somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অশ্রু উপাখ্যান- ইউরো শেষের পর

১২ ই জুলাই, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি হইল কিছু বুঝলাম না! গতকাল রাতে এতো ঘুম পাইছিল! এইবারের পুরা ইউরো চলাকালীন আমি গড়ে চার ঘন্টা ঘুমাইছি। কয়েক রাত টানা না ঘুমায়ে থাকা আমার কাছে তেমন একটা অস্বাভাবিক না। আর এই ইহজীবনে হাঁটতে শেখার পর থেকে দিনে-দুপুরে ঘুমানোর ইতিহাস নাই। আর সেই আমার কি না কালকে পেয়ে বসলো রাজ্যের ঘুম! ঘুম বলতে ঘুম! রাত দশটা বাজতে না বাজতে আমি বসে বসে মুরগির মতো ঝিমাচ্ছি। কি খাইলাম না খাইলাম জানিনা, বাসার মানুষজনরে বললাম-খেলা দেখবো না। আমারে জাগাবা না! তারা খুব অবাক হওয়া আমার দিকে তাকায়া ছিল। কারণ, রাত জাইগা খেলা দেখা আর রাত কত গভীর হইছে চিন্তা না কইরা

গোওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওওল

বলে বিকট চিৎকার করার জন্য আমার বিশেষ বদনাম আছে!

আমার এক পুচকি বান্ধবী আছে। আমি নাম দিছি "নিনা" (স্পেনিশ নাম কিন্তু! )। ঘুমানোর আগে তারে একটা এসএমএস দিলাম। ( সকালে বুয়েনোস দিয়াস আর রাতে শুভ রাত্রি বলে মেসেজ না পাঠালে সে ভাইয়ার উপর বিশাল রাগ করে! ) বললাম- আজকে রাতে ডিস্টার্ব করবা না! ঘুমাব!

তারপর কত কী হয়ে গেলো! দেখলাম- পিরলো-পিরলো থেকে ডি রসি- ডি রসি থেকে পিরলো- পিরলোর ডায়াগোনাল পাস- কাসানো- কাসানোর ড্রিবল- বুস্কেটস ডজ খাইচ্ছে- কাসানো ড্রিফট কইরা রাইট কর্ণারের দিকে চলে গেছে- রামোসকে ফাঁকি দিয়ে কাসানোর পাস- মন্তোলিভো- ডি বক্সের বাইরে আগুয়ান বালোতেল্লি- বালোতেল্লির পায়ে বল- ক্ষিপ্রগতির বালোতেল্লি মুহুর্তেই ছিটকে ফেললো দুই ডিফেন্ডারকে- বাঁ পায়ের বুলেট শট- অসহায় ক্যাসিয়াস হাঁ করে তাকিয়ে আছে- আমি চিৎকার করতে যাচ্ছি -- গোওওল গোওওওওল গোওওওওওওওল ! কিন্তু না! না! ~না চাহিলে যারে পাওয়া যায়~ তারস্বরে বাজতে থাকে মোবাইল ফোনে।

না চাহিলে যারে পাওয়া যায়- আমার সেই পুচকি নিনা ফোন করছে-- ওমা! এইসব কী! খেলা দেখেন! খেলা দেখেন! এতদিন এতো চিল্লাফাল্লা করে আজকে ফাইনাল দেখবেন না ক্যামনে হয়?

নিনার আদেশে তাই খেলা দেখতে বসলাম। মাত্রই শুরু হইছে খেলা। তখনো আমি বসে বসে মুরগির মতো ঝিমাচ্ছি! ভাবলাম- চোখে মুখে একটু পানি দিয়ে আসি! যাহ! এইটা কি হইল! গোল!

আবারো নিনার ফোন করছে। আমি জানতাম সে স্পেনের সমর্থক। তার স্পেন সমর্থক হওয়ার গল্পটা খুব সহজ। সে আসলে ব্রাজিল সাপোর্টার। গত বিশ্বকাপে যেহেতু ব্রাজিল বাদ পড়েছে তাই সে চেয়েছে আর্জেন্টিনার পতন ঘটুক। যেহেতু জার্মানী আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে সুতরাং সে জার্মানীর সাপোর্টার। আবার যেহেতু এইবার ইউরোতে সেই জার্মানীকে হারাইছে তাই ইতালী তার শত্রু। সুতরাং সে ইতালীর বিপক্ষ স্পেনের সমর্থক এতে আশ্চর্যের কী আছে!

এখন গোল খাওয়ার পরই তার ফোন। ফোন ধরার পর বুঝলাম ও পাশের কন্ঠ বাষ্পরুদ্ধ। আমার ইতালী হেরে যাচ্ছে বলে সে কাঁদছে!

- আহ! কেন এমন করছো? খেলা অনেক বাকী। আমার প্রেডিকশন ছিল স্পেন ১- ২ ইতালী। তো ঠিকই তো আছে! স্পেন একটা দিছে। এর পর ইতালী দিবে!

এরপর কি হল! কিয়েল্লিনি খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠের বাইরে। আমার আর অপেক্ষা করার কিছু ছিল না। যেদিন ভাগ্য বিপক্ষে থাকে সেইদিন কোন কিছুতেই আর কিছু হয় না।

সুতরাং, এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে- যখন নিনা আবারো ফোন করবে? তাই পৃথিবীর সাধারণ নিয়ামানুযায়ী নিনা আবারো ফোন করে। এইবার আর বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠ না! মানুষ যে কেন এতো কাঁদে আমি বুঝি না!

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:২৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×