somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপূর্ণ অনুভূতি

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা,বয়স দিয়ে কি অভিজ্ঞতা বিচার করা যায়?যায় না,যেমন আমি প্রথম প্রেমে পরেছিলাম অপরিণত বয়সে।মানে শরৎবাবুর মতে আমার প্রেমের বয়স হয়নি।তবে হুমায়ূন স্যারের মতে প্রেমে পড়ার সকল লক্ষণ আমার মাঝে ছিল।তাকে দেখা,কথা বলার ব্যাকুলতা,মুগ্ধতা সবই ছিল।

সে হিসেবে আমি প্রেমিক পুরুষ,আআআআমি ইনান!

তখন আমি মাত্র ৯ম শ্রেণিতে পড়ি।তখনি তার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলাম।আসলে ডুবেই গিয়েছিলাম!

সেদিন আমি, রাহাত,সাব্বির আর বাকি বন্ধুরা কানামাছি খেলছিলাম।সাব্বির বদটা চোর হয়েছিল।হঠাৎ পাশ দিয়ে একটা মোটরসাইকেল গেল।সেটা আসল কথা না,পেছনে ছিল একটা পরী!সাব্বির আমায় ধরে ফেলেছিল,সেদিকে আমার খেয়াল নেই! আমিতো অবাক চোখে পেছনে তাকানো পরীটাকে দেখছিলাম।

তারপর অনেকবার পরীটাকে মোটরসাইকেল করে যেতে দেখেছি,রুটিন করে রাস্তায় বসে থেকেছি!

সেদিন মা ছাদে পাঠালো,আর আমি নিচে তাকিয়ে দেখি দু'জন ব্যাডমিন্টন খেলছে।আরে এযে আমার "তিনি"!আমার পাশের বাসায় থাকে আমি জানি না!অন্যজন ফাইজা বলে ডাক দিলে,নামটাও জেনে গেলাম!

পরেরদিন মা বলল,"পাশের বাসায় নতুন ভাড়াটে এসেছে,আমি পরিচিত হয়ে আসি।তুই বাসায় থাক।"আমার বুঝতে বাকি নেই মা কোথায় যাচ্ছে,আমিও পেছন পেছন গেলাম।

এযেন মেঘ না চাইতেই ঝড়!দরজা খুলে দিল আমার ফাইজা পরীটা!

:ইনান ভাইয়া, তুমি এত্ত লম্বা হলে কিভাবে?
:ফাইজা,আমারে ভাইয়া বলবা না প্লিজ!

পাশে রিনা ছিল,সে সব শুনছিল।বাংলা সিনেমার রিনা খান আর তার মাঝে আমি এখনো পার্থক্য খুজে পাইনি।দুজনের চেহারা,আচরণ এক।
:তবে কি বলবে, লম্বু না সেলফি স্টিক?

তখন রিনাকে কঠিন একটা চড় দিতে পারলে হত,দিইনি।সব কিছুতে মেজাজ খারাপ করলে হয় না।রিনা সেদিন থেকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।

যখন-তখন ফাইজাদের বাড়ি যাওয়া ট্রাম কার্ড হল রিনা।কত কলিংবেল টিপে দৌড়ে পালিয়েছি,রোদে ছাদে বসে থেকেছি;শুধু তাকে একপলক দেখার জন্য।

রিনাকে দিয়ে ফাইজা কে খেলতে ডেকে আনতাম।বিপত্তি বাধালো মাথামোটা সাব্বির।বৌচি খেলার সময় সে হরহর করে বলে দিল,আমি ফাইজাকে ভালোবাসি!

ফাইজা চুপ করে গেল।আমার দিকে যেভাবে তাকিয়ে ছিল,তার চোখ থেকে আগুন বের হলে আমি ভস্ম হয়ে যেতাম!

পরদিন ফাইজা আমায় ছাদে ডাকলো।আমিতো ভয়ে শেষ,পাশের চায়ের দোকানে একটা ভয়ানক গান বাজছিল,,,"সোনা বন্দু তুই আমারে ভোতা দাও দিয়া কাইট্টালা......"আমি ভেবেছি আমি সেদিন মাইর খাবো।

:ইনান,তুমি আমায় সত্যিই ভালোবাসো?
:হ্যা,মিথ্যা করে ভালোবাসা যায় নাকি!

আমি কিছু উত্তর আশা করছিলাম।না পেয়ে আমিই নীরবতা ভাঙলাম।
:আচ্ছা যাই হোক বাদ দে আমরা ছোট মানুষ.. কি আর বুঝি এসবের?

ফাইজা কিছু না বলে চলে গেল।

শাহ্‌রুখ খানের মত মনে মনে বলেছি, "পালাট ফাইজা, পালাট!"সে ফিরে তাকায়নি।বিশ্বাস করুন আমি কান্না করিনি,ছেলে মানুষের কাঁদতে নেই।

পরদিন রিনা খবর এনেছিল যে ফাইজা বলেছে,"ইনান খুবই ভালো একটা ছেলে... তবে.. ও দেরি করে ফেলসে.. আমাকে একজন প্রোপজ করেছে দুইদিন আগে এবং আমি তাকে হ্যা বলেছি.. আমি তাকে এক্সেপ্ট করে নিয়েছি... এখন আমি পারি না আমার কথা থেকে সরে আসতে!"

এবার বুকের কোথায় একটু চিনচিনে ব্যথা অনুভব করেছিলাম।যদি আমি আর তিন দিন আগে "ভালোবাসি" বলতাম!মাথামোটা সাব্বির আরও আগে কেন যে এমন করলো না?

তারপর প্রায় চার বছর তার সাথে দেখা নেই।কথাও হয়নি!

এইতো এক শুক্রবার হঠাৎ তারসাথে হাতিরঝিল দেখা।প্রথমে আমায় চিনতেই পারেনি,আমি ঠিকই চিনেছি।প্রথম প্রেম,আমি কিভাবে ভুলবো?

তারপর? দেখা হয়...
ভালো আছে ও।তার ভালোবাসার মানুষটি নেই এখন আর....তবে ও ভেঙে পড়ার মেয়ে না।ভার্সিটি তে পড়ছে এখন।

প্রথমে মনে হলো তাহলে কি ফিরে পেলাম তাকে?তখন নিজের ভিতর সেই অনুভূতিটাকে খুজলাম।কিন্তু সেই অনুভূতিটা আর নেই।তাই ভালো বন্ধু হয়ে আছি এখনো!

ভালোবাসা ছিলো কি, ছিলো না বুঝার বয়স ছিলো না।আর তাই হয়ত যখন বড় হই, আর সেই অনুভূতি টাকে খুজে পাই না।

নাকি অনুভূতিটা মরে গেছে অপেক্ষার আড়ালে?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:১৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানবতা, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় কবি নজরুলের চিরন্তন আহ্বান

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০৪

বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি একই সঙ্গে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক ও সমাজসংস্কারক। তাঁকে শুধু “বিদ্রোহী কবি” বললে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না;... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×