somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাবির মাদার বখ্শ হলে আতঙ্কের নাম ডিলস

১৯ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ্ আবাসিক হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আতঙ্কের নাম ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ওরফে ডিলস তিনি মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ স¤পাদক এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ।
হলের গেইট, ডাইনিং, টিভি রুম, মসজিদ, গেম রুম যেখানেই তার সাথে দেখা হবে তখনই তাকে সালাম জানাতে হবে। তাকে সম্মান না জানানোর কারনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়া এবং বিনা অপরাধে একাধিক শিক্ষার্থীকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ রয়েছে। তার এসব কর্মকান্ডে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি অন্য হলের শিক্ষার্থীরাও মাদার বখশ্ হলে আসতে ভয় পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ডিলসের এসব কর্মকান্ডে শঙ্কিত।
হল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে টেলিভিশনে খেলা চলছিল। এসময় একটি চ্যানেলে সিনেমার বিজ্ঞাপন বিরতিতে খেলার স্কোর জানার জন্য চ্যানেল পরিবর্তন করা মাত্রই দেলোয়ার হোসেন ডিলস টিভি রুম ভর্তি শিক্ষার্থীদের সামনেই ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ওই হলের আবাসিক ছাত্র সুমন রহমান নামে এক শিক্ষার্থীকে ৪০ বার কান ধরে ওঠবস করান ।
এ বিষয়ে সুমন রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাকে কেউ যদি মারতে মারতে মেরেও ফেলতো, তবুও এত কষ্ট পেতাম না। যখন সবার মধ্যে কান ধরে ৪০ বার ওঠবস শেষ করলাম, তখন মাটি ফাঁক করে মাটির ভেতরে যেতে ইচ্ছা করছিল আমার।”এভাবে বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন সুমন রহমান।
এদিকে ছাত্রলীগ সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে বিপাকে ফেলানোর জন্যই দেলোয়ার হোসেন ডিলস এসব কর্মকান্ড করছেন। ছাত্রলীগ নেতারা মনে করছেন, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কৃত জয়-অপু কমিটির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন ডিলস। ওই কমিটির সময় সব অপকর্মের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তার কারণেই তৎকালীন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলেও তারা মনে করেন। তাই বর্তমান আহম্মদ-বিপুর কমিটিকে ওই কমিটির মতো বিপাকে ফেলতে বা কমিটি স্থগিত করার জন্য ডিলস এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, এর আগে গত বৃহ¯পতিবার শাহ নুর নামে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থীকে মাদার বখশ হলের সামনে কান ধরে ওঠবস করান ওই ছাত্রলীগ নেতা ডিলস।এসময় পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেদিকে তাকালে অন্য ৩ শিক্ষার্থীকেও কান ধরে ওঠবস করান তিনি।এছাড়াও গত শনিবার একই হলের রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শামিম হোসেনকে একইভাবে কান ধরে ওঠবস করান দেলোয়ার হোসেন ডিলস।
এর আগে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শুধু মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার কারণে শিবির সন্দেহে মারধর করে হল থেকে বের করে দেন তিনি। অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর পাশাপাশি হলের কর্মচারীদের নিয়মিতভাবে পেটানোর অভিযোগ রয়েছে তার নামে। মাদার বখশ হলের মালী শরিফুল ইসলামকে হলের ২০৩ নং কক্ষে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনসহ কান ধরে ওঠবস করান ডিলস।তার এসব কর্মকান্ডের ফলে আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে মেসে গিয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক মাদার বখশ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, “গত একমাস ধরে ওই হলে শিবির সন্দেহে একাধিক শিক্ষার্থীকে একক ক্ষমতা বলে ওই ছাত্রলীগ নেতা শারীরিক নির্যাতন করে হল থেকে বের করে দিয়েছেন। তাকে দেখলেই মনের মধ্যে ভয় হয়। কখন যে কি বলে কান ধরে ওঠবস করায়।”
এবিষয়ে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি ও মাদার বখশ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনির ডিলসের নামে আনিত অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানো খুবই অনৈতিক কাজ। আর ছাত্রলীগ নেতা ডিলস এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের কথা আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতিকে জানিয়েছি।” এর পরও সে এ রকম কর্মকান্ড ঘটালে তার ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।
এ বিষয়ে ডিলস এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন।
তবে মাদার বখশ হল প্রাধ্যাক্ষ প্রফেসর ড. মো. শেরেজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমি অনেকের মুখেই শুনেছি। তবে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করে নি।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ স¤পাদক আবু হুসাইন বিপু বলেন, “এরকম ঘটনা দুদিন ধরে শুনছি। এ ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে ডিলসের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×