somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভবিষ্যতবানী

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উবেদুল্লাহ ইভান্ ম্যারাথন দৌড়ে নাম লিখিয়েছেন। এ এক সাধনার মত বিষয়। ২৬ মাইল দৌড়ানো কি মুখের কথা। দরকার দীর্ঘ অনুশীলন। একা একা এই দীর্ঘ প্রস্তুতিও সম্ভব নয়। একজন নিবেদিত প্রাণ পার্টনার না হলে এই দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়া অসম্ভব বাপার
উবেদুল্লাহ ইভান্ অবস্য এই একটা বাপারে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন। কারণ মার্কের মত এমন একজন অতি উত্সাহী পার্টনার কয়জন যোগাড় করতে পারে? শীত গ্রীষ্ম বর্ষা বরফ কোনো কিছুই তার প্রস্তুতিকে থামাতে পারে না। স্বভাবগত ভাবে মার্ক খুব সৌখিন। শুধু সৌখিন ই নয়, সেই সাথে তাকে একজন “টেকনলজী গীক” ও বলা যাবে । নতুন যত গেজেট বাজার এ আসছে সবই তার দরকার। তাই ম্যারাথন দৌড় প্রস্তুতির জন্য বাজারে যত রকম ইলেক্ট্রনিকস আছে, সব কিছুই সে সংগ্রহ করেছে। latest জি পি এস, হাইটেক ঘড়ি যা শরীরের তাপমাত্রা , হার্টবিট ইত্যাদি তথ্য আইফোনে ট্রান্সমিট করে, ইত্যাদি অনেক ধরন এর ইলেক্ট্রনিক গেজেট তার সংগ্রহের এর তালিকায় আছে।

উবেদুল্লাহ ইভান্ কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। হাই স্কুল এ থাকা অবস্থাতে অসম্ভব মেধাবী এই ছাত্র ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। ধর্মান্তরিত হবার পর থেকে ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয় গুলির উপর পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন যা কিছুই শিখছেন সবকিছুই তার কাছে বাস্তব সম্মতই মনে হচ্ছে। ইসলাম এর শিক্ষা গুলি আধুনিক শিক্ষা এর সাথে তার কাছে কখনো contradictory মনে হয় নি। তবে আজ উবেদুল্লাহ কিছুটা চিন্তিত। আজ শেষদিন বা কেয়ামতের লক্ষ্মন কি কি হবে বিষয়ের একটা হাদিস উবেদুল্লাহকে পীড়া দিচ্ছে। রসুল্লুলাহ সঃ কিয়ামত এর বেশ কিছু আলামত এর কথা বলে গেছেন।

কিয়ামত এর যে কয়টা লক্ষ্মন রসুল্লুলাহ সঃ বলে গেছেন তার কয়েকটা এই রকম:
• সুদ সমাজে এমন ভাবে ছড়াবে যে আমার উম্মতরা এর ধুলিকণা থেকে রক্ষা পাবে না
• আরবের বেদুইনরা একে অন্যের সাথে উচু উচু ইমারত তৈরিতে প্রতিযোগিতা করবে
• মসজিদ গুলি হবে প্রাসাদ সম কিন্তূ সেই অনুযায়ী মুসল্লী হবে না
• গান বাজনার বাপক প্রসার হবে
• …
• পরনের জুতা তোমার সাথে কথা বলবে

