somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নরসুন্দার শ্রেষ্ঠ কীর্তি

০২ রা এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“কবীরের সাথে আমার পরিচয় ডিসেম্বরের ১০ তারিখে ,এক কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে । তখন বেশ শীত পড়েছে । সূর্য উঠে তো উঠে না এই অবস্থা । আমি তখন কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি । হোস্টেলে থাকার ইচ্ছে ছিল কিন্তু ওখানে নাকি বেশ কড়াকড়ি যা আমার একেবারেই অসহ্য । অগত্যা চার বান্ধবী মিলে কলেজের সামনেই একটা বাসা ভাড়া নিতে হলো । সেদিন একটা চাদর কিনব বলে সোয়েটার গায়ে চেপে বাসা থেকে বের হলাম । বাসার গেট পেরিয়ে মূল রাস্তার ডানদিকে একটা চায়ের দোকান । সেখানে মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে চা খাচ্ছিল তিনটা ছেলে । আমি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম । ওদের মধ্যে একজন আচমকা সামনে এসে দাঁড়াল ।

‘আমার নাম কবীর । নামটা জানা থাকা দরকার ।’ নিতান্তই স্বাভাবিকভাবে বলল ।

দোকানদারসহ অন্য দুজনও হো হো করে হেসে ওঠল । আমার মধ্যে ভয়ডর কমই কাজ করে,তবে বেশ খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম । কোনো কিছু বলা উচিত হবে কি না বুঝতে পারছি না । কোনো প্রশ্নতো সে করে নি । তারপরও বললাম,

‘জ্বী,মনে থাকবে ।’

‘আরেকটা কথা জানা দরকার ।’ মুখে চাপা হাসি ।

কী ?

‘আপনি অনেক সুন্দর ।’

আমি তার দিকে অল্প সময়ের জন্য তাকালাম । সুঠাম দেহের বেশ সুদর্শন এক ছেলে । আকর্ষণীয় একজোড়া চোখ । একটা লাজুক হাসির রেখা চিবুকের কাছে এসে বারবার হারিয়ে যাচ্ছে ।

‘ধন্যবাদ ।’ বলেই আমি আমার গন্তব্যে রওনা দিলাম ।

দু’দিন পর বিকেলবেলায় আবার দেখা রথকলা মার্কেটে ।

‘নিলুফা,আপনার সাথে আমার কথা আছে ।’ তাকে বেশ অস্থির দেখাল।

‘আপনি আমার নাম জানেন !’ আমি যারপরনাই অবাক ।

জ্বী,জানি । কীভাবে জানি জিজ্ঞেস করবেন না । আমি অল্প কথার মানুষ । আপনার সাথে আমার সত্যিই কিছু কথা আছে ।’

‘বলুন’

‘সবার সামনে বলা যাবে না ।’

‘ঠিক আছে,ব্রিজটার কাছে চলুন।’

ব্রিজটা নরসুন্দা নদীর ওপর । শান্ত,সুন্দর এক নদী যার বুকে স্বচ্চ জলধারা অবিরাম বয়ে চলে,শীতকালেও খুব একটা ব্যতিক্রম হয় না । আমরা ব্রিজের ওপর দাঁড়ালাম ।

‘আমি ভণিতা পছন্দ করি না । তাই সরাসরিই বলছি – আমি আপনাকে ভালোবাসি,আমাকেও ভালোবাসতে হবে ।’

যেন মামাবাড়ির আবদার ! মনে হলো,আমি অবাক হবারও শক্তি হারালাম । একটা ছেলের এত সাহস হয় কী করে ভেবে পাচ্ছিলাম না । এমন অদ্ভুত সময়ের মুখোমুখি হই নি জীবনে । বুঝতে পারছি আমি রেগে যাচ্ছি ।

‘আমি আপনাকে চিনি না,জানি না ! বললেই হলো নাকি ? ভালোবাসা কি ছেলের হাতের মোয়া ?’

‘দেখো,তোমাকে আমার পেতেই হবে । তোমার আগে কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকাই নাই,এসব ছাইপাশ প্রেম-টেম নিয়ে ভাবার সময়ও আমার ছিল না । কিন্তু তোমাকে দেখার পর.....সত্যি বলতে,আমি আসলে ওইদিনই বলতে চাইছিলাম ।’

একেবারে বিনা অনুমতিতে ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ ! আর বলার ভঙ্গি কী ! যেন কিছুই হয় নি,যখনতখন যে কাউকে ভালোবাসার কথা বলে ফেলা যায় ! আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলাম । কড়া করে কিছু কথা বলা দরকার,কিন্তু তার দিকে তাকিয়ে কেন যেন বলতে পারলাম না । ছেলেটা গভীর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । সে চোখে ভালোবাসার আকুতি স্পষ্ট ।

‘আমি এখন আসি ।’

‘কাল তাহলে দেখা হচ্ছে ?’

