somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবি ও মিলান উপাধ্যায় - বিদায় ক্ষণের ঘন্টা বাজে - পর্ব - ০২

০৪ ঠা জুলাই, ২০২৩ রাত ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই লেখার আগের পর্বটি পড়তে ঘুরে আসুন লিংকে দেওয়া পোস্টটি থেকে ।
ছবি ও মিলান উপাধ্যায় - বিদায় ক্ষণের ঘন্টা বাজে - পর্ব - ০১

ছবি জানে তাদের সম্পর্কের হয়তো আজকেই শেষদিন আবার হয়তো না কিন্তু তাদের সম্পর্কে অব্যক্ত থাকা কোন কথা ছবি রাখতে চায় না । কিন্তু মিলান কি নিয়ে বলছে ছবি ধরতে পারছে না । মিলানের করা হঠাৎ এই প্রশ্ন যেন ছবিকে কিছুটা অতীতে নিয়ে গেলো । ভাবনার সাগরে অব্যক্ত কথামালাগুলো এখন বেছে বেছে বের করার চেস্টা করছে ছবি । ছবিকে চুপ থাকতে দেখে মিলানও যেন খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে গেলো । আশ্চর্য, আজকে কেন জানি তাদের মধ্যকার কোন হাসির কোন স্মৃতি তার মনে পড়ছে না । অদূর ভবিষ্যতটুকু কেমন জানি নিদারুণ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে মিলানের । আচ্ছা, মিলান কি কখনও তার ভবিষ্যৎ ছবিকে ছাড়া চিন্তা করেছিল এই কয়েকটা বছর? তবু কেন নিয়তির খেলায় হেরে যেতে হয় কাউকে কাউকে, এটা সে জানে না ।

ছবি ভাবনার সাগরে ডুবে গিয়েও অনেকক্ষণ ধরে ভাবনার কোন কূল কিনারা করতে পারলো না । শেষে তার মনে হলো, নাহ, মিলানকেই জিজ্ঞেস করা উচিত তার...

- কোন কথাটা বলিনি তোমাকে?

মিলান হয়তো এরকম পালটা প্রশ্ন আসতে পারে সে জন্য প্রস্তুত ছিল । ছবি যে এতক্ষণ তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ করে ছিল, এটাকে বেশ স্বাভাবিক ধরে নিয়েই সে বলে উঠলো,

- আচ্ছা, আমি কি তোমার বাবার চোখে তোমার জন্য নিজেকে যোগ্য করতে পারবো না?
- হ্যা, পারবা । পারবা না কেন?
- কিন্তু তুমি আগে যে পথ দেখিয়েছিলে, সেটা তো আমার পছন্দ না
- তাহলে আবার পুরনো কথা উঠালে কেন?
- আচ্ছা, আমি মানছি যে তুমি কিংবা আমি কেউই সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে দুইজনে হারিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী নই, কিন্তু এই সমস্যার সমাধান তো অবশ্যই আছে, তাই না ?
- উমমমম (কিছুটা চিন্তা করে).. আমি তো দেখি না

ছবির কথায় মিলান আবার ছবির চোখের দিকে তাকালো । মিলানের দৃষ্টি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ছবি তাকিয়ে আছে অজানার দিকে । এই তো অল্প কয়েকদিন আগেও যে দুইজন মানুষ অজানা থেকে খুব কাছের মানুষ হয়েছিল, আজকে তাদের সম্পর্ক আবার অজানাতেই হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে ।

- নাহ, কিচ্ছু বুঝি না। আমি এবার ঘটা করে প্রস্তাব পাঠিয়েই ছাড়বো ।

মিলানের কথা শুনে ছবি নিদারুণ অবাক হয়ে এবার মিলানের দিকে তাকালো । কি বলে ছেলেটা ! পাগল তো সে আছেই, তাই বলে কি বলা নেই, কওয়া নেই, হুটহাট এরকম একটা চিন্তা কিভাবে করে ফেললো সে! অবশ্য মিলানের এরকম হুটহাট পাগলামিগুলো ছবির কাছে নতুন তো আর কিছুই না । মিলানকে অবাক করে দিয়ে ছবি হঠাৎ করেই ফিক করে হেসে ফেললো । ছবি হেসে উঠতেই মিলান মুগ্ধ চোখে হাসিমাখা ছবিকে দেখতে লাগলো । হাসি কিছুটা থামিয়ে ছবি বলে উঠলো,

- কি বললে তুমি, ঘটা করে প্রস্তাব পাঠাবে?
- হ্যা, পাঠাবো । কেন, কি হয়েছে?
- মানে এবার একেবারে ঘটা করে রিজেক্টেড হওয়ার পায়তারা করা শুরু করলে
- রিজেক্টেড!! কেন? রিজেক্টেড হবো কেন?
- কেন, তুমি জানো না? তুমি তো সবই জানো
- দেখো, ছবি, আমি তোমার বাবাকে বুঝাবো । আমার উপর একটু ভরসা রাখতে অনুরোধ করবো উনাকে । আমি বলবো, ইনশাআল্লাহ্‌ আমিও একদিন উনার আকাঙ্ক্ষার চেয়েও উপরে উঠবো । উনি কি এই কথাগুলো শুনবেন না?
- তোমার কথাগুলো চমৎকার । কিন্তু তুমি একজন মেয়ের প্রেমিক হয়ে কথা বলছো, অথচ নিজেকে যদি আমার বাবার জায়গায় রাখতে, তাহলে হয়তো বুঝতে আমার বাবার কি বলার আছে!!

