গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বিডিআর সদর দপ্তরে যে জঘন্য, নারকীয় এবং নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় সে ঘটনা প্রতিরোধে শুরু থেকেই সরকারের ভূমিকা এবং আচরণ রহস্যময় ও প্রশ্নবোধক ছিল।
উক্ত ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং হত্যাকারীদের চিহ্ণিতকরণের জন্য সরকার প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির ব্যাপারে সচেতন মহলের তুমুল সমালোচনার মুখে এবং জনমতের চাপে সরকার কমিটিকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য হয় এবং ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত করে কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। কিন্তু ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হলে পরপর ৩বার সময় বৃদ্ধি করা হয়। শেষে কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট প্রায় চূড়ান্ত করে আনলে সরকার সে রিপোর্ট গ্রহণ না করে কমিটিকে আরো ৩০ দিন সময় বাড়িয়ে দেয়। এতে জনমনে ব্যাপক সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে, সরকার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাদের ইচ্ছেমতো রিপোর্ট তৈরি এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ফাঁসানোর জন্যই এ কাজ করেছে।
শুরুতেই লিখেছি যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা রহস্যজনক এবং প্রশ্নবোধক। তাই উক্ত ঘটনার মূল কারণ জানার জন্য শুধু বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই চলবে না, এ ব্যাপারে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কারণ ২৫ ফেব্রুয়ারীর পূর্বের দিন শেখ হাসিনা বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় গিয়েছিলেন। তখন সেখানে কোনো বিশৃঙ্খালা বা বিডিআরের কোনো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। হঠাৎ একদিনের ব্যবধানে কি এমন ঘটে গেল যে, বিডিআরে দায়িত্বরত সকল সেনাকর্মকর্তাদের হত্যা করতে হবে। এতে প্রমাণ হয় যে, উক্ত ঘটনার সাথে স্বয়ং শেখ হাসিনারও কোনো যোগসাজশ থাকতে পারে। এছাড়া উক্ত ঘটনার ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানকসহ সরকারী দলের আরো অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। বিশেষকরে 'র'-এর এজেন্ট পরগাছা বুদ্ধিজীবী আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কারণ তার বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রমাণিত হয়েছে সে পিলখানার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তথ্য জানে। এমনকি এ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকাটাও আশ্চর্যের কিছু নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


