবে বলে মনে হয় না যদি সরকার পরিবর্তন হয় । যুক্তরাস্ট্রের পররাস্ট্রমন্ত্রী ভারতে এসে বলেছিলেন , যদি ভারত চায় তারা নিরাপত্তা পরিষদে স্থান নেবে তবে ভারতের উচিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ছোট ছোট দেশ গুলোকে সাথে নিয়ে একটি আঞ্চলিক বলয় গঠন করা । .. কংগ্রেজ সেই কাজটি সবসময় পারে বলে প্রমাণ রেখেছে । তারা বাংলাদেশ নেপাল ভুটান শ্রীলংকা আফগানিস্তান মালদীপের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়েতোলে । অফগানিস্তানের ৭০ ভাগ মানুষ ভারত ভক্ত আর ৯০ ভাগ মানুষ পাকিস্তান বিরোধী । ভারত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের অধিকার নিয়ে যঠেষ্ট তৎপর । বাংলাদেশের সাথে একটি বড় ধরনের বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে । এর ধারাবাহিকতা থাকলে দক্ষিণ এশিয়া সন্ত্রাস মুক্ত হবে । ভাতরের একটি আঞ্চলিক প্রভাব মজবুদ হবে । কংগ্রেজ সরকার এটি সক্ষম হয়েছে কারণ তারা সেকুলারিজম বা ধর্মের স্বাধীনতা প্রদানে সচেষ্ট ছিল । কোন উগ্রবাদির সাথে কখনই কোনভাবে এমন জোট গঠন কোন দেশ করবেনা তার প্রমাণ আমরা বহুকাল থেকে পেয়েছি । বাংলাদেশের বিএনপি জামায়াত জোটের উগ্রতার ফলে আমরা ভাল বন্ধুত্ব পাইনি । বিজেপি সময়ে আমরা কোন বন্ধুত্ব ভারতের কাছে পাইনি । ...এখন ভারতে মনে করা হচ্ছে হয়ত মোদি সরকার আসলে ভারতের উন্নয়নে গুজরাত একটা মডেল হবে । .. আসলে গুজরাত যদি উন্নতিও হয় তা সমগ্র ভারতে হবেনা । প্রদেশ শাসক দিয়ে দিল্লীর শাসন হবেনা । মমতা পশ্চিম বঙ্গের উন্নয়ণ করতে পারে কিন্তু পানিচোর বলে বাংলাদেশকে গালিদিয়ে কি উনি চক্রবর্তী সম্রাট হতে পারবেন ? মোদি বাংলাদেশকে গরুচোর বলে গালি দিলে কি চক্রবর্তী সম্রাট হতে পারবেন ?? সম্ভব না !! মোদি ক্ষমতায় আসলে ভারত আঞ্চলিক দিকথেকে একঘরে হয় পরবে । যদি বাংলাদেশের পক্ষথেকে ভারত হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়া হয় তবে ২০১৮ সালে ত নিরাপত্তাপরিষদে ভোট পাবে জাপান !! উলফাকে যদি বাংলাদেশ থেকে দমন করতে গরিমশি করা হয় তবে আসাম কি ভারতের প্রদেশ হিসেবে থাকবে নাকি আরেকটা কাস্মীর হয়ে বিদ্রোহ দেখা দিবে ? তাতে কি ভারতের শক্তি বাড়বে ? না .... ভারতীয় জনগণ মোদিকে উন্নয়ণের মডেল ভাবলেও তিনি একটি প্রদেশ শাসক , তার দ্বারা কোনভাবেই ভাল দিল্লী শাসক হওয়া সম্ভব নয় । তার প্রমাণ আমরা পাই, বিজেপির বহু বড় বড় নেতার কথা না মেনেই নিজের সিদ্ধান্তেই চলছেন । .. বাংলাদেশে বা অন্যদেশকে বিজাতি বা শত্রু গরুচোর পানিচোর মনে করে বর্ডার বন্ধ রাখবেন । এতে কি তার দেশ একঘরে হবেনা ?? অনেক আশংকা দেখি । যদিও যা পারবে হাসিনা তা অন্য কোন বাংলাদেশের নেতারা পারবেনা , তবু হাসিনার সাথে সম্পর্ক ভাল যাবেনা বিজেপির । বিজেপি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশে মৌলবাদিরা প্রায় প্রায় সময়ে হিন্দুদের উপর হামলা করবে যাতে ভারতের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের বিরোধ তৈরি হয় । এত তারা বর্ডার বন্ধ করবে , সুতা কাপড় প্রভৃতি বন্ধ করবে । গরু মসলা বন্ধ করবে । তাতে বাংলাদেশের জিনিসের দাম বাড়বে , পানি ত পাবই না । ফলে ভারতের সাথে সম্পর্ক ভাল যাবেনা । এতে ভারতেরও চক্রবর্তী সম্রাট হয়ে উঠা কঠিন হবে । কংগ্রেজ সরকার যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তবে যেভাবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি স্থিতিশিলতা বহাল আছে ঠিক তা এভাবেই এগিয়ে যাবে । ফলে ভারতের জন্যও মঙ্গল হবে , বাংলাদেশের জন্যও মঙ্গল হবে । ভারতীয় অনেক বন্ধু আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে আছে , আমাদের স্বার্থে নয় , লিখলাম ভারতের জনগণের স্বার্থে । তারা ভাবুন কি করে ভারত এগিয়ে যাবে মোদিকে দিয়ে যদি মোদি আঞ্চলিক বলয় গঠনে ব্যর্থ নোন ?? ভারতের যে লক্ষ্য তা ত এমনি এমনি পূর্ণ হবেনা । তাই আপনার উগ্রবাদিদের ভোট না দিয়ে কংগ্রেজের পাঞ্জা মার্কায় ভোট দিয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়েযান , আঞ্চলিক শান্তি ও অসাম্প্রদায়ীকতা বজায় রাখুন ।
আলোচিত ব্লগ
Sajna

Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন
চা এর আড্ডা।

শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি
কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।
২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।