somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্তের ঋণ- শুধিতে হইবে ব্রিক বাই ব্রিক।।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রক্তের ঋণ সবসময় রক্ত দিয়েই শোধ করতে হয়। প্রকৃতি সবচেয়ে নির্মম প্রতিশোধ গ্রহণকারী। আজ হোক বা কাল হোক প্রকৃতি সুদে আসলে সবকিছু বুঝিয়ে দেয়।

জেনারেল জিয়াউর রহমান সাধারণ জনগনের কাছে খুবই ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্ভবত ৭৬ সালে যখন মেজর ফারুক ক্যু করলেন তখন তিনি বাস্তবতা ফারুকের পিতাকে বুঝিয়ে বংগভবনে ডেকে এনে বাংলাদেশ বিমানের স্পেশাল ফ্লাইটে করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেন। তার কোন বিচার জেনারেল জিয়া করেননি। কিন্তু যেসব সাধারণ সৈনিক মেজর ফারুককে সমর্থন দিয়েছিলেন তাদেরকে একে একে ফাঁসি আর ফায়ারিং স্কোয়াডে দেন। জিয়া তার মুক্তিদাতা কর্ণেল তাহেরকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলান। তাঁর আমলে বিমানবাহিনীসহ সামরিক বাহিনীতে ১৯ টি ক্যু সংঘটিত হয়। এতে তিনি প্রায় ১১০০ জনকে ফাঁসি আর ফায়ারিং স্কোয়াডে দেন আর কয়েক সহস্রকে কারাদন্ড দেন। এত সংখ্যক সৈনিকের পরিবারের আর্তনাদে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে। কর্ণেল তাহের আর আর ক্যাপিটাল শাস্তিপ্রাপ্ত সহস্রাধিক আত্ত্বার প্রেতাত্বা জেনারেল জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এভাবে জেনারেল জিয়া অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের চারপাশের মানুষের দূর্নীতি আর সন্ত্রাসের কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যায়। ৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের জন্য অমর্ত্য সেন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে গবেষকদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের সীমাহীন দূর্নীতির কথা উল্লেখ করেন। শত শত টন খাদ্যশস্য আওয়ামী ব্যবসায়ীদের কাছে জমা থাকা স্বত্ত্বেও অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় দূর্ভিক্ষ তৈরী করে। এতে সরকারী হিসেব মতে ২৬,০০০ আর অমর্ত্য সেন, বিদেশি সাংবাদিকদের তথ্যচিত্র আর Census অনুযায়ী প্রায় ১৫ লক্ষ লোক মারা যায়। শুধু ১৫ থকে ২৬ এ এপ্রিলের মধ্যেই শুধু রংপুরেই মারা যায় প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ।

একদিকে অভূক্ত মানুষের আর্তনাদ আর অন্যদিকে রক্ষীবাহিনীর সীমাহীন খুন, হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণ এর ফলে মানুষ দেশ থেকে পালানোর পথ খুঁজতে থাকে। রক্ষীবাহিনী বেশিরভাগ বামপন্থি মুক্তিযুদ্ধাদের হত্যা করে। এছাড়া আওয়ামী নেতাদের স্বার্থে সাধারণ মানুষ হত্যা করতে থাকে। উইকিপিডিয়াতে ৩০ হাজার মানুষ হত্যার কথা উল্লেখ আছে। রক্ষীবাহিনী সবচেয়ে নির্মম যে কাজটি করেছিল তা হলো একজন ২০ বছরের যুবককে হত্যা করে পিতা সীমাহীন নির্যাতন আর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নিজ হাতে কুড়াল দিয়ে ছেলের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য করে। এরপর সেই মাথা দিয়ে রক্ষীবাহিনী ফুটবল খেলে পৈশাচিক আনন্দ মেতে উঠে। এরকম হাজারো ঘটনা তারা ঘটিয়ে ছিল। সব তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া। প্রয়োজনে দেখে নেবেন। এসবের জন্যই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংগালী বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জীবন দিতে হয়েছে।

জেনারেল এরশাদ যা করেছে তাঁর জন্য সে বাকি জীবনের জন্য বাতিলের খাতায় পড়ে গেছে।
১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লিগ যে পরিমান সন্ত্রাস, নৈরাজ্য আর দূর্নীতি করেছে তার জন্য আওয়ামীলিগকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে।
এবার আসি বিএনপির ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত। এসময়ে বিএনপি যেসমস্ত নেক্কারজনক কাজ করেছে তার জন্য আজো বিএনপি রাজনৈতিকভাবে তার মাসূল দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার মতো অবস্থা তৈরী হয়েছে।

এবার আসি ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামীলিগের কর্মকান্ড নিয়ে। শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো অনেকটাই এন্টিক ঘটনা। আওয়ামীলিগ সীমাহীন পেশি শক্তি প্রদর্শন করেছে। রাজনীতিতে নতুন ধারা আর তত্ত্বের প্রচলন ঘটিয়েছে। শুধুমাত্র ২০১৩ সালেই রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা ৫২৬ জনকে খুন করেছে। ২০১৪ এর সঠিক হিসাব আমার কাছে নেই। ২০১৫ সালে এখন পর্যন্ত ৫১ জনকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। এটা থামবে কিনা কেউ বলতে পারেনা।
রক্তের ঋণ আওয়ামীলিগকেও শোধ করতে হবে। এখন দেখার বিষয় হলো সেটা কতটা কস্টলি হয়।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×