আজকে যারা গুগলে যাচ্ছেন, তারা এই ছবি দেখছেন, আর দশটা দিনের মত একটা সাধারণ ছবি মনে করেই চলে গেছেন। এই আর এমন কি ছবি? এক লোক একটা বিল্ডিং বানাচ্ছে এইতো?
ফজলুর রহমান খান নামের এক ব্যক্তি ১৯৪৪ সালে আরমানিটোলা স্কুলে পড়ালেখা শেষ করে ভর্তি হন পশ্চিমবঙ্গের শিবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। বেঁধে গেল বড় দাঙ্গা। চলে এলেন ঢাকায়। ভর্তি হলেন আহসান উল্লা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ - আজকের বুয়েটে। দুই কলেজের মিলিত রেজাল্টে সমগ্রবঙ্গে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, সালটা আজকের ২০১৭ নয়, ১৯৫২ সাল। ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে চলে গেলেন আমেরিকায়, ইলিয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করে আহসান উল্লাহ কলেজের স্থাপত্য বিভাগে প্রভাষকে যোগ দেন। কিছুদিন শিক্ষকতা শেষে আমেরিকায় চলে যান।
তার হাত ধরে আসে শিকাগোর সিসার্স টাওয়ার, মক্কার কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, জেদ্দা বিমানবন্দরের হজ্ব ক্যাম্প।
গল্পের শেষ এখানেই নয়, বরং শুরু। উনার উদ্ভাবিত একটা পদ্ধতি ছিল Tube in Tube. এই পদ্ধতি বলে উনি খুবই কম খরচে কিভাবে সুউচ্চ ভবন তৈরি করা সম্ভব সেটা নিয়ে গবেষণা করে দেখিয়েছিলেন। ফলে একের পরে এক সুউচ্চ টাওয়ার আজ বিশ্বব্যাপী আমরা দেখি, বুর্জ খলিফা, পেট্রোনাস টাওয়ার, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরাও স্বপ্ন দেখি, পূর্বাচলে এমন বিল্ডিং হবে ( কথাবার্তা চলছে )।
এত সুউচ্চ বিল্ডিং এর নির্মানের প্রথম সূত্র ছিল ফজলুর রহমান খানের। অল্প ভাষায় যাকে এফ আর খানের সূত্র বলে। এই এক সূত্র তাঁকে এনে দিয়েছে বিংশ শতাব্দির সেরা স্থাপত্য ও পুরকৌশলীর সম্মান, আর বিশ্বকে দিয়েছে একের পরে এক সুউচ্চ ভবন।
১৯৮২ এর ২৭ মার্চ, ৫৩ তম জন্মদিনের মাত্র ৬ দিন আগেই মৃত্যুবরণ করেন এফ আর খান।
আজ ৩ রা এপ্রিল, ১৯২৯ সালে মাদারীপুরে জন্ম নেন, বিংশ শতাব্দির সেরা স্থাপত্য ও পুরকৌশল বিজ্ঞানী ফজলুর রহমান খান, তথা এফ আর খান, যার স্মৃতিচারণে গুগলের এই ছবি
, যেখানে বিল্ডিংটি সিসার্স টাওয়ার, এককালে যেটা অনেক লম্বা সময় ধরে পৃথিবীর সুউচ্চ বিল্ডিং এর খেতাব ধরে রেখেছিল, আর সামনে এরা পেছনের মূল স্থাপত্য কারিগর এফ আর খান।
তথ্যসুত্রঃ শেখ মোহাম্মাদ
লিংকঃ http://www.facebook.com/S.TauhidSiddique

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


