“কবীরের সাথে আমার পরিচয় ডিসেম্বরের ১০ তারিখে ,এক কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে । তখন বেশ শীত পড়েছে । সূর্য উঠে তো উঠে না এই অবস্থা । আমি তখন কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি । হোস্টেলে থাকার ইচ্ছে ছিল কিন্তু ওখানে নাকি বেশ কড়াকড়ি যা আমার একেবারেই অসহ্য । অগত্যা চার বান্ধবী মিলে কলেজের সামনেই একটা বাসা ভাড়া নিতে হলো । সেদিন একটা চাদর কিনব বলে সোয়েটার গায়ে চেপে বাসা থেকে বের হলাম । বাসার গেট পেরিয়ে মূল রাস্তার ডানদিকে একটা চায়ের দোকান । সেখানে মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে চা খাচ্ছিল তিনটা ছেলে । আমি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম । ওদের মধ্যে একজন আচমকা সামনে এসে দাঁড়াল ।
‘আমার নাম কবীর । নামটা জানা থাকা দরকার ।’ নিতান্তই স্বাভাবিকভাবে বলল ।
দোকানদারসহ অন্য দুজনও হো হো করে হেসে ওঠল । আমার মধ্যে ভয়ডর কমই কাজ করে,তবে বেশ খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম । কোনো কিছু বলা উচিত হবে কি না বুঝতে পারছি না । কোনো প্রশ্নতো সে করে নি । তারপরও বললাম,
‘জ্বী,মনে থাকবে ।’
‘আরেকটা কথা জানা দরকার ।’ মুখে চাপা হাসি ।
কী ?
‘আপনি অনেক সুন্দর ।’
আমি তার দিকে অল্প সময়ের জন্য তাকালাম । সুঠাম দেহের বেশ সুদর্শন এক ছেলে । আকর্ষণীয় একজোড়া চোখ । একটা লাজুক হাসির রেখা চিবুকের কাছে এসে বারবার হারিয়ে যাচ্ছে ।
‘ধন্যবাদ ।’ বলেই আমি আমার গন্তব্যে রওনা দিলাম ।
দু’দিন পর বিকেলবেলায় আবার দেখা রথকলা মার্কেটে ।
‘নিলুফা,আপনার সাথে আমার কথা আছে ।’ তাকে বেশ অস্থির দেখাল।
‘আপনি আমার নাম জানেন !’ আমি যারপরনাই অবাক ।
জ্বী,জানি । কীভাবে জানি জিজ্ঞেস করবেন না । আমি অল্প কথার মানুষ । আপনার সাথে আমার সত্যিই কিছু কথা আছে ।’
‘বলুন’
‘সবার সামনে বলা যাবে না ।’
‘ঠিক আছে,ব্রিজটার কাছে চলুন।’
ব্রিজটা নরসুন্দা নদীর ওপর । শান্ত,সুন্দর এক নদী যার বুকে স্বচ্চ জলধারা অবিরাম বয়ে চলে,শীতকালেও খুব একটা ব্যতিক্রম হয় না । আমরা ব্রিজের ওপর দাঁড়ালাম ।
‘আমি ভণিতা পছন্দ করি না । তাই সরাসরিই বলছি – আমি আপনাকে ভালোবাসি,আমাকেও ভালোবাসতে হবে ।’
যেন মামাবাড়ির আবদার ! মনে হলো,আমি অবাক হবারও শক্তি হারালাম । একটা ছেলের এত সাহস হয় কী করে ভেবে পাচ্ছিলাম না । এমন অদ্ভুত সময়ের মুখোমুখি হই নি জীবনে । বুঝতে পারছি আমি রেগে যাচ্ছি ।
‘আমি আপনাকে চিনি না,জানি না ! বললেই হলো নাকি ? ভালোবাসা কি ছেলের হাতের মোয়া ?’
‘দেখো,তোমাকে আমার পেতেই হবে । তোমার আগে কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকাই নাই,এসব ছাইপাশ প্রেম-টেম নিয়ে ভাবার সময়ও আমার ছিল না । কিন্তু তোমাকে দেখার পর.....সত্যি বলতে,আমি আসলে ওইদিনই বলতে চাইছিলাম ।’
একেবারে বিনা অনুমতিতে ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ ! আর বলার ভঙ্গি কী ! যেন কিছুই হয় নি,যখনতখন যে কাউকে ভালোবাসার কথা বলে ফেলা যায় ! আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলাম । কড়া করে কিছু কথা বলা দরকার,কিন্তু তার দিকে তাকিয়ে কেন যেন বলতে পারলাম না । ছেলেটা গভীর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । সে চোখে ভালোবাসার আকুতি স্পষ্ট ।
‘আমি এখন আসি ।’
‘কাল তাহলে দেখা হচ্ছে ?’
