
-কী করে বলবো বলো।
-দু’মিনিট মুখ বন্ধ করে থাকতে পারে না বলে। কথা কইতে ইচ্ছে যায়।”
“আমার বিরহে তুমি অভ্যস্ত হয়ে যেয়ো না । আমার ওইটুকুতেই চলবে...”...“আমার মিলনে তুমি অভ্যস্ত হয়ে যেয়ো না।”
“সমাজ তেজী ঘোড়া। দানা-পানি দেবে। তার পিঠে চড়বে। বেয়াড়ামি করলে পায়ের কাঁটা দিয়ে অল্প গুঁতো দেবে, আরো বেশী হলে চাবুক, আর একদম বিগড়ে গেলে পিস্তল। তারপর নূতন ঘোড়া কিনবে- নূতন সমাজ গড়বে।”
“তোমার আমার মাঝখানে বঁধূ অশ্রুর পারাবার।
কেমনে হইবো পার।”
“ওরে ভীরু, তোর উপরে নেই ভুবনের ভার।”
“ঘরে থেকো। আমি ফিরবো।” আর তো ফিরে এলো না। না আসুক, বাস্তবে, উপন্যাসে কি সবার শেষে একটিবারের জন্যে এক ঝলক উঠিয়ে আনা যেতো না? আমি যে বড় কষ্ট পেয়েছি..
প্রিয় মুজতবা আলী,
তাই, আপনার কোনো ক্ষমা নাই। আপনি ক্যান ‘শবনম’ লিখতে গেলেন? লিখতে নিয়েছেন ভালো কথা, শেষ করলেন না ক্যান? সাঁতার না জানা পাঠককে অকূল দরিয়ায় হাবুডুবু খেতে দেখে তরী নিয়ে কেটে পড়ার মতো নিদারুণ মশকরা আপনার আগে আর কোনো লেখক করেছেন বলে আমার জানা নেই। ‘তামাম ন্ শুদ’- এটা হতে পারে? অসহ্য, অসহ্য!
যারা এখনও শবনম পড়েন নি, তাদের বলছি, আপনি কি ‘দেশে বিদেশে’ পড়েছেন? না পড়ে থাকলে আপনি এই বইয়ের স্বাদ পাবেন বেশি (হাবুডুবু খাবেনও বেশি); বুঝবেন কম। আর যদি আগেই ‘দেশে বিদেশে’ পড়ে শেষ করেন (যদিও আমি সন্দিহান যে, এই বই শেষ করার সাধ্য কারো আছে কি না), তাহলে একটু দ্বিরুক্তি মনে হতে পারে। আবার লেখকের উপর অভিমানও জাগতে পারে- কেনো তিনি এই ঘটনাটা ভ্রমণ কাহিনীতে উল্লেখ করেন নি!
মুজতবা আলীর একই প্লটে লেখা আরো একটি গল্প আছে- মনি। আমার মনে হয়, মনি, শবনম আর দেশে বিদেশে মিলে একখান অসামান্য (!) গ্রন্থ রচনা করা যেতো। কিন্তু তিনি যা লিখেছেন সেই ‘সামান্য’ পাড়ি দেওয়ার মতো লেখকও আজো মাথা তুলতে পেরেছেন কি? লেখায় এত দর্শন, এত উদ্ভাবন, এত বিজ্ঞান, এত রস, এত গল্প, এত কাব্য, এত অনুবাদ, ভাষার এত কারুকাজ, এত সহজিয়া সংলাপ, এত এত শিক্ষা- অদ্বিতীয়, অনন্য, অপূর্ব।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




