somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপ্রাপ্তি:একটি অসমপ্রেম!

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমার চিত্রার বিয়ে।আরে আমার সাথে না,অন্যজনের সাথে।চিত্রা আমার আপু ছিল,কিন্তু তবু সে আমারই ছিল।কিভাবে?সে কথায় পরে আসা যাক।

চিত্রার আজ বিয়ে হয়নি।কিভাবে হবে! সে সালফিউরিক এসিডের ৩০% দ্রবণ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

যেহেতু আমি তার খুব কাছের ছোট ভাই,আর ফলের রসের গ্লাসটা তার ঘরে আমিই নিয়ে গিয়েছি; তাই পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় ডেকে এনেছে।

আমি মুহিব।কাহিনীর প্রয়োজনে আমার বর্ণনা দেয়া দরকার।আমি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়ছি।আমার উচ্চতা ৪'৪",গায়ের রঙ খুব কালো। সচরাচর মেয়েরা এমন ছেলেদের সাথে মিশে না।কিন্তু আমার সাথে মিশে, কারণ আমি ব্যাচের টপার!

পাঠক ভাবছেন,আমি অহংকারী। হ্যা,আসলেই তাই।এটা ছাড়া আমার অহংকার করার আর কিছু নেই যে।

আমি জানি, পুলিশ আমাকে সন্দেহ করছে।এজন্য আমাকে মারতেও পারে।এতে আমি মোটেই চিন্তিত নই।আমার নিজের একটা প্ল্যান আছে।

আমি জানি,আমি যদি পুলিশের কাছে মাইরের চোটে স্বীকার করি এতে আমার কিছু হবে না।কারণ ধারা ১৬১,ফৌজদারি কার্যবিধি, পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করলে সেটার উপর ভিত্তি করে কোর্ট শাস্তি দিবে না।আর আমি কোর্টে দাঁড়িয়ে বলে দিব, পুলিশ আমাকে অত্যাচার করেছে।পুলিশ নিজেই বিপদে পরে যাবে।বুঝতে হবে,আমি আইনে টপার!

পুলিশ আমার কাছে তথ্য নিবে,অপরাধ স্বীকার করিয়ে লিখিতভাবে সাক্ষর নিবে?কোন লাভ নাই।ধারা ২৪,২৫,২৬ এবং ২৭, সাক্ষ্য আইন,পুলিশের কাছে জবানবন্দি কোর্টে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।কাজেই খালাস!

আর পুলিস আমাকে সন্দেহ করলেও।এখানে আমার intention আর motive কি তা প্রমাণ করতে পারবে না!অপরাধ প্রমাণে intention, motive থাকতেই হয়।
আমি যে চিত্রার ভাই,ছোট ভাই।তার আর আমার মাঝে অন্য কি ছিল, সেটা আমি আর সে জানি!কেবল দুজন!

আমি আটঘাট বেধেই নেমেছি।খুব সোজা আমি অন্যকে ফাসিয়ে দিবো। কাকে ফাঁসাবো এটাই ভাবছি,রাশেদ ভাইকে নয়তো আরিফ ভাইকে?কারণ চিত্রা এদের দুজনকে চিঠি লিখেছিল, বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে।খুব সোজা,আমার কাছে তার লিখা চিঠি আছে।আমি যে চিত্রার সব প্রেমের সাক্ষী।

পাঠক চিত্রা আপুকে নাম ধরে ডাকছি দেখে ভাবছেন ;আমি হয় বেয়াদব, নয়তো সাইকো? আপনিই বলুন,ভালোবাসার মানুষকে আপু ডাকবো কেন?

শুরুটা অনেক আগেই হয়েছিল। তখন আমি ৮ম শ্রেণিতে পড়তাম, চিত্রা ১০ম শ্রেণিতে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে সে রঙ নাম্বার ছবির "প্রেমে পড়েছে মন, প্রেম পড়েছে...."
গানে নেচেছিল।আমি তখনই তার প্রেমে পরেছিলাম।

অনূষ্ঠান শেষে চিত্রা আমায় ডেকেছিল।
:তোর নাম কিরে?
:মু-মু-মুহিব!

:তুই অমন করে সারাক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকিস কেন!
:কে বলল?