‘মানে!!’
‘মানে,কাল তুমি আসবে গুরুদয়াল কলেজের দিকটায় । নদীর পাড়ে বসে আলাপ করব । আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওখানে থাকব,তুমি ওই সময়ের মধ্যে এসো,ঠিক আছে? ভালো কথা,ভালোবাসার কথা তো বলে ফেললাম,জানি আজ রাত তুমি এটা নিয়ে ভাববে । তাই আমার সম্পর্কে কিছু তথ্য না দিলেই না । নামতো আগেই বলেছিলাম,মনে আছে ? আবার বলছি,নাম কবীর । গুরুদয়াল কলেজে বাংলায় অনার্স পড়ছি,থার্ড ইয়ার । রাজনীতি করি,কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস । বাবা-মার একমাত্র ছেলে । বাবা ব্যবসায়ী,বাসা আখড়াবাজার । তুমি সুখী হবে ।’
একদমে বলে গেল সে । শেষের কথাটা শুনে হাসি পেল । কিন্তু হাসলে সে অন্য কিছু ভাবতে পারে ভেবে হাসি আটকালাম । কী বলব বুঝতে পারছিলাম না । কিছুক্ষণ নিথর দাঁড়িয়ে থাকার পর সে-ই মৌনতা ভাঙল ।
‘ঠিক আছে,আমি এখন আসি ।’ বলেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঝড়ের বেগে অদৃশ্য হলো । আমি নদীটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ । কেন যেন কাঁদতে ইচ্ছে করছে । এদেশের একটা ছেলে কী সহজেই না একটা মেয়ের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলে দিতে পারে যে সে তাকেই বিয়ে করবে ! জীবনসঙ্গী বাছাই করার কোনো এখতিয়ার যেন মেয়ের নাই । একবুক বিষণ্নতা নিয়ে বাসায় ফিরে বান্ধবীদেরকে পুরো ব্যাপারটা খুলে বললাম । শুনে তারা দেখি মহাখুশি । এদের একজন কলি দেখি আবার কবীরকে চেনেও । সে নাকি কোনোদিন কোনো মেয়েকে পাত্তা দেয় নাই,সিগারেট,মদজাতীয় কোনো বাজে নেশা নাই,আচার-আচরণে বেশ ভালো ছেলে ইত্যাদি নানা গুণগান । আমি বিরক্ত হলাম । রাতে বিছানায় শুয়ে চোখ বুজার পর বুঝতে পারলাম ছেলেটা আমার ভিতরে জায়গা করে নিয়েছে । তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটা হলো সাহস । এটাই বারবার কাছে টানছে । একটু যে ঘুমাব তারও উপায় নাই । তাহলে আমাকে পটানো এত সহজ ! স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম । সকাল দশটার দিকে বাসা থেকে বের হলাম গুরুদয়াল কলেজের উদ্দেশে । একটা রিকশা নিয়ে যেই ওঠতে যাব,অমনি পিছন থেকে কবীর এসে রিকশা থামালো ।
‘নামো,মোটরসাইকেল আছে।’ সে আমাকে অবাক করেই যাচ্ছে।
আমি কোনো কথা না বলে রিকশা থেকে নেমে ওর মোটরসাইকেলে ওঠলাম । কী হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না,যেন আমি জাগতিক খেয়ালের বাইরে । ও আমাকে নিয়ে গেল শোলাকিয়ার দিকটায়,নরসুন্দার পাড়ে । বেশ সুন্দর ঢেউ জেগেছে নদীর স্বচ্চ পানিতে । কয়েকটা নৌকা ছুটে চলেছে । আমি একদৃষ্টিতে ওদিকে তাকিয়ে আছি ।
‘নৌকায় ওঠবে ?’ সে নীরবতা ভাঙল ।
‘না । আমি আসলে ঠিক বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে । আসলে এভাবে কি প্রেম হয় ?’
‘খুব হয়। শোনো,ভালো তো তুমি জীবনে কাউকে না কাউকে বাসবেই,তাই না ? তো সেই ব্যক্তিটা আমি ছাড়া আর কে ! গতরাতে তো আমাকেই নিয়েই স্বপ্ন দেখেছ,ঠিক বলি নাই ?’