উবেদুল্লাহ ইভান্ মনের মধ্যে একটা ধাক্কা খেলেন। হুমম!!!! এটাও বিশ্বাস করতে হবে “পরনের জুতা কথা বলবে”? আজ পর্যন্ত ইসলাম সম্পর্কে যা কিছু শিখেছি তা তো কখনো অবান্তর মনে হয় নি। চিন্তিত উবেদুল্লাহ নিজের মনকে সান্তনা দিলো এই ভেবে, এটা এমন কোনো বড় বাপার নয়। রসুল্লুলাহ সঃ এর দেওয়া কিয়ামত এর অনান্য লক্ষণ গুলি তো ঠিকমতোই মিলছে।সুদ কি সমাজে ছড়ায়নি? আরব রা কি উচু উচু বিল্ডিং করার প্রতিযোগিতায় মাতেনি? রাজপ্রাসাদের মত মসজিদ কি তৈরী হচ্ছে না? আর গান বাজনার কথা নাই বা বললাম। থাক, জুতা কথা বলার বাপারটা নিয়ে আপাতত না ভাবলেও চলবে। দীর্ঘ বারোটা বছর এর মাঝে পেরিয়ে গেছে. বিষয়টা নিয়ে আর তেমন চিন্তা করা হয় নি।

Weekend এর আবহাওয়া জানতে উবেদুল্লাহ ইভান weather চানেল চেক করলেন। চমত্কার আবহাওয়া থাকবে কাল। দীর্ঘ সময় ম্যারাথন এর জন্য প্রাকটিস করা যেতে পারে। ভাবতে ভাবতেই মার্কের ফোন এলো। উচ্হচসিত গলায় মার্ক বলল
"কালকের আবহাওয়া দেখেছ? কাল অনেক লম্বা প্রাকটিস করা যাবে।"
-আমিও তাই ভাবছিলাম। ভালই হয়েছে তুমি ফোন করায়। কাল সুর্য ওঠার আগেই বের হয়ে যাব। কি বল তুমি?
-Excellent. আমারো তাই ইচ্ছা। ভালো কথা, এ সপ্তাহে আমি একটা মজার জিনিস কিনেছি। কাল প্রাকটিস এ নিয়ে আসব।
মার্ক গলার চাপা উত্তেজনা ঢাকতে পরলোনা। উবেদুল্লাহকে অবস্য এনিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাতে দেখা গেল না। কারণ মার্কের মত সে “টেকনলজী গীক” নয়। এইসব ইলেকট্রনিক তাকে আর তেমন বিস্মিত করে না।

ফজর এর নামাজ শেষ করে তৈরী হতে হতেই মার্ক এসে হাজির। বাহিরে এখন ও অন্ধকার। সূর্য উঠতে এখনো চল্লিশ মিনিটের মত বাকি। সকালের এই সময়টার একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। বাতাসে একটা আলাদা গন্ধ ও যেন পাওয়া যায়। ঘর থেকে বের হয়ে মনটা একটা আনন্দে ভরে গেল। মনে মনে আল্লাহকে এমন সুন্দর একটা দিনের জন্য শুকরিয়া আদায় করলেন উবেদুল্লাহ। কিছুক্ষণ দৌড়েই লেক মিশিগান এর পাশে চলে আসল ওরা। দৌড়ানোর জন্য এখানকার ট্র্যাকটা ইভান এবং মার্ক দুজনের খুব প্রিয়। ছুটিরদিন সকালে শিকাগো শহরের ঘুম ভাঙ্গে অনেক বেলা করে। রাস্তা গুলিতে কোনো ট্রাফিক জ্যাম নাই। সপ্তাহের অনন্য দিনগুলিতে এমন সময় শহরের বাস্ততা পুরা মাত্রাতেই শুরু হয়ে যায়। জগিং করার জন্য অবস্য অনেকেই বাহিরে এসেছে। এদের অনেকেই হয়ত ওদের মতো ম্যারাথন এর জন্য তৈরী হচ্ছে। দৌড়ান যে এত আনন্দদায়ক হতে পারে তা নিয়মিত না দৌড়ালে কেউ অনুভব করতে পারবে না।

