somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গায়ে হলুদের প্রোগ্রামে একজন লেডি বাইকারের বাইক নিয়ে প্রবেশ এবং ভাইরাল নিউজ ও আমপাবলিকের সমালোচনা :|

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যশোর শহরের সার্কিট হাউস এলাকার মেয়ে ফারহানা আফরোজ ২০২০ সালের আগস্ট মাসের দিকে বেশ ভাইরাল হয়েছিলেন নিজ গায়ে হলুদের প্রোগ্রামে বাইক চালিয়ে যাওয়ার জন্য।



তিনি দীর্ঘদিন ঢাকাতে অবস্থান করার সুবাদে বাইক চালানো শিখেন এবং একজন লেডি বাইকার হিসেবে বন্ধুমহলে পরিচিত। তার কর্মকান্ড নিয়ে একদিকে যেমন প্রশংসার ঝড় বয়েছিল নারীবাদীদের পক্ষ থেকে, ঠিক তেমনি সমালোচনাও কম হয়নি। তিনি নিজে এতে বিরক্ত হয়ে "ভয়েস অব রাইটস" গ্রুপে নিজের অনূভুতিও তুলে ধরেন, যা পরবর্তীতে প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয় । যারা জানে না, তাদের জানিয়ে দিই, ফারহানা আফরোজ ২০১৭ সালেই পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেন এবং তিন বছর পর বড় পরিসরে বিয়ের আয়োজন করেন, ইতিমধ্যেই তিনি এক সন্তানের জননীও হয়েছেন । তার এই বিষয়টি প্রথম ভাইরাল করেন "এসকে মিডিয়া" নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলের সত্ত্বাধিকারি টিপু নামক একজন । ছবি ও নিউজ সর্বপ্রথম ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়তেই হু হু করে বাড়তে থাকে ভিউ, ফলশ্রুতিতে ভাইরাল হয়ে পড়ে নিউজটি । এই নিউজ দেখে এক দল প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এই সাহসী লেডি বাইকার কে আবার মুদ্রার অপর পিঠে এক দল কড়া সমালোচনাও করেছেন । কেন এই প্রশংসা কিংবা সমালোচনা, তা নিয়েই মূলত আজকে এই লেখাটি ।



আমি নিরপেক্ষভাবে নিজের মতামত তুলে ধরতে আসলাম, দুই পক্ষের হয়েই।

যারা শুধু প্রশংসা করেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য -

ক) তার পরিবারের সমস্যা না থাকলে সাধারণ জনগণের এত সমস্যা হলো কেন !? ইত্যাদি বলার আগে আপনার ভাবা দরকার ছিল যে তিনি বাইক নিয়ে শো ডাউন সাধারণ জনগণকে দেখাতেই করেছিলেন, শুধু পরিবারকে দেখাতে নয়
খ) ২০-২৫ টি বাইক নিয়ে শো ডাউন প্লাস ভীড় করার জন্য সেই সময়কার আইন (করোনা ভাইরাস মহামারীতে লকডডাউন উদ্ভুত সময়ে প্রণয়নকৃত আইনে অহেতুক ভীড়ে জরিমানা আদায়ের বিধান ছিল) অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা উচিত ছিল। তাছাড়া হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর অপরাধে তার ট্রাফিক আইন অনুযায়ী জরিমানা করা উচিত ছিল। আর জরিমানার কথা তখনই আসে, যখন কেউ অপরাধ করে, তাই নয় কি ?
গ) তার এবং তার সাথে চালানো বাইকগুলোর কয়টার লাইসেন্স ছিল, এটাতে আমি সন্দেহ হয়েছিল। এক্ষেত্রে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট কিংবা পুলিশের অবহেলা ছিল বলেই আমার অভিমত
ঘ) তিনি প্রচলিত গায়ে হলুদ প্রথা ভাংতে চেয়েছিলেন। আমি এই প্রথা ভাংগার বিরুদ্ধে নই। আমি বিরুদ্ধে, সেই করোনা ভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে এই শো ডাউনের। তিনি পথশিশুদের সাহায্য করে কিংবা নিন্মস্তরের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করার মাধ্যমেও শো ডাউন করতে পারতেন।
ঙ) তার নাম দেখলেই বুঝা যায় তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী। আর ইসলাম ধর্ম তাকে এই স্ট্যান্টবাজিতে সমর্থন করে না। এখন তিনি ইসলামকে মানবেন কি মানবেন না, এটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু রাস্তায় নেমে সাধারণ জনগণের সামনে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধচারিতা করলে অবশ্যই সাধারণ জনগণ কিছু বলার বা সমালোচনা করার অধিকার রাখে।



এবার আসি, যারা শুধু সমালোচনা করেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য -

ক) আপনি বা আমি জানি না, এই কাজটি করার সিদ্ধান্ত কি মেয়েটির একার নাকি পরিবারের। তাই অহেতুক পরিবারের নামে উল্টাপাল্টা কথা বা অপবাদ দেওয়া আপনার মোটেও উচিত হয়নি।
খ) ইসলাম যেমন মেয়েটিকে এই কাজের সমর্থন দেয়না, ঠিক তেমনি আপনাকেও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি, অশ্লীল বা কটু কথা বলার সমর্থন দেয়না। আপনি নিজে একটা অন্যায় করে আরেকটা অন্যায় কাজকে জাস্টিফাই করেন কিভাবে?!
গ) ট্রাফিক সার্জেন্ট কিংবা পুলিশের অবহেলার ভার শুধু এই মেয়েটির উপর বর্তায় না কিংবা তার সাথের বাইকারদের উপরও বর্তায় না
ঘ) একটি মেয়ে বাইক চালানো শিখবে, এটা ধর্মীয়, সামাজিক, জাতীয় ইত্যাদি কোন দৃষ্টিকোণ থেকেই অপরাধ নয়। বর্তমান দেশে মেয়েদের ছেলেদের পাশাপাশিই চলতে হয়। তাই "কেন মেয়েটি বাইক চালালো" ইত্যাদি জাতীয় কথাবার্তা বলা বন্ধ করুন।

এই ধরনের ঘটনা যে আলোচনা তৈরির জন্যই করা হয়েছিল, এটা স্পষ্ট। এখন আলোচনা শুরু হলে, মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ দুই পিঠই দেখা হবে, এটাই স্বাভাবিক। হয়তো মনে হতে পারে, এতদিন পর হঠাৎ এই প্রসঙ্গ আনা হলো কেন? হ্যা ঘটনাটা কিছুটা পুরনো কিন্তু আমাদের দেশীয় পরিস্থিতিতে মেয়ে কিংবা নারীদের উপর সমাজের অবহেলামিশ্রিত দৃষ্টিভঙ্গির একটি উৎকৃষ্ট উদাহারন এই ঘটনা । ফারহানা আফরোজ দের মত যারাই কিছুটা সাহস সঞ্চার করে নারীপুরুষ ভেদাভেদ ভুলে এই সমাজে কিছু করতে চায়, তখনই এই সমাজ সেই পদক্ষেপের প্রতি অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে । যেন নারীমাত্রই অবনমিত পর্যায়ে থাকতেই হবে, আর পুরুষরা থাকবে সিংহাসনের উপর । এরকম ভেদাভেদ ভুলতে না পারলে এই দেশ কখনই উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে যেতেই পারবে না, সম্ভবই না একেবারে
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৮
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×