বর্তমান আওয়ামী সরকার নাকি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। খুবই ভালো কথা। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই, হাজার লক্ষবার সমর্থনও করি। কিন্তু এক শর্তে, শুধু রাজাকার যুদ্ধাপরাধী নয়, মুক্তিযোদ্ধা নামধারী যুদ্ধাপরাধীদের্ও বিচার করতে হবে। কারণ অপরাধ যে-ই করুক, রাজাকার হোক আর মুক্তিযোদ্ধা নামধারী কেউ হোক, দুটোই সমান অপরাধ এবং দণ্ডনীয়।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষকে হত্যা করা কোনো অপরাধ নয়, অপরাধ হলো যে ব্যক্তি যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কোনো অংশগ্রহণ করেনি এমন ব্যক্তিকে খুন, জখম বা আহত করা।
উক্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী রাজাকারদের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা নামধারীরাই বেশি হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। আমার নিজের দেখা ও জানামতে, আদর্শিক বা রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছিল, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে সক্রিয় কোনো ভূমিকা ছিল না-এমন হাজার হাজার ব্যক্তিদের সারা একাত্তর জুড়ে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেছে। পরবর্তী সময়ে বিশেষকরে ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগ পর্যন্ত আত্মসমর্পণকৃত বা নিজেদের প্রচেষ্টায় ধরে আনা হাজার হাজার নিরস্ত্র রাজাকার, আলবদর, আলশামস বা পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনকারী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ঢাকা স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জড়ো করে কোনোরকম বিচার-সালিশের ব্যবস্থা না করে প্রকাশ্য দিবালোকে পৈশাচিক উল্লাসের সাথে মুক্তিযোদ্ধারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এসব কি যুদ্ধাপরাধ নয়? অবশ্যই। সুতরাং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকল অন্যায়-অপরাধেরই বিচার হওয়া উচিত-সে রাজাকার হোক বা মুক্তিযোদ্ধাই হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