আজ কারো কোনো তাড়া না থাকায় ঘড়ির দিকে মার্ক বা উবেদুল্লাহ ইভান্ কেউ ই নজর দেয়নি। অনেক্ষণ তো দৌড়ানো হলো। কম পক্ষে দশ বারো মাইল তো দৌড়ানো হয়েছেই।
দুজনই ক্লান্ত। রেস্ট নেওয়া দরকার। এর মধ্যে সূর্য হালকা তাপ ছড়ানো শুরু করেছে। বিশ্রাম নেওয়ার জন্য দুজন গাছের নিচে একটা বেঞ্চে বসলেন। ঠিক তখনই অবাক করা ঘটনাটা ঘটলো। মার্কের জুতা কথা বলে উঠলো
আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত তুমি ১ঘন্টা চল্লিশ মিনিট একুশ সেকেন্ড দৌড়িয়েছ, তোমার অতিক্রান্ত দুরত্ব এগারো মাইল আটশ চব্বিশ ফিট, তোমার গড় গতিবেগ ছিল .... মাইল তোমার শরীরের তাপমাত্রা .... ডিগ্রী ফরেনহাইট তোমার হার্ট বীট ....

উবাদুল্লাহ ইভান মার্কের জুতার কথা বলা দেখে এতটাই চমকে উঠলেন যে আর একটু হলে বেঞ্চ থেকে পরেই যেতেন। উবেদুল্লাহের চমকে উঠা দেখে মার্ক তো ভিশন খুশি। এই প্রথম সে উবেদুল্লাকে কোনো গেজেট এর কার্যকারিতা দেখে এমন বিস্মিত হতে দেখল। মার্কের দু চোখ খুশিতে চক চক করে উঠলো।
- কাল বলেছিলাম না নতুন একটা জিনিস কিনেছি? দেখলে তো এটার কারবার? It’s a talking shoe. এটা দৌড়ের সময় তোমাকে মনিটর করবে। শুধু তাই নয় ও তোমাকে দৌড়ের ভুল ত্রুটি গুলি ধরিয়ে দিবে - উচ্ছসিত মার্ক অনর্গল বলেই চললো।

উবাদুল্লাহ ইভান সত্যিই বিস্মিত। কথা বলার শক্তি ও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। বিস্মিত হবার কারণটা অবস্য ভিন্ন। চোখের সামনে হটাত এমন করে ১০ বারো বছর ধরে মনের মধ্যে বয়ে বেড়ানো একটা খটকা এমন ভাবে উন্মোচিত হয়ে যাবে আশা করেন নি। "জুতা কথা বলবে" রসুলুল্লাহ সাঃ এর এই ভবিষ্যত বাণী যা এতদিন অবাস্তব মনে হয়েছিল, আল্লাহ সেটা এমন ভাবে পরিস্কার করে দেখিয়ে দিলেন। দুচোখে পানি চলে আসল উবেদুল্লাহ ইভান এর। মনের ভিতর থেকে বের হয়ে আসলো "সুবহানাল্লাহ" বারবার মনে মনে বলতে লাগলেন, ইয়া আল্লাহ, আমাকে মাফ করে দাও, তোমার রসুল কখন ও মিথ্থা বলেন নি। আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আমি বুঝতে পারিনি। আজ থেকে ইনশা আল্লাহ আর এই ভুল হবেনা। আমাকে তুমি মাফ কর।


নোট: উস্তাদ উবেদুল্লাহ ইভান্ ইসলাম গ্রহণ করেন হাই স্কুল এর ছাত্র অবস্থায়। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা করার সাথে সাথে ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয় গুলির উপর তিনি পড়াশুনা শুরু করেন। তারপর তিনি Chicagoland's Institute of Islamic Education (IIE) এর মাওলানা আব্দুল্লাহ সালেম এর তত্ত্বাবধানে ইসলাম ধর্মের উপর পড়াশুনা শুরু করেন। ইয়েমেনে আরবি শেখার পর তিনি মিশর এর আল আজহার ইউনিভার্সিটি থেকে “ইসলামিক ল” এর উপর ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি Scholar-in-Residence হিসাবে Inner-City Muslim Action Network (IMAN) এ কর্মরত আছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৪ ভোর ৬:১৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×