somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড়রা কেন বড় হয় না

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বড়রা এখন আর বড় নেই, এ-সময়ে বড়রা ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে— কেবলই এমন মনে হয় আজকাল । ছোটরা এখন বড়দের হাতিয়ার, বড়রা শুধুই বড়, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে । বড়দের অনেক ব্যস্ততা, সেই ব্যস্ততার চাপে ছোট-খাট কসুর হওয়ার স্বাভাবিক । সুতরাং তাদের কসুরকে কসুর বলাও পাপ ।

বড় হতে হলে মানুষের মাথায় পা রেখেই বড় হতে হয় । এটাকে আধুনিক পরিভাষায় বলে ‘ম্যানেজমেন্ট’ । এই ম্যানেজেমেন্টের অন্যতম তরিকা হলো, বড়দের কাছে নিজের বড়ত্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য ছোটদের ব্যবহার করা ।

এর সবচে’ সুন্দর পদ্ধতি হলো— ছোটদের বলা যে, তাকে অভিজ্ঞ হবার জন্য কাজের সুযোগ দেওয়া হবে । আর সেটা অবশ্যই বিনামূল্যে । কেননা, এভাবে প্রত্যেক বড়রাই তাদের বড়দের কাজ বিনামূল্যে সম্পাদন করে দেওয়ার মাধ্যমেই বড় হয়েছেন । নামে-বেনামে ছোটর সব কৃতিত্ব তিমি সমান গ্রাসে গিলে নেওয়ার মাধ্যমেই বড়র অবদান সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় এখন ।

প্রবীণা নারীর উৎকট মেকাপের মতো কারও কারও বিনয় তাদের বড়ত্বকে আরও প্রকট করে তোলে । স্বঘোষিত হাওদার তলে পিষ্ট হয় অজস্র বড়প্রাণ । আগাছার মতো উঁচু হয়ে থাকা বুনোলতা যদিও গাছের নির্যাস পান করেই বেঁচে থাকে, তবু সে কি তার দুলুনি ! গাছের যেখানে নড়ারই জো নেই ।

বহুবছর আগে রাহে নাজাতের মলাটের ওপর মুশফিক উস্তায ঝরনাকলম দিয়ে লিখে দিয়েছিলেন—
মিটা দো আপনি হাস্তি কো আগার কুচ্ছ মর্তবা চাহো
কে দানা খাক মেঁ মিলকর গুলে গুলজার হোতা হ্যায়


এ-সময় সেই কবিতা বড় নিষ্প্রভ মূল্যহীন । হাস্তির মাস্তিই এখন মর্তবার সোপান । ফুলের মূল্য এখন প্রেয়সীর কানেও নেই, শহীদের কবরেও নেই । এখন শুধু বড় হবার সময়, এখন ‘গুলজার’ গড়ার সময় নয় ।

তাই ছোটরা শুধু বড় হতে চায়, বড়রা যেতে চায় নাগালের বাইরে । চাঁদ নয়, উত্তপ্ত সূর্যের হিলিয়াম ছোঁয়ার নেশায় তোষামোদির ডানা ঝাপটায় চাটুকার মোসাহেব । পাখা ছাড়াই উড়ে যেতে চায় উটপাখি । বেসুরো কণ্ঠেই কোকিলকে নিত্যদিন হারিয়ে দেয় কর্কশ কাক ।

এই করে করে আমাদের বড়রা কি বড় হয় নাকি বুড়ো, নাকি ছোট থেকে ছোট হয় আরও—ভেবে কুল পাওয়া যায় না । মেলে না পুরনো খেরোখাতায় কষা সনাতন হিসাব—২৪টা ঘণ্টায় কী করে এক দিন হয়, ১২টা মাস মিলে কী করে হয় শুধু ১টা বছর ?

তারপরও পৃথিবীর চিরায়ত নিয়মে যেহেতু মন্দের তিন-চল্লিশের পরেও ভালোর সংখ্যা সাতান্নই হয় । তাই এখনও জোনাকির আলোড়ন দেখতে পাই আমরা । বড়প্রাণের বড় মানুষেরা এখনও আমাদের আশেপাশে নিঝুম নৈশব্দের মতোই ঝঞ্ঝাট-ক্লান্ত হৃদয়কে আশ্বাস দেয়—লা তাহযান ।

প্রিয়বড়েষু,
বড়রা যে বড়ই হয়, আপনারা আবার তার প্রমাণ দেখালেন আজ ।

ধন্যবাদ মাহমুদুল হাসান সোহাগ (চেয়ারম্যান, অন্যরকম গ্রুপ) ও শরীফ মুহাম্মদ (লেখক, সম্পাদক) ভাই ।

আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিক । আসমানের শামিয়ানা ছাড়িয়ে আরও উপরে আরশে মুয়াল্লার সুবিশাল ছায়াতলে আপনাদের অধিষ্ঠান কবুল হোক । কল্যাণ হোক আপনাদের । আমিন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৭:২৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×