somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রিয় শিক্ষক

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নব্বইয়ের দশক যখন বিদায়ের অপেক্ষায়, আমার কৈশোরের শুরুটাও
ছিল ঠিক সে সময়। ক্লাস ফোরে ওঠার আনন্দে যখন একটা পরিবর্তন তখন প্রকৃতির ছন্দেও আসে ভিন্নতা, কোকিল গায় বসন্তের জয়োগান।

এমনি এক দিনে নানা বায়নার পর মা আমাকে বানিয়ে দিলেন লাল রঙের চমৎকার একটি ঘুড়ি। তারপর সেই ঘুড়ি-আনন্দ নির্জন মাঠের রংবেরঙের প্রজাপতি গুলোকেও যেন হার মানাতে থাকে একের পর এক। কিন্তু হঠাৎ কিভাবে যেন আকাশের অসীমতায় সাড়া দিয়ে উধাও হল ঘুড়িটি। রিক্ত মনে শুন্য নাটাই নিয়ে যখন বাসায় ফিরছি, তখনি যেন সান্তনার দূত হয়ে অবতীর্ণ হলেন আমার প্রিয় শিক্ষক
মতিউর রহমান। সব কিছু শুনে সেও হলেন শোকাহত, বললেন আমি যদি সেই ঘুড়িটি আঁকতে পারি তবেই আমায় এনে দিবে “চিলাহরিন” নামের একটি ঘুর্কি ।

শিশুসুলভ এ ধরণের নানা প্রবৃত্তির রশদ যোগাতেন আমার বন্ধু প্রতিম শিক্ষক নামের সেই দেবতা। তাকেই একদিন বলতে শুনেছি “বাবা-মা স্বর্গ থেকে আত্মার প্রকাশ ঘটান জমিনে আর সেই আত্মাকে স্বর্গের পথ বাতলে দেন শিক্ষক। ধিরে ধিরে স্যারের সান্নিধ্য প্রাপ্তির অনুভূতি আমাকে যেন পরিণত করে তার পোষা ময়নায়। নির্জন একটি আম গাছের নিচে বাঁশ আর বেতে পাতা যে মাচাটি সেখানেই স্যার বসতেন সকালের চা নিয়ে; আর আমি রেডিও বা টিভির আদলে পাঠ করতাম বাজার থেকে নিয়ে আসা খবরের কাগজ। আর তারি ফাঁকে ফাঁকে তিনি হারিয়ে যেতেন বিভিন্ন ইতিহাস,গল্প,আর কাব্বগাঁথায়। তাঁর হাত ধরেই ৫ম,৬ষ্ঠ,আর ৭ম শ্রেণিতে আমি অর্জন করি বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বের রকমারি উপহার,সাথে বইও!

এমনি ভাবে স্যারের সাথে আমার যে নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক তা থেকে বেড়িয়ে আসাটা ছিল সত্যিই এক প্রকার বিয়োগান্ত নাটক রচনারি নামান্তর। কিন্তু সেই বাস্তবতাটিকে অস্বীকার করার উপায় ছিল না, চলে যেতে হয় অনেক দূরে—
একটি জলাঞ্জলিময়ী অস্তিত্ব সঙ্গি করে।
প্রায় এক যুগ আগে হারিয়ে যাওয়া সেই স্যার এখনও আমার সঙ দেয় চিন্তা-চেতনায়, আর অদৃশ্য থেকে দেয় প্রেরণা।
জীবনের এই পর্যায়ে আমি আজ বড়ই একা।
কোথায় স্যার আপনি???
আজ যে শুধু………
ভীষণ ভাবে আপনাকেই মনে পড়ছে ।। ।। ।।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×