‘মানে!!’

‘মানে,কাল তুমি আসবে গুরুদয়াল কলেজের দিকটায় । নদীর পাড়ে বসে আলাপ করব । আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওখানে থাকব,তুমি ওই সময়ের মধ্যে এসো,ঠিক আছে? ভালো কথা,ভালোবাসার কথা তো বলে ফেললাম,জানি আজ রাত তুমি এটা নিয়ে ভাববে । তাই আমার সম্পর্কে কিছু তথ্য না দিলেই না । নামতো আগেই বলেছিলাম,মনে আছে ? আবার বলছি,নাম কবীর । গুরুদয়াল কলেজে বাংলায় অনার্স পড়ছি,থার্ড ইয়ার । রাজনীতি করি,কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস । বাবা-মার একমাত্র ছেলে । বাবা ব্যবসায়ী,বাসা আখড়াবাজার । তুমি সুখী হবে ।’

একদমে বলে গেল সে । শেষের কথাটা শুনে হাসি পেল । কিন্তু হাসলে সে অন্য কিছু ভাবতে পারে ভেবে হাসি আটকালাম । কী বলব বুঝতে পারছিলাম না । কিছুক্ষণ নিথর দাঁড়িয়ে থাকার পর সে-ই মৌনতা ভাঙল ।

‘ঠিক আছে,আমি এখন আসি ।’ বলেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঝড়ের বেগে অদৃশ্য হলো । আমি নদীটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ । কেন যেন কাঁদতে ইচ্ছে করছে । এদেশের একটা ছেলে কী সহজেই না একটা মেয়ের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলে দিতে পারে যে সে তাকেই বিয়ে করবে ! জীবনসঙ্গী বাছাই করার কোনো এখতিয়ার যেন মেয়ের নাই । একবুক বিষণ্নতা নিয়ে বাসায় ফিরে বান্ধবীদেরকে পুরো ব্যাপারটা খুলে বললাম । শুনে তারা দেখি মহাখুশি । এদের একজন কলি দেখি আবার কবীরকে চেনেও । সে নাকি কোনোদিন কোনো মেয়েকে পাত্তা দেয় নাই,সিগারেট,মদজাতীয় কোনো বাজে নেশা নাই,আচার-আচরণে বেশ ভালো ছেলে ইত্যাদি নানা গুণগান । আমি বিরক্ত হলাম । রাতে বিছানায় শুয়ে চোখ বুজার পর বুঝতে পারলাম ছেলেটা আমার ভিতরে জায়গা করে নিয়েছে । তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটা হলো সাহস । এটাই বারবার কাছে টানছে । একটু যে ঘুমাব তারও উপায় নাই । তাহলে আমাকে পটানো এত সহজ ! স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম । সকাল দশটার দিকে বাসা থেকে বের হলাম গুরুদয়াল কলেজের উদ্দেশে । একটা রিকশা নিয়ে যেই ওঠতে যাব,অমনি পিছন থেকে কবীর এসে রিকশা থামালো ।

‘নামো,মোটরসাইকেল আছে।’ সে আমাকে অবাক করেই যাচ্ছে।

আমি কোনো কথা না বলে রিকশা থেকে নেমে ওর মোটরসাইকেলে ওঠলাম । কী হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না,যেন আমি জাগতিক খেয়ালের বাইরে । ও আমাকে নিয়ে গেল শোলাকিয়ার দিকটায়,নরসুন্দার পাড়ে । বেশ সুন্দর ঢেউ জেগেছে নদীর স্বচ্চ পানিতে । কয়েকটা নৌকা ছুটে চলেছে । আমি একদৃষ্টিতে ওদিকে তাকিয়ে আছি ।

‘নৌকায় ওঠবে ?’ সে নীরবতা ভাঙল ।

‘না । আমি আসলে ঠিক বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে । আসলে এভাবে কি প্রেম হয় ?’

‘খুব হয়। শোনো,ভালো তো তুমি জীবনে কাউকে না কাউকে বাসবেই,তাই না ? তো সেই ব্যক্তিটা আমি ছাড়া আর কে ! গতরাতে তো আমাকেই নিয়েই স্বপ্ন দেখেছ,ঠিক বলি নাই ?’

