আগেকার দিনের বাদশাহ বা রাজা-মহারাজারা চিত্তবিনোদনের জন্য তাদের রঙমহলে বাইজী ও সংগীতশিল্পীদের নিয়ে নৃত্যগীতের আয়োজন করতেন। কেউ একটু উন্নত রুচির অধিকারী হলে উচ্চাঙ্গ সংগীতের জলসা বসাতেন। ভারতের এক মহারাজা উচ্চাঙ্গ সংগীতের একজন নামকরা ওস্তাদের সুনাম-সুখ্যাতি শুনে একদিন তার দরবারে সেই ওস্তাদ আমন্ত্রণ জানালেন সংগীত পরিবেশনের জন্য।
উল্লেখ্য যে, এ মহারাজা উচ্চাঙ্গ সংগীতের জনপ্রিয়তা বা নাম-ডাক শুনলেও এরপূর্বে কখনো এ জাতীয় সংগীত উপভোগ বা শোনার সুযোগ পাননি। তবে মহারাজা ভেবেছিলেন উচ্চাঙ্গ সংগীত নিশ্চয় অনেক উঁচুদরের, শ্রুতিমধুর এবং হৃদয়গ্রাহী হবে। তা না হলে রাজা-বাদশাহরা এ সংগীতের এত কদর করেন কেন!
যা হোক, মহারাজার আমন্ত্রণে নামকরা সেই ওস্তাদ একদিন রাজদরবারে হাজির হলেন এবং উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশন শুরু করলেন। আর সংগীত সম্পর্কে যাদের সামান্যতম ধারণা আছে তারা সবাই জানেন যে, উচ্চাঙ্গ সংগীত মানে 'আ-আ-আ-আ, ন্যা-ন্যা-ন্যা' এ জাতীয় কিছু বোলচাল। তো ওস্তাদ শিল্পী সংগীত পরিবেশন শুরু করার কিছুক্ষণ পরই শ্রোতা মহারাজার চোখ-মুখ করুণ শোকে বিহবল অবস্থা ধারণ করলো এবং কপোল বেয়ে অবিরল ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগলো।
অবস্থা দেখে সংগীতশিল্পী ওস্তাদজী মনে করলেন তার সংগীত শুনে মহারাজা ভালো লাগার আবেশে মুগ্ধ হয়ে আন্দাশ্রু ঝরাচ্ছেন। এটা ভেবে ওস্তাদজীর জোশ বেড়ে গেল এবং আরো দ্রুতালয়ে 'আ-আ-আ-আ, ন্যা-ন্যা-ন্যা' করতে লাগলেন।
একসময় শিল্পী গান গাইতে গাইতে তার শক্তি নিঃশেষ হয়ে আসলো অন্যদিকে মহারাজারও গান শুনে অশ্রু ঝরাতে ঝরাতে তার চোখের পানি শুকিয়ে গেল এবং সংগীত পরিবেশনে যবনিকাত ঘটলো। মহারাজা অনেক উপঢৌকন দিয়ে শিল্পীকে বিদেয় করলেন।
শিল্পী বিদেয় হয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড কৌতুহল নিয়ে মহারাজাকে শুধালেন, হে মহারাজা! বেয়াদবী মাফ করবেন, ওস্তাদজী কি এমন আহামরি গান শোনালেন-যা শুনে আপনি বিমুগ্ধ হয়ে কেঁদে কেঁদে বুক ভাসালেন এবং তাকে এতকিছু উপঢৌকন দিয়ে পুরস্কৃত করলেন?
মহারাজা তখন উত্তরে বললেন, আরে মন্ত্রীমশাই, আমি শিল্পীর গান শুনে মুগ্ধ হইনি। ওই প্যানপ্যানানি আমার একটুও ভালো লাগেনি। কিন্তু কেঁদেছি এ কারণে যে, মন্ত্রীমশাই আপনার মনে নেই আমাদের একটি রামছাগল ছিল-যেটা মরার আগে এমন 'ভ্যাঁ ভ্যাঁ' করে কেঁদেছিল! আজকে গান শুনে আমার সেইঅক্কা পাওয়া ছাগলটার কথাই মনে পড়ে গেল এবং কান্না পেলো যে, আহা! বেচারার মরণ ঘনিয়ে আসছে, তাই এমন ভ্যাঁ ভ্যাঁ করছে।
উপসংহার ঃ ২০০৮ সালের মহাকারচুপি ও ভোটচুরির নির্বাচনের পরে এমন কতগুলো রামছাগল ও রামছাগী বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে যেগুলোর কথাবার্তা শুনে এবং রামছাগল মার্কা কর্মকাণ্ড দেখে আমারও কান্না পাচ্ছে, আহারে! এ ছাগলগুলোর অক্কা পাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


