ভারতের অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে আÍহত্যা ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬৮ জন আÍহত্যার চেষ্টা করে এবং ১৬ জন আÍহত্যা করে। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে সংখ্যা বেড়ে শনিবার দুপুর পর্যন্ত আÍহননকারীর সংখ্যা বেড়ে ১৪২-এ পৌঁছে। আÍহত্যা সম্পর্কে সরকারের তরফ থেকে পরিষ্কার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ১৪২ জনের কথা স্বীকার করে খবর দিচ্ছে। এমন ’গণআÍহত্যার’ ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশ কংগ্রেস এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শংকিত হয়ে পড়েছেন। ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির চেয়ারে কাকে বসানো যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। রাজশেখর রেড্ডির পুত্র জগমোহন রেড্ডিকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য ক্রমশই তার ওপর চাপ বাড়ছে। রাজ্যবাসী রেড্ডির প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে যেভাবে আÍহত্যা করছেন, তাতে গণসমর্থন ধরে রাখতে সোনিয়াও শেষ পর্যন্ত জগমোহন রেড্ডিকে অন্ধ্রপ্রদেশের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিতে পারেন। যদিও কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির অধিকাংশই এখনও বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যটির অর্থমন্ত্রী কে রোশাইয়েকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত বদল হতে পারে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বিরাপ্পা মৌলি শনিবার দিল্লিতে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখা হচ্ছে। মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবকিছু মেনে-বুঝেই দল একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে দেশটিতে রাজনীতিক ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের হেলিকপ্টারের চড়ার ওপর বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করার চিন্তাভাবনা করছেন কেন্দ ীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থলের কিছু দূরে হেলিকপ্টারটি ব্ল্যাক বক্স পাওয়া গেছে, সঙ্গে পাইলনের ভয়েস রেকর্ডারও উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারী দল। সেগুলো শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার তদন্তকারী কমিটির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বৃস্পতিবার ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পরই চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়। ওই কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই তদন্তের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে রিপোর্ট দাখিল করবেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ডক্টর মনমোহন সিং ওই তদন্ত রিপোর্ট দেখবেন। অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপ্পা জেলার নাম বদলে দেয়া হচ্ছে। জেলার নতুন নামকরণ করা হয়েছে ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডি জেলা।
প্রয়াত রাজশেখর রেড্ডির মৃত্যুর শোক সহ্য না করতে পেরে যারা আÍহত্যা করেছেন বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের অধিকাংশই কৃষক ও গরিব শ্রেণীর। পেনোভেন্ডুলায় এক যুবক কীটনাশক পান করে আÍহত্যা করেছেন। তার প্যান্টের পকেট থেকে পাওয়ায় চিরকুটে লেখা ছিল, তিনি গরিব মানুষের দেবতা ছিলেন। তার জন্যই ওই পরিবারটি সুখে থাকার মন্ত্র পেয়েছিলেন। তাই রাজশেখর রেড্ডির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ওই যুবক আÍহত্যা করেছে। একইভাবে কুর্ণল জেলায় এক কৃষক গলায় ফাঁস দিয়ে আÍহত্যা করেছেন। তারও একই বক্তব্য ছিল। দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে আÍহত্যার ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে। তবে ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির মতো গণআÍহত্যার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল। অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এনটি রামা রাওয়ের মৃত্যুর পরও ওই রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে ৮ জনের আÍহত্যার খবর পাওয়া যায়। তামিলনাড়-তে ১৯৮৪ সালে এমজি রামচন্দ নের অসুস্থতার খবর শুনেই চব্বিশজন আÍঘাতী হয়েছিলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