একটা মানুষ কীভাবে এত অকপটে এমন কথা বলতে পারে ভেবে পাচ্ছিলাম না । আশ্চর্য ! আমি কিছুই ভাবতে পারছি না কেন? মাথার ভিতর ভাবনাগুলো কেমন যেন তালগোল পাকাচ্ছে । তবে একটা বুঝতে পারলাম,ও আমাকে খুব কাছের মানুষ ভাবছে । নয়ত এভাবে কথা বলা সম্ভব না । রাতে কী সিদ্ধান্ত নিলাম আর এখন আমি কী ভাবছি ! কেন সহজ হতে পারছি না ? নিজের আচরণে বিরক্ত হলাম । স্বাভাবিক আচরণ করা দরকার ।

‘চলুন,নৌকায় ওঠব ।’ কথায় স্বাভাবিকতার সুর আনতে সচেষ্ট হলাম ।

‘বলো কী ! তুমি কথা বলতে পারো !!’ ওর চোখেমুখে কপট বিস্ময় । আমি হেসে দিলাম । এই হাসিটাই আমার ভিতরের সব জড়তা নিমেষে শেষ করে দিলো । আমিও কম কীসে ! ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে নেমে আসলাম ।

‘কী হলো,নৌকায় ওঠাবে না ?’

আমার মুখে ‘তুমি’ শুনে ও কিছুটা চমকালো ।

‘অবশ্যই ওঠাব এবং তোমায় নিয়ে স্বপ্নের জগতে চলে যাব ।’ বলেই আমার হাত ধরে নৌকায় ওঠাল । ওর প্রথম স্পর্শে আমি ভীষণ শিহরিত হলাম । তারপর নৌকার ভিতরে বসে রাজ্যের গল্প । নদীর স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও ছুটে চললাম ভাটির দিকে । এভাবেই স্বপ্নের দিনগুলো কাটছিল । ইন্টারমিডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম । সব পুরুষই আসলে যে রকম হয় আর কী,প্রেমিকার সাথে বউয়ের মত আচরণ করতে চায় । কবীরও ব্যতিক্রম না,তবে আমি চাচ্ছিলাম না ও রকম কিছু হোক । ওকে আমি প্রচণ্ড বিশ্বাস করি এবং এটাই আমার বড় শক্তি । পরীক্ষা শেষে বিয়ের জন্য বেচারার যেন তর সইছিল না !

‘চলো,আজই বিয়ে করে ফেলি।’ এক সকালে কথাটা সে নয়,আমিই বললাম ।

সে কোনো কথা না বলে আমার হাত ধরে সোজা কাজী অফিসে নিয়ে চলল । বাবা-মাকে না জানিয়ে কিছুক্ষণ পরেই আমি ওর ‘স্ত্রী’ হয়ে গেলাম ! আশ্চর্য ! জীবনের এত জটিল একটা বিষয়,অথচ তার শুরুর আনুষ্ঠানিকতা এতটা সহজ ! সেদিন সারাদিন আমরা ঘোরাঘুরি করলাম । কত কথা হলো,কিন্তু অবাক হলাম বাসর নিয়ে সে কিছুই বলল না । লজ্জার মাথা খেয়ে আমিই প্রসঙ্গটা ওঠালাম,তবে একটু ঘুরিয়ে ।

‘আজ রাতে আমরা কোথায় থাকব ?’

‘আরে,আমার ভাবনা তো একমাত্র সেটাই !’ ওর চোখেমুখে দুষ্টুমির রেখা । ‘তবে বাসরটা হবে কোথায় ভেবে পাচ্ছি না । বাসায় তো যাওয়া যাবে না । নিলু,চলো আজ আমরা একটা বড় নৌকায় থাকি ।’

শুনে আমার কান্না পেল । বাসর নিয়ে প্রত্যেক মেয়েরই কত স্বপ্ন থাকে । কিন্তু জানি,আমি মন খারাপ করলে ও কষ্ট পাবে ।

‘ঠিক আছে । আমাদের বাসর নৌকায়ই হোক ।’ কপট হাসলাম।

সে রাতে আকাশে চাঁদ ছিল । চাঁদের আলোতে নরসুন্দার রূপ আরও মোহনীয় লাগল । আমাদের বাসর হলো এক বিশাল নৌকার ভিতর । কবীর আমাকে নিয়ে গেল স্বপ্নের মধুর জগতে । আদর,ভালোবাসা অলংকার বানিয়ে সে আমার শরীরে পরিয়ে দিলো । সে রাতেই একটি প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টির সূচনা হলো ।

বিয়েটা তার পরিবার মেনে নিলেও আমার বাবা-মা মেনে নেয় নি । কবীর তখন কলেজের ভিপি,পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজ করে । সরকারি দলের রাজনীতি নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে । আমিও সংসার,শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি । দেড় বছর পর আমার কোলজুড়ে আসলো আমার নারীজীবনের স্বপ্ন,নাড়িছেঁড়া ধন – আমি একটা ফুটফুটে মেয়ের মা হলাম । মনে হলো,আমার জীবন আজ পরিপূর্ণ । তার বাবা দেখি আনন্দে আত্মহারা । খুশিতে কী করবে বেচারা বুঝতে পারছে না ! মেয়েকে জড়িয়ে ধরে তার সে কী চুমু । সে মেয়ের নাম দিলো তুলি । তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে দেখে আমাদের দুজনের দিনের অর্ধেকটা সময় কেটে যায় । অথচ এই মেয়েটা আমার.............”

