দেশের বিখ্যাত আইনজীবী হাবিবুল্লাহ বশির বিরস মুখে বারবার ঘড়ি দেখছেন।আরেকটু পরেই তার মা ডাকলেন।
তার সামনে ক্লাইন্ট পুলিশ নিয়ে এসেছে।পয়সাওলা ক্লাইন্ট;পুলিশ পয়সাওয়ালাদেরই তোষামোদ করে।
:হাবু,,ও হাবু,,হাবুরে,!
তিনি ভিতরে চলে গেলেন।
পুলিশ, ক্লাইন্ট কৌতুককর চোখে তাকে দেখতে লাগল।
:মা,,পুলিশ আসছে বাসায়।একটু অপেক্ষা কর।
:তোর পুলিশের খ্যাতা পুড়ি,,আমার খিদা লাগছে।এক্ষণ খাইতে আয়।
:আসছি,,
:কই যাস,হারামজাদা,,হারা জীবন তর বাপের লেইগগা না খাইয়া বইয়া রইছি!অহন তর লেইগগা,,,,
বশির সাহেব ফিরে এলেন।বললেন,কিছু মনে করবেন না।আমার মা আমাকে ছাড়া একা খেতে পারেন না।তাই,,,,।আর একটু মাথা খারাপ,,,!বয়স হয়েছেতো!
ভিতর থেকে চিল্লানি শোনা গেল।
:ও হাবু,,,হারামজাদা,,,আমার মাথা খারাপ?তোর মাথা খারাপ,তোর চৌদ্দ গুষ্টির মাথা খারাপ,,
ক্লাইন্টকে বিদায় দিয়ে বশির সাহেব মার সাথে খেতে বসলেন।
:মা,তুমি আমাকে হাবু ডাকবে না!আমি বড় হয়েছি,সমান কাছে আমার সম্মান আছে,লজ্জা করে।
:ওরে আমার লজ্জাবতী লতারে,,আমি হাবুই ডাকমু!তুই আগেও হাবু আছিলি,,হারা জনম থাকবি,,
এই বলেই আসমা বিবি পুরানা দিনের কাহিনী বলা শুরু করলেন।বশির জানত এটাই হবে।যতবার মাকে নাম নিয়ে কথা বলা হয়েছে ততবার এই কাহিনী শুনতে হয়েছে।আজও শুনতে হবে।নিস্তার নেই।
হুনই হারামজাদা,,,১২ বৎসর বয়সে তর বাপের বাড়ি আইছিলাম।আর যাইতে পারি না।আইছিলাম, তর মায় আমার সই আছিল,হের গেন্দা দেহনের লেইগগা। হেয় ত মইরা বাইচ্চা গেল,তর মত কুলাঙ্গার আমার কাছে রাইখখা গেল।
:মা,চুপ কর।এক গল্প আর কত শুনব।
:খবরদার আমারে চুপ কইবি না।আমি তর ধার ধারি না!
আর অহন আমারে বালা লাগব কেন?অহনতো মায় দুই চৌক্ষের বিষ,,
হেই দিন মায় বালা আছিল,,হারামজাদা কুলাঙ্গার। তোর লেইগগা আমি কি না করছি।বুহে দুদের জইন্যে চাইরডা ইনজিকশন লইছি।
রাইত-বিরাইতে তর বাপের অইত্যাচার সহ্য করছি,,,তরে ছাইড়া যাই নাই।থুইয়া গেলে তহন মইরা জাহান্নামে যাইয়া পেইজ কিনতি,হারামজাদা!
:আমি জাহান্নামে যেতাম না, মা।শিশুরা বিনা হিসেবে জান্নাতবাসী।
:তুই যাইতি,,,জন্ম লইয়াই মায়রে খাইছস!তুই জাহান্নামি,,! তর জইন্যে আমি লেংড়া,,,তুই জাহান্নামি!তর চেহারা দেইখখা হেই দিন যাইতে পারি নাই,অহন তুই ডাঙর,,,আমি যেই দিগে মন চায় যামুগা!
এটা ছিল আমার অভিজ্ঞতা যেদিন আমি বশির সাহেবের পারসোনাল সেক্রেটারি হিসেবে জয়েন করলাম।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

