somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরীক্ষার হলে শিক্ষককে ছাত্রলীগ নেতার অস্ত্র প্রদর্শন : পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি

১৫ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নির্ধারিত আসনে বসতে বলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে পরীক্ষার হলে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। যুবায়ের ইনবে তানিম নামের ওই ছাত্রলীগ নেতা রাবি’র মাদার বখশ হল শাখার সভাপতি। বুধবার দুপুরে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল হক ওই ছাত্রলীগ নেতাকে পরীক্ষার হলে তার নির্ধারিত আসনে বসতে বললে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ওই ছাত্রলীগ নেতা পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়। অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতা গত অক্টোবর মাসে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের সময় শিবির কর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
এরআগে গত ০২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে শার্টের কলার ধরে লাঞ্ছিত করাসহ ৬জন সহকারী প্রক্টরকে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ নিয়ে বর্তমানে প্রশাসনের গত ৪ বছরে ছাত্রলীগের হাতে ১৮জন শিক্ষক লাঞ্ছনার শিকার হলেন। তবে এঘটনার কোন একটির সাথেও জড়িতদের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা হয়নি।
সংশি¬ষ্ট বিভাগের প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্র ভবনের ১২০ নম্বর কক্ষে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ১ম সেমিষ্টারের ৪০১ নম্বর কোর্সের (এ্যাডভান্স একাউন্টিং) পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কিছু সময় পূর্বে ছাত্রলীগের মাদার বখশ হল শাখার সভাপতি ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী যুবায়ের ইবনে তানিম ১৫/২০ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। পরীক্ষা শুরুর আগের ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা বিভাগের সভাপতি ও আওয়ামী পন্থী শিক্ষক শুভাষ চন্দ্র শীলের সাথে কথা বলে চলে যায়। এসময় ছাত্রলীগ নেতা তানিম সামনের ব্রেঞ্চে তার নির্ধারিত আসন বাদ দিয়ে পেছনের ব্রেঞ্চে বসে। এসময় পরীক্ষার হলের দায়িত্বরত ও ওই কোর্সের শিক্ষক ড. মো. আনোয়রুল হক তানিমকে তার নির্ধারিত আসনে বসতে বলে। এ সময় তানিম ওই শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সামনেই বলে “আমি এখানেই বসব আপনি পাড়লে আমাকে এখান থেকে ওঠান”। সে সময় ওই শিক্ষক বিভাগের সভাপতির পরামর্শে ছাত্রলীগের ওই নেতাকে না উঠিয়ে তার পাশ থেকে এক শিক্ষার্থীকে সামনের ব্রেঞ্চে বসানোর চেষ্টা করলে সে ওই শিক্ষকের উপর ফের চড়াও হয়। ওই শিক্ষক তানিমকে কিছু না বলে পরীক্ষার ওই হল রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে আসলে তানিম তার পিছু পিছু সেই রুমে প্রবেশ করে বলে “ আমি যেভাবে পরীক্ষা দিতে চাই সে ভাবেই পরীক্ষা দিব, আমাকে বাধা দিলে আমি এই পরীক্ষা বন্ধ করে দিব”। এসময় ছাত্রলীগের ওই নেতা তার শার্ট উপরে তোলে কোমরে থাকা পিস্তল দেখায় ওই শিক্ষককে। পরে শিক্ষক আনোয়ারুল হক ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলে পর্ক্ষীা শেষ হওয়া পর্যন্ত আর ফেরেননি।
তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাটি প্রক্টরকে জাননো হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া এবং ওই বিভাগের সভাপতি উপস্থিত হয়ে ওই শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী নিয়ে সভাপতির কক্ষে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে করে দেয়। এসময় ছাত্রলীগের ওই নেতা শিক্ষকের কাছে ভুল স্বীকার করে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক ড. আনোয়ারুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার শিক্ষকতা জীবনের ১৬ বছরে এমন ঘট্না ঘটেনি। তিনি ঘটনার বিবরণ দেয়ার পর তাকে এ ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কোন অভিযোগ দেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ দিয়ে কি হবে? এর আগে এর অনেক বড় ঘটনা ঘটেছে তার কোন বিচার হয়নি। তাই আমি আর ঝামেলায় জড়াতে চাইনা বলেন, ওই শিক্ষক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া বলেন, পরীক্ষার হলে বসার জায়গা নিয়ে শিক্ষকের সাথে এক শিক্ষার্থীর কথা কাটা-কাটি হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে আমি এবং ওই বিভাগের সিনিয় শিক্ষকদের সাথে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছি।
এর আগে গত ০২ অক্টোবর ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের সময় শিবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রক্টর প্রফেসর চৌধুরী মোঃ জাকারিয়াকে তার শার্টের কলার ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় আর ৬চন সহকারী প্রক্টরকেও লাঞ্ছিত করা হয়। তারও আগে পরীক্ষার হলে বিশৃংখলা সৃষ্টি করার ঘটনায় বাধা দিলে বাংলা বিভাগের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক সফিকুন নবী সামাদীকে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর চাঁদাবাজীর সময় বাধাদানের ঘটনায় রাবি ছাত্রলীগের উপ গণশিক্ষা সম্পাদক এমদাদুল হক কর্তৃক ফোকলোর বিভাগের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ড. অণুপম হিরা মন্ডল প্রহৃত হয়। গত একই বছরের ৭ এপ্রিল ছাত্রলীগের অবৈধ সিট দখলে বাধা দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতিসহ নেতাকর্মীদের হাতে প্রহৃত হন শহীদ শামসুজ্জোহা হল প্রাধ্যক্ষ ড. মুর্ত্তুজা খালেদ ও প্রক্টর। ওই ঘটনায় শিক্ষক সমিতি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং প্রাধ্যক্ষ পরিষদ কর্মবিরতি পালন করে।
এসব ঘটনার কোনটির সাথে জড়িতদের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এনিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। #



২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×