শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে একবার সংবাদপত্রে খবর বের হলো, "সরকারী খাদ্য গুদামে চাল নেই ।। দেশে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা।"
খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পরের দিন-ই অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে দিলো।
অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী তার পরে দিন-ই সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, 'কে বলেছে সরকারী গুদামে চাল নেই! আমাদের নিকট প্রচুর চাল মজুদ রয়েছে এবং খাদ্য সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।'
খাদ্যমন্ত্রির বিবৃতি প্রকাশিত পর চালের বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল।
উক্ত ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় যে, মন্ত্রিদের কোনো ব্যাপারে নেতিবাচক কথাবার্তা বলা বা বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়া উচিত নয়, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনো অন্যায় সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
কিন্তু বর্তমানে আমরা রামছাগল মন্ত্রিসভার সদস্যদের মুখ থেকে কী শুনতে পাই? তাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে কি দেশ ও জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়?
মোটেই নয়। যেমন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের কথাই ধরা যাক। এ গোপালদাস বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েই ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং করে বললেন, 'বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সরকার সবাইকে মুক্তভাবে (ইচ্ছেমতো দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে!) ব্যবসা-বাণিজ্য করার (দেশের জনগণকে শোষণ করার) সুযোগ নিশ্চিত করবে।'
এরপরে গোপালদাস আবার বললেন, 'টিসিবিকে সক্রিয় করে বাজারে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।' ফলে ব্যবসায়ীরা মহাসুযোগ পেয়ে গেল এবং ইচ্ছেমতো দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে অসাধূ ব্যবসায়ীরা জনগণকে শোষণ করে নিজেদের পকেট ভারি করা অব্যাহত রাখলো।
বর্তমানে হঠাৎ করে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচের দাম হয়ে গেল ২০০ টাকা। পত্র-পত্রিকা ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ায় এ খবর প্রচার হলে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে গোপালদাসের যেখানে বলা উচিত ছিল যে, হঠাৎ করে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাবিক বৃদ্ধির করার পিছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে এবং সরকার এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিবে।'
কিন্তু না, জনগণের শত্রু এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের পরম বন্ধু আমাদের রামছাগল বাণিজ্যমন্ত্রী গোপালদাস বললেন উল্টো কথা যে, 'কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণ করা বিশ্বের কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়।'
অর্থাৎ তিনি যেন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করছেন, তোমাদের কোনো ভয় নেই, যত ইচ্ছে তত টাকায় কাঁচা মরিচ বিক্রি করো, আমি আছি তোমাদের সাথে। তবে আমার এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বাসায় প্রতিদিন ১ কেজি করে কাঁচা মরিচ উপঢৌকন হিসেবে পাঠিয়ে দিও, আমরা সব দেখে-শুনেও চোখ-মুখ বন্ধ করে থাকবো।
ব্যস, অসাধু ব্যবসায়ীরাও মহাসুযোগ পেয়ে গেল এবং দেশে কাঁচা মরিচের কোনো অভাব না থাকলেও ২০০ টাকা কেজি দরে তা বিক্রি করছে।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে গোপালদাস বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ দাবি করছি।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করতে চাই, বিগত চারদলীয় সরকারের সময় একবার কাঁচা মরিচের দাম ৬০ টাকা কেজি হয়ে গিয়েছিল। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসম্মুখে খুব রসিয়ে রসিয়ে বলেছিলেন, 'খালেদা জিয়া জনগণকে ৬০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ খাওয়াচ্ছে! দেশের জনগণ এখন কাউকে বিয়ের দাওয়াত দিলে বলে, বিয়ে খেতে আসলে কোনো উপহার আনার দরকার নেই, এক কেজি কাঁচা মরিচ নিয়ে আইসেন। তাহলেই আমরা খুশি হবো।'
কিন্তু বর্তমানে সেই শেখ হাসিনার শাসনামলে কাঁচা মরিচের দাম খালেদা জিয়ার সময়ের চেয়ে চারগুণ বেশি। এখন দেশের জনগণ কাউকে বিয়ের দাওয়াত দিলে কি বলে- 'দি লাঞ্চন' গল্পের নায়িকা এবং বিশ্বনেত্রী ড. শেখ হাসিনা জবাব দিবেন কি?
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