:কে বলবে আবার,,? আমি নিজেই দেখলাম!
নাচের পরে থেকে তুই কেবল আমাকেই দেখলি!
:.......
আমি মাথা নিচু করে রইলাম।

:ভালো লাগে আমায়?সত্যি করে বলবি"
:না,,মানে....হ্যা!

:তুইতো শিশু!মাত্র এইটে পড়িস!
:তাকে কি?...
বলেই দৌড়ে পালিয়েছিলাম!

তারপর থেকেই শুরু চিত্রা আমার হয়েগিয়েছিল।আমার কোন দোষ নাই!সে নিজেই সবার কাছে আমার পরিচয় করিয়ে দিত,আমি তার মিনি বয়ফ্রেন্ড!

আমি মেনেই নিয়েছিলাম।কিন্তু বিপত্তি ঘটলো যখন রাশেদ ভাই তাকে অফার করলো।আর সে রাজিও হয়ে গেল।খুব কেঁদেছিলাম সেদিন।আমি অনেকবার তাদের প্রেম ভেঙে দিয়েছি।চিত্রার হয়ে আমি ভুলভাল চিঠি লিখে দিতাম।কিন্তু আবার ঠিক হয়ে যেতো।

খুব রাগ হয়েছিল,যখন চিত্রা আরিফ ভাইয়ের অফারেও রাজি হল!একসাথে তিনজন?

আমারতো মরে যেতেই ইচ্ছে করলো যেদিন চিত্রা আমাদের বাসায় আরিফ ভাইয়ের সাথে দরজা বন্ধ করেদিল।

:তুমি দরজা বন্ধ করে কি করলে?
:হা হা হা,তুই বুঝবি না!

:আমি বুঝি সব বুঝি!আমি ছোট না?
:তুই বড় এদিকে আয়তো!

হ্যা,চিত্রা আমায় জড়িয়ে ধরেছিল।তার হাত এমন জায়গায় ছিল যে আমার সারা শরীরের ইন্দ্রিয় একসাথে উত্তেজিত হয়েছিল।

তারপর আমি আর চিত্রা অনেকবার এই স্বর্গীয় সুখ পেয়েছি।প্রতিবার তাকে জিজ্ঞেস করেছি,তুমি কাকে ভালোবাসো।সে সবসময় বলেছে, সে আমাকে ভালোবাসে।

আমি চিত্রা ছাড়া কিছু ভাবিনি।ক্লাসের সুন্দরি মেয়েটা যখন কথা বলতে চাইতো, আমি এড়িয়ে যেতাম।আমার কি দোষ,আমি চিত্রায় ডুবে গিয়েছিলাম!

আর সে কিনা আমায় ছেড়ে অন্যকে বিয়ে করছিল।সে আমায় সমাজের দোহায় দিল!আসলে সমাজই সব?আমাদের প্রেম কিছু না?শুধু তাই না,সে আরিফ ভাই,রাশেদ ভাইকেও এমন ভালোবাসতো?খুব জানতে চাইতাম,সে হাসতো!

এখন ভালো হয়েছে,সব শেষ!

আমি খুব বেশি কিছু করিনি।কয়েকটা ব্যাটারির পানি থেকে তাপে এসিড আলাদা করেছি।তারপর সেটা ফলের রসে মিশিয়েছি,ব্যস!

চিত্রাকে বিয়ের শাড়িতে কি যে ভালো লাগছিল!আমার কোন দোষ নেই,সেই ঘর থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে আমাকে ডেকেছিল!

:শোন,মুহিব,মন খারাপ করিস না।আমি তোকে অনেক ভালোবাসি।
:আর আরিফ, রাশেদ ভাইকে?

:ধুর,,ঐসব বলিস নাতো।তোর দুলাভাই ডাক্তার!
:.....

তারপর জুসটা খেল,আর মুহূর্তেই শেষ!আমার খারাপও লাগেনি।বিশ্বাস করুন,চিত্রার শেষ চুম্বন আমাকে আজ অতটা আনন্দ দেয়নি,দেহে আলোড়ন তোলেনি!

যে চিত্রা আমার নয়,সে কারো নয়!

যাই,পুলিশ আমাকে ডাকলো!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪২
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×