একটা মানুষ কীভাবে এত অকপটে এমন কথা বলতে পারে ভেবে পাচ্ছিলাম না । আশ্চর্য ! আমি কিছুই ভাবতে পারছি না কেন? মাথার ভিতর ভাবনাগুলো কেমন যেন তালগোল পাকাচ্ছে । তবে একটা বুঝতে পারলাম,ও আমাকে খুব কাছের মানুষ ভাবছে । নয়ত এভাবে কথা বলা সম্ভব না । রাতে কী সিদ্ধান্ত নিলাম আর এখন আমি কী ভাবছি ! কেন সহজ হতে পারছি না ? নিজের আচরণে বিরক্ত হলাম । স্বাভাবিক আচরণ করা দরকার ।
‘চলুন,নৌকায় ওঠব ।’ কথায় স্বাভাবিকতার সুর আনতে সচেষ্ট হলাম ।
‘বলো কী ! তুমি কথা বলতে পারো !!’ ওর চোখেমুখে কপট বিস্ময় । আমি হেসে দিলাম । এই হাসিটাই আমার ভিতরের সব জড়তা নিমেষে শেষ করে দিলো । আমিও কম কীসে ! ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে নেমে আসলাম ।
‘কী হলো,নৌকায় ওঠাবে না ?’
আমার মুখে ‘তুমি’ শুনে ও কিছুটা চমকালো ।
‘অবশ্যই ওঠাব এবং তোমায় নিয়ে স্বপ্নের জগতে চলে যাব ।’ বলেই আমার হাত ধরে নৌকায় ওঠাল । ওর প্রথম স্পর্শে আমি ভীষণ শিহরিত হলাম । তারপর নৌকার ভিতরে বসে রাজ্যের গল্প । নদীর স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও ছুটে চললাম ভাটির দিকে । এভাবেই স্বপ্নের দিনগুলো কাটছিল । ইন্টারমিডিয়েট ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম । সব পুরুষই আসলে যে রকম হয় আর কী,প্রেমিকার সাথে বউয়ের মত আচরণ করতে চায় । কবীরও ব্যতিক্রম না,তবে আমি চাচ্ছিলাম না ও রকম কিছু হোক । ওকে আমি প্রচণ্ড বিশ্বাস করি এবং এটাই আমার বড় শক্তি । পরীক্ষা শেষে বিয়ের জন্য বেচারার যেন তর সইছিল না !
‘চলো,আজই বিয়ে করে ফেলি।’ এক সকালে কথাটা সে নয়,আমিই বললাম ।
সে কোনো কথা না বলে আমার হাত ধরে সোজা কাজী অফিসে নিয়ে চলল । বাবা-মাকে না জানিয়ে কিছুক্ষণ পরেই আমি ওর ‘স্ত্রী’ হয়ে গেলাম ! আশ্চর্য ! জীবনের এত জটিল একটা বিষয়,অথচ তার শুরুর আনুষ্ঠানিকতা এতটা সহজ ! সেদিন সারাদিন আমরা ঘোরাঘুরি করলাম । কত কথা হলো,কিন্তু অবাক হলাম বাসর নিয়ে সে কিছুই বলল না । লজ্জার মাথা খেয়ে আমিই প্রসঙ্গটা ওঠালাম,তবে একটু ঘুরিয়ে ।
‘আজ রাতে আমরা কোথায় থাকব ?’
‘আরে,আমার ভাবনা তো একমাত্র সেটাই !’ ওর চোখেমুখে দুষ্টুমির রেখা । ‘তবে বাসরটা হবে কোথায় ভেবে পাচ্ছি না । বাসায় তো যাওয়া যাবে না । নিলু,চলো আজ আমরা একটা বড় নৌকায় থাকি ।’
শুনে আমার কান্না পেল । বাসর নিয়ে প্রত্যেক মেয়েরই কত স্বপ্ন থাকে । কিন্তু জানি,আমি মন খারাপ করলে ও কষ্ট পাবে ।
‘ঠিক আছে । আমাদের বাসর নৌকায়ই হোক ।’ কপট হাসলাম।
সে রাতে আকাশে চাঁদ ছিল । চাঁদের আলোতে নরসুন্দার রূপ আরও মোহনীয় লাগল । আমাদের বাসর হলো এক বিশাল নৌকার ভিতর । কবীর আমাকে নিয়ে গেল স্বপ্নের মধুর জগতে । আদর,ভালোবাসা অলংকার বানিয়ে সে আমার শরীরে পরিয়ে দিলো । সে রাতেই একটি প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টির সূচনা হলো ।
বিয়েটা তার পরিবার মেনে নিলেও আমার বাবা-মা মেনে নেয় নি । কবীর তখন কলেজের ভিপি,পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজ করে । সরকারি দলের রাজনীতি নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে । আমিও সংসার,শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি । দেড় বছর পর আমার কোলজুড়ে আসলো আমার নারীজীবনের স্বপ্ন,নাড়িছেঁড়া ধন – আমি একটা ফুটফুটে মেয়ের মা হলাম । মনে হলো,আমার জীবন আজ পরিপূর্ণ । তার বাবা দেখি আনন্দে আত্মহারা । খুশিতে কী করবে বেচারা বুঝতে পারছে না ! মেয়েকে জড়িয়ে ধরে তার সে কী চুমু । সে মেয়ের নাম দিলো তুলি । তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে দেখে আমাদের দুজনের দিনের অর্ধেকটা সময় কেটে যায় । অথচ এই মেয়েটা আমার.............”