ব্যক্তিগত ডায়েরি ‘যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ’ তে এইটুকু লেখার পর নিলুফার চোখ জলে ভরে ওঠল । ফজরের নামায পড়ে তিনি ডায়েরি লিখতে বসেছিলেন । আজ তুলির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী । ওর বয়স ছিল ১৭ বছর । পড়ত হলিক্রস কলেজে । ওর বয়স যখন ৬ বছর,তখন কবীর সবচেয়ে কম বয়সে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন । এ সময় সারা শহরের অসম্ভব ক্ষমতাধর মানুষ বনে যান তিনি । পুরো প্রশাসন তখন তার নিজের নিয়ন্ত্রণে । সরকারি-বেসরকারি এমন কোনো জায়গা নেই,যেখানে তিনি দুর্নীতি করেন নি । শহরের ভিতর বয়ে চলা নরসুন্দা নদীর দুই পাড় দখল করে করে নদীটাকে মোটামুটি একটা খালের আকার দিয়েছেন । পাড়ের সরকারি খাস জমি দখল করে তাড়াতাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন যাতে পরবর্তীতে খুব বেশি ঝামেলা না পোহাতে হয় । আস্তে আস্তে মানুষ নদীটাকে বিশাল ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে । কচুরিপানা,টোপাপানায় ভরে যায় একসময়ের প্রমত্তা নরসুন্দা । ওপর থেকে দেখলে শহরের বুকে একটা দীর্ঘ মাঠ বলে ভ্রম হয় । কবীর সাহেব টানা ১০ বছর মেয়র পদে ছিলেন দু’বার নির্বাচিত হয়ে । এর মধ্যে নরসুন্দা পুনঃসংস্কারের জন্য সরকারি বাজেটের পুরো টাকাটাই তিনি পকেটস্থ করেন । তৃতীয়বার নির্বাচনে লড়ে তিনি হেরে যান । এরপর স্ত্রী আর দুই সন্তান – তুলি ও দিব্যকে নিয়ে তিনি ঢাকার খিলগাঁওয়ে স্থায়ী হন । দিব্যর বয়স বারো বছর,পড়ে আইডিয়াল স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ।

এক বছর আগে আজকের দিনটিতে তুলি চার বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ শহরে । পাগলা মসজিদের দিকটায় নরসুন্দার চিপা অংশটিতে একটা সুন্দর নৌকা দেখে তারা হুড়হুড় করে ওঠে বসলো । তুলির বান্ধবী লোপা হলো তাদের মধ্যে মহাদুষ্টু । সে মাঝিকে নৌকা থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজেই বৈঠা ধরল । অনভ্যস্ত হাতে সে নৌকা নিয়ে চলল গুরুদয়াল কলেজের দিকটায় যেখানে কচুরিপানা,টোপাপানায় ভরা । কুচকুচে কালোয় বিষাক্ত নদীর পানি কেমন যেন নিথর। হঠাৎ প্রচণ্ড বাতাস এসে লোপাকে এলোমেলো করে দিলো । নৌকাটা একটু কেঁপে ওঠল । ওরা ভয়ে কাঁপতে লাগল । এতে নৌকাটা ভয়াবহ রকমভাবে ঝাঁকুনি খেল । মুহূর্তেই নৌকা উল্টে সবাই পানিয়ে পড়ে গেল । হাবুডুবু খেতে খেতে তারা মরণ-চিৎকার করছিল । তাদের আর্তচিৎকার শুনে কচুরিপানার স্তূপ ছাড়িয়ে চারপাশের মানুষজন তাদেরকে উদ্ধার করতে করতে বেশ সময় লেগে গেল । অন্যরা বাঁচলেও তুলি খুব ভালো সাঁতার জানত না বলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় নি ।

আজ মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকী বলে কবীর সাহেব কোথাও যান নি । দিব্যর আজ বাংলা পরীক্ষা । স্কুল থেকে ফিরল সে বিষণ্নমুখে ।

‘পরীক্ষা কেমন হয়েছে ?’ বাবা সস্নেহে জিজ্ঞেস করলেন ।

‘ভালো না,রচনাটা দিতে পারি নি । বুঝতে পারছিলাম না,তাই ।’ ছেলের ভয়ার্ত উত্তর ।

‘কী রচনা ?’

‘একটি নদীর আত্মকাহিনি ।’

শুনে কবীর সাহেব কিছু বললেন না । তিনি প্রচণ্ডভাবে ঘামতে শুরু করলেন । একটা অস্পষ্ট আওয়াজ তিনি শুনতে পেলেন,

‘নরসুন্দা মানুষ মেরে প্রমাণ করেছে সে মরে নি ।’
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×