ছবির কথা শুনে মিলান মাথাটা নামিয়ে মাটিতে দৃষ্টি নিবন্ধ করলো । তার কান্না পাচ্ছে আবারও । সে চায় ছবি যেন তার চোখের জল না দেখে । ছবি বুঝতে পারলো, তার শেষের কথাটা মিলানকে অনেক কষ্ট দিয়েছে । মিলানকে অবাক করে দিয়ে সে মিলানের পিছন থেকে মাথায় হাত রাখলো । অমনি মিলান যেন বাচ্চাদের মত কাঁদতে শুরু করলো । মিলানের আচমকা এমন কাজ ছবিকে দারুন অপ্রস্তুত করে দিয়েছে । আগের সময় হলে হয়তো সে মিলানের কান্না থামাতো । কিন্তু এখন...!! মিলান কাঁদুক, চোখের পানিগুলো একটু একটু করে পুরনো স্মৃতিগুলোকে মুছে দিক ।

মিলান কিছু সময় পর চোখের পানি মুছে স্বাভাবিক হয়ে গেলো। তার চোখ যদিও কিঞ্চিত ফোলা এখনও । মিলান এবার ছবির দিকে তাকিয়ে বললো,

- চলো তাহলে, চলে যাই
- আচ্ছা, কিভাবে প্রস্তাব পাঠাবে? তোমার বাবা-মা কে পাঠাবে?

ছবির কথায় মিলান এবার বেশ অবাক হলো । এই মেয়েটা এতটা অদ্ভুত কেন?! মিলান যে কষ্টে এতক্ষণ কাঁদলো, তখনও তো সে কিছুই বলেনি। এখন যেন মনের সকল সাহস সঞ্চয় করে এক জায়গায় করেছে । এই সাহসটুকুর জোরেই তো তারা একে অন্যের হাত ছাড়েনি হাজারটা সমস্যার পরেও ।

(বাকিটা পরবর্তী পর্বে)

লেখাটির ১ম পর্বের প্রায় দেড় বছর পর ২য় পর্ব প্রকাশের জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত । মিলান আর ছবির উপাখ্যান যেন সর্বদাই শেষ হইয়াও হয় না শেষ । কথা দিচ্ছি, এর পরের পর্বগুলোর জন্য পাঠকদের বেশি অপেক্ষায় রাখবো না ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৩ রাত ১১:০১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিটেকটিভ, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার: মধ্য বৃত্ত

লিখেছেন রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ), ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:০৭


প্রফেসর সাজিদ এলাহী, বয়স সাতান্ন। ইংরেজি বিষয়ের প্রফেসর। লম্বা চওড়া শরীর, গায়ের রং হালকা তামাটে। প্রতিদিন সকালে উঠে এক ঘণ্টা করে হাঁটাহাঁটির কারণে এখনও শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট নয়। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোষ্ট প্রকাশের পর, আপনি কি কিছুক্ষণ সামুতে থাকেন?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৫০



আমি পোষ্ট দেয়ার পর, বেশ কিছু সময় সামুতে থাকি; ঘর থেকে বের হওয়ার আগে, আমি প্রায়ই পোষ্ট দিই না সামুতে। অবশ্য আজকাল, আমি আমার নিজের নিয়মও খুব একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত ইবাদত এবং হালুয়া রুটি খাওয়ার উৎসবের ঘনঘটা

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২২

BVNEWS24 ||



আলোকসজ্জা করা যাবে কি?
শবে বরাত রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় আলোকসজ্জা করেছেন। এর মাধ্যমে একটি উৎসবের আমেজ তৈরি করা হয়। এই উৎসব করা কিসের ভুল? উৎসব মাধ্যমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র লাইলাতুল বরাত রজনীতে মডারেট মুসলিম হওয়া উদাত্ত আহ্বান জানাই।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৪


শবে বরাতের সাথে খানাদানার একটু সম্পর্ক আছে। তাই শুরুতেই হালাল খাবার।

ব্লগে ঢুকে দেখি শবই বরাত নিয়ে দুইটা পোস্ট আসছে।এই ব্লগ সকল ব্লগারের মত প্রকাশের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। ব্লগটিমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ জাতিসংঘেও পাঠাতে পারবো একটা স্মারক চিঠি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:২৬



হৃদয়ে আবার কাঁপন - একটা ঠিকানার কি এক তৃষ্ণায়
মনে হয় আবার এসেছে ফিরে আরেক শীতকাল;
পশ্চিম আফ্রিকার সব তাপমাত্রা নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে আমি কি এক প্রাণপণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×