ব্যক্তিগত ডায়েরি ‘যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ’ তে এইটুকু লেখার পর নিলুফার চোখ জলে ভরে ওঠল । ফজরের নামায পড়ে তিনি ডায়েরি লিখতে বসেছিলেন । আজ তুলির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী । ওর বয়স ছিল ১৭ বছর । পড়ত হলিক্রস কলেজে । ওর বয়স যখন ৬ বছর,তখন কবীর সবচেয়ে কম বয়সে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন । এ সময় সারা শহরের অসম্ভব ক্ষমতাধর মানুষ বনে যান তিনি । পুরো প্রশাসন তখন তার নিজের নিয়ন্ত্রণে । সরকারি-বেসরকারি এমন কোনো জায়গা নেই,যেখানে তিনি দুর্নীতি করেন নি । শহরের ভিতর বয়ে চলা নরসুন্দা নদীর দুই পাড় দখল করে করে নদীটাকে মোটামুটি একটা খালের আকার দিয়েছেন । পাড়ের সরকারি খাস জমি দখল করে তাড়াতাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন যাতে পরবর্তীতে খুব বেশি ঝামেলা না পোহাতে হয় । আস্তে আস্তে মানুষ নদীটাকে বিশাল ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে । কচুরিপানা,টোপাপানায় ভরে যায় একসময়ের প্রমত্তা নরসুন্দা । ওপর থেকে দেখলে শহরের বুকে একটা দীর্ঘ মাঠ বলে ভ্রম হয় । কবীর সাহেব টানা ১০ বছর মেয়র পদে ছিলেন দু’বার নির্বাচিত হয়ে । এর মধ্যে নরসুন্দা পুনঃসংস্কারের জন্য সরকারি বাজেটের পুরো টাকাটাই তিনি পকেটস্থ করেন । তৃতীয়বার নির্বাচনে লড়ে তিনি হেরে যান । এরপর স্ত্রী আর দুই সন্তান – তুলি ও দিব্যকে নিয়ে তিনি ঢাকার খিলগাঁওয়ে স্থায়ী হন । দিব্যর বয়স বারো বছর,পড়ে আইডিয়াল স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ।
এক বছর আগে আজকের দিনটিতে তুলি চার বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ শহরে । পাগলা মসজিদের দিকটায় নরসুন্দার চিপা অংশটিতে একটা সুন্দর নৌকা দেখে তারা হুড়হুড় করে ওঠে বসলো । তুলির বান্ধবী লোপা হলো তাদের মধ্যে মহাদুষ্টু । সে মাঝিকে নৌকা থেকে নামিয়ে দিয়ে নিজেই বৈঠা ধরল । অনভ্যস্ত হাতে সে নৌকা নিয়ে চলল গুরুদয়াল কলেজের দিকটায় যেখানে কচুরিপানা,টোপাপানায় ভরা । কুচকুচে কালোয় বিষাক্ত নদীর পানি কেমন যেন নিথর। হঠাৎ প্রচণ্ড বাতাস এসে লোপাকে এলোমেলো করে দিলো । নৌকাটা একটু কেঁপে ওঠল । ওরা ভয়ে কাঁপতে লাগল । এতে নৌকাটা ভয়াবহ রকমভাবে ঝাঁকুনি খেল । মুহূর্তেই নৌকা উল্টে সবাই পানিয়ে পড়ে গেল । হাবুডুবু খেতে খেতে তারা মরণ-চিৎকার করছিল । তাদের আর্তচিৎকার শুনে কচুরিপানার স্তূপ ছাড়িয়ে চারপাশের মানুষজন তাদেরকে উদ্ধার করতে করতে বেশ সময় লেগে গেল । অন্যরা বাঁচলেও তুলি খুব ভালো সাঁতার জানত না বলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় নি ।
আজ মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকী বলে কবীর সাহেব কোথাও যান নি । দিব্যর আজ বাংলা পরীক্ষা । স্কুল থেকে ফিরল সে বিষণ্নমুখে ।
‘পরীক্ষা কেমন হয়েছে ?’ বাবা সস্নেহে জিজ্ঞেস করলেন ।
‘ভালো না,রচনাটা দিতে পারি নি । বুঝতে পারছিলাম না,তাই ।’ ছেলের ভয়ার্ত উত্তর ।
‘কী রচনা ?’
‘একটি নদীর আত্মকাহিনি ।’
শুনে কবীর সাহেব কিছু বললেন না । তিনি প্রচণ্ডভাবে ঘামতে শুরু করলেন । একটা অস্পষ্ট আওয়াজ তিনি শুনতে পেলেন,
‘নরসুন্দা মানুষ মেরে প্রমাণ করেছে সে মরে নি ।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


