এর আগে শেখ হাসিনার সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল সেসময় ১৯৯৮ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২৯ রমযান শেখ হাসিনা রেডিও এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেদিন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাবে এবং পরের দিন ঈদ হবে ধরে নিয়ে শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার দুর্ভাগ্য, সেদিন বাংলাদেশের আকাশে কোথাও ঈদের চাঁদ দেখা যায়নি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে এ খবর রেডিও-টেলিভশনে প্রচারিত হলে সারাদেশের মানুষ তারাবিহ নামায আদায় করে পরের দিন রোযা রাখার প্রস্তুতি নিয়ে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা যে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেলেছেন, এর কি হবে? পরের দিন ঈদ না হলে যে তার শুভেচ্ছা জানানোটা বাসি হয়ে যাবে। তাই রাত দশটার দিকে রেডিও-টেলিভিশনে নতুন করে ঘোষণা আসা শুরু হলো, সারাদেশের কেউ কোথাও ঈদের চাঁদ না দেখলেও লালবাগের কোন মাদরাসার এক হুজুর নাকি তার ছাত্রদের নিয়ে কল্পলোকে শাওয়ালের চাঁদ দেখতে পেয়েছেন এবং সে অনুযায়ী পরের দিনই ঈদুল ফিতর উদযাপন করে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছার মূল্য দিতে হবে।
উক্ত ঘটনার মতোই সাম্প্রতিককালে শেখ হাসিনার সরকার আরেকটি নতুন ঘটনার জন্ম দিলো। আর সেটি হলো ভোলার কথিত মাদরাসা গ্রীন ক্রিসেন্ট থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা। বেশ কিছুদিন ধরে শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা বলে আসছেন, সারাদেশে কথিত জঙ্গি তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, জঙ্গিরা শেখ হাসিনার উপর হামলাসহ দেশের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে হামলা চালাবে। কিন্তু বাস্তবে সেসব কিছু না ঘটায় শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিরা দেশবাসীর নিকট মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্ণিত হয়ে যাচ্ছে না? সেহেতু তাদের কথা সত্যি প্রমাণ করার জন্যই ভোলার কথিত মাদরাসা গ্রীন ক্রিসেন্টে সরকারী কোনো এজেন্সীকে দিয়ে অস্ত্র রেখে এসে পরে র্র্যাবকে পাঠিয়েছে সে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক মঞ্চস্থ করতে। আমার এ বক্তব্যের সপক্ষে প্রথম প্রমাণ, উক্ত অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে স্থানীয় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই-যা এ জাতীয় ঘটনায় সবসময় রাখতে হয়। দ্বিতীয় প্রমাণ, কথিত অস্ত্র উদ্ধার নাটক সম্পন্ন হওয়ার অনেক আগেই ভুলক্রমে হোক বা অন্যকোনো কারণে হোক তা ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা না জেনে গণমাধ্যমসমূহ সেটা প্রচারও করে ফেলেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


