somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধে ভারতীয় পণ্য বর্জনের কার্যকারীতা

১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফারাক্কার পর এবার টিপাইমুখ বাঁধের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটানোর যে মারাত্মক কর্মসুচী বাস্তবায়িত করতে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেশে-বিদেশে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানানো শুরু হয়েছে। দেশে এই প্রতিবাদের প্রধান কর্মসুচি হিসেবে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিয়া হয়েছে। এই ব্লগেও এ'সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পণ্য বর্জনের মাধ্যমে কি ভারতকে এই অপকর্ম থেকে বরত রাখা সম্ভব? আসুন হিসেব করে দেখি।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী এই প্রকল্পের মুল উদ্যেশ্য হচ্ছে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে সক্ষম জলবিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা। এর মাধ্যমে বছরে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমান হবে ১৫০০*১০০০*২৪*৩৬৫*০.৮=১০.৫ বিলিয়ন ইউনিট।(এক ইউনিট = এক কিলোওয়াট আওয়ার, উৎপাদন ফ্যক্টর ৮০%)। বাংলাদেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মুল্য ৩ টাকা হিসেবে এই বিদ্যুতের দাম হবে ৩১.৫ বিলিয়ন টাকা।

এবার দেখি ভারত বাংলাদেশে কি পরিমান পন্য রফতানী করে। Click This Link সাইটের হিসেব অনুযায়ী ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে মোট রফতানীর পরিমান ছিল ২.৪ বিলিয়ন ডলার, বছর হিসেবে যা হবে ৩.২ বিলয়ন। এটা বৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা পন্যের হিসাব। এর সাথে অবৈধ পথে আসা পন্য যোগ করাহলে বছরে অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলারের পন্য ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। আমরা যদি পন্য বর্জনের মাধ্যমে আমদানীর পরিমান মাত্র ১০% কমাতে পারি তাহলেই ভারতের রফতানী কমে যাবে ০.৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ বিলিয়ন টাকা। যা টিপাইমুখ বাঁধের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের দামের চেয়ে বেশী।

ভারত থেকে আসা পন্যের মধ্যে সাধারন দরিদ্র মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চাল-ডাল যেমন আছে তেমনি আছে বহু বিলাস দ্রব্য। এমনসব পন্যও আছে যা দেশেও তৈরী হয়। আমরা যদি ভারতীয় বিলাশদ্রব এবং বাংলাদেশে উৎপাদিত বা অন্যদেশ থেকে আসা বিকল্প আছে এমন পন্য বর্জন করতে পারি তাহলেই তার পরিমান ১০% এর চেয়ে অনেক বেশী হবে।

সুতরাং আসুন ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলন জোরদার করে টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিহত করি, দেশকে এক মহাবিপর্জয় থেকে রক্ষা করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০৪
২৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×