র্দীঘ ১৪ বছর পর আগামী ২ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে স্বপ্নের সমাবর্তন । সমার্বতনে রেজিষ্ট্রেশন ফি নিয়ে চলছে বানিজ্য, এরকম অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি বাইশ শত টাকা নির্ধারণ করায় অনেকে এটাকে ‘সমাবর্তন বাণিজ্য’ বলেও অভিহিত করেছেন।অপর দিকে বক্তা হিসেবে আনিসুজ্জামানকে মনোনিত করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ এবং ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেও মন্তব্য করেছেন।
সূত্রে জানা যায়, সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম. আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে একটি সি-িকেট সভা আহ্বানকরা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সদস্যরা সমাবর্তনের বক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ও বরেণ্য শিক্ষাবিদদের নাম প্রস্তাব করেছিল। সভায় অমর্ত্য সেন, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুস, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীসহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু সকলের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে উপাচার্য দলবাজির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর আনিসুজ্জামানকে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে মনোনিত করে তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে তিনি সকলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম সমার্বতনের জন্য গত শুক্রবার ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া। সমাবর্তনে সবার জন্য সার্ভিস চার্জসহ রেজিস্ট্রেশন ফি ২২০০ টাকা র্নিধারন করা হয়।দেশের এই অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ পত্র পাওয়ার জন্য এত টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করার পক্ষে না অনেক সমার্বতন কারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য যে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা দেশের অন্য যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেশি। এবারের সমাবর্তনের ফি ২২ শত টাকা নির্ধারণ করায় সমাবর্তনে অংশগ্রহণে সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।অনেক শিক্ষার্থীরাই এটাকে সমার্বতন বানিজ্য হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
এব্যাপারে বিজনেজ স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে প্রফেসর আনিসুজ্জামানকে মনোনিত করা আসলে দলবাজিরই নামান্তর। কেননা, দেশে-বিদেশে আরো অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ থাকতে আনিসুজ্জামানের মত লোককে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে নিয়ে আসা উচিৎ হবে না।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি শিপন আহমেদ বলেন, ‘ড. আনিসুজ্জামনানের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও অনেক ইমেরিটাস প্রফেসর এবং বিশিষ্ট কয়েকজন বিজ্ঞানী ছিল। তাদের মধ্যে যে কাউকে সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে মনোনিত করতে পারতো। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসরকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা হচ্ছে। তিনি এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেও মন্তব্য করেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন ্ও বিচার বিভাগের ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, জানতে পারলাম দীর্ঘ ১৪ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবার্তন হচ্ছে। সেখানে আমরাও অংশগ্রহণ করতে পারবো। আশা করেছিলাম সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে বিদেশের কোনো বরেণ্য শিক্ষাবিদকে আনা হবে। কিন্তু বক্তা হিসেবে আনিসুজ্জামানকে নিয়ে আসায় আমার সব আশাই গুড়েবালি। আর রেজিস্ট্রেশন ফি এতো বেশি করা হয়েছে যে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এত টাকা দিয়ে সনদপত্র গ্রহণ কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে উচিৎ হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২২ শত টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আনিসুজ্জামানের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট গ্রহণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। ##

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


