somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

প্রসন্ন বাতায়ন - একটি পর্বভিত্তিক গল্প - ৪র্থ ও শেষ পর্ব

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা আগের তিনটি পর্বই মিস করেছেন, তাদের জন্য পর্ব তিনটির লিংক দেওয়া হলোঃ প্রসন্ন বাতায়ন - একটি পর্বভিত্তিক গল্প - ১ম পর্ব, প্রসন্ন বাতায়ন - একটি পর্বভিত্তিক গল্প - ২য় পর্ব এবং প্রসন্ন বাতায়ন - একটি পর্বভিত্তিক গল্প - ৩য় পর্ব

৩য় পর্ব শেষে -

- খাবারের অর্ডার করেছেন ?
- না মানে, তোমার কি পছন্দ, তা না জেনে কিভাবে...
- ওহ, তাইলে আপনি দেখছি আমার পছন্দ-অপছন্দের কিছুই জানেন না
- ইয়ে মানে...
- তাও তো দেখি ঠিক জানেন গোলাপ আমার প্রিয় ফুল !!
- মানে ?
- এত মানে মানে করবেন না তো !! বিরক্ত লাগে । তার চেয়ে বরং খাবার অর্ডার করেন, আগে খাওয়া, পরে কথা

রাফিয়া যেভাবে খাওয়ার কথা বলছে সৌহার্দ্যের মনে হচ্ছে মেয়েটা অনেকদিন ধরে না খেয়ে আছে । আচ্ছা আসলেই কি মেয়েটা এরকম খাই খাই করে ?! কি জানি, হয়তো করে, আবার হয়তো করে না । কিছুক্ষণ চুপ থেকে সৌহার্দ্য রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

- কি খাবে, বলো ?
- দাঁড়ান, আমি নিজেই অর্ডার দিচ্ছি । এই যে ওয়েটার ভাইয়া এদিকে একটু আসেন তো

রাফিয়ার ডাক শুনে ডেস্কের পাশে দাড়িয়ে থাকা একজন ইউনিফর্মধারী ওয়েটার কাগজ-কলম নিয়ে খাবারের অর্ডার নিতে আসলো । টেবিলে আগে থেকেই একটা মেন্যু কার্ড ছিল । সেখান থেকে পড়ে রাফিয়া রাইস, ভেজিটেবল, দুই পিস বিফ, দুই পিস রেজালা আর দুইটা কোল্ড ড্রিংকস্‌ অর্ডার করলো । ওয়েটার অর্ডার নিয়ে চলে যেতেই সৌহার্দ্য রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো, বাহবা !! এ তো দেখছি মস্ত বড় খাদক !! সৌহার্দ্যের এই মনের কথা রাফিয়া শুনতে পারলে হয়তো সত্যি তুলকালাম বাঁধতো । খানিকক্ষণ নীরবতা ভেঙে রাফিয়াই প্রথম কথা বলে উঠলো,

- নিঃসন্দেহে আমাকে বাচাল আর খাদক বলে মনে হচ্ছে আপনার, তাই না ?
- না, না, কই না তো !! এরকম মনে হবে কেন, আজব তো !!
- মনে হলেও কিছু করার নেই । আমি এরকমই ভালো আছি । আচ্ছা ভালো কথা, আপনি প্রতিদিন আমার বাড়ির সামনে কেন দাড়িয়ে থাকেন, বলেন তো !!
- না, ইয়ে মানে
- আবার মানে মানে করছেন ? আসলে কি চান আপনি ? আমার সাথে কথা বলতে চান নাকি আমাদের বাড়িতে আসতে চান নাকি মায়ের হাতে এক কাপ চা খেতে চান, কোনটা ? একটু ঝেরে কাশুন তো

রাফিয়া উপমাযুক্ত বাক্য বললেও এই কথা শুনে সৌহার্দ্য সত্যি সত্যি কেশে উঠলো, আর সেটা দেখে রাফিয়া হেসে দিলো । রাফিয়ার হাসি দেখে সৌহার্দ্যের নার্ভাসনেস একটু হালকা হলো । এবার সৌহার্দ্য-ই নীরবতা ভাঙ্গলো আগে,

- সত্যি করে বলবো ?
- ও মা, তাহলে কি মিথ্যা বলবেন ?
- আসলে তোমাকে এক নজর দেখার জন্য যাই
- আমাকে রোজ রোজ দেখার কি আছে ? আমি পরী নাকি সেলেব্রিটি ?
- আমার জন্য তো সবকিছুই

সৌহার্দ্য নিজেই যে এরকম কিছু বলে ফেলবে তা বুঝতে পারেনি, হঠাৎ মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে । তবে এই কথা বলামাত্রই রাফিয়া লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললো । সৌহার্দ্য আর দেরী না করে খপ করে রাফিয়ার হাত দুটি ধরে বসলো । ঘটনার আকস্মিকতায় রাফিয়া চমকে উঠলো । আরও খানিকটা লজ্জা এসে যোগ হলো রাফিয়ার আগের অবস্থার সাথে...

- হাত ধরলেন যে... ধরে রাখতে পারবেন তো ?

সৌহার্দ্যের বেশ সাহস চলে এসেছে ইতিমধ্যেই । সেও জবাব দিলো,

- খুব পারবো, ছাড়ার জন্য তো হাত ধরিনি
- হুম, হয়েছে, ডায়ালগ বন্ধ, এবার খাওয়া, তারপর ঘুরাঘুরি । আস্তে আস্তে আবদার মেটাতে মেটাতেই না ক্লান্ত হয়ে যান !!
- তোমার সব আবদার আমার কাছে হুকুম, মেনে নিতে তো বাধ্য আমি
- বাহ, কি ডায়ালগ !! মেয়ে পটাতে তো দেখছি জনাব একেবারেই ওস্তাদ
- হ্যাঁ, সে কি বললেই হলো !! তাই তো তোমার সামনাসামনি এসে এভাবে কথা বলতেই দুই মাসের বেশি লেগে গেলো, তাই না ?

সৌহার্দ্য এমন কথা বলে উঠতেই রাফিয়া আর সৌহার্দ্য দুইজনে মিলেই হেসে উঠলো । ওয়েটার খাবার নিয়ে এসেছে, রাফিয়া খাওয়া শুরু করে দিয়েছে কিন্তু সৌহার্দ্য খেতে পারছে না । তার কাছে মনে হচ্ছে সে স্বপ্নের জগতে আছে । মুগ্ধ, স্নিগ্ধ এবং অতি প্রসন্ন বাতায়নের মাঝে ডুবে আছে সে...
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৫২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×