somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি্রাজ
নিজের সম্পর্কে বলার মত এখন ও অর্জন হয়নি কিছুই। তবে একটা অর্জন হয়েগেছে!! অন্যায় আর অন্যায়কারীর প্রতিবাদ করতে শিখেগেছি!!! সে যেই হোক।।

?? এ প্রশ্নটি সরল ??

২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিক্সাওয়ালা বলল- মামা, জংলিরা নাকি বিদেশী লোক মাইরা ফালাইছে !
কিন্তু আমি একটা জিনিষ বুঝিনা, জংলীরা জঙ্গল থেইক্কা ঢাহা শহর আইলো কেমতে ?
আমি তো প্রশ্ন শুনে থ ! কয় কি এই লোক !!
কি উত্তর দিব, মজাকরে বললাম- জংলীরাও এখন চালাক হয়ে গেছে!!
ভদ্রলোকের মত স্যুট টাই পরে শহরে চলে আসছে!
- হ, তাই তো কই। আমি এতো বছর শহরে রিক্সা চালাই, কখন ও কোন জংলীতো দেখলাম না !!
পরে বুঝিয়ে বললাম- জংলী নয় মামা, এরা হল জঙ্গি !! যারা ধর্ম নিয়া বাড়াবাড়ি করে এবং এর ভুল ব্যাখা দিয়ে মানুষ কে হত্যা করে। যারা তাদের মতের বিরুদ্ধে বলে লিখে তাদের কে মেরে ফেলে।
রিক্সাওয়ালা মামা কি বুঝলো জানিনা তবে আমি একটা ব্যাপার কিছুতেই বুঝতে পারছিনা !

বাংলাদেশে যেসব ব্লগার হত্যা করা হল তাদের মধ্যে বেশকয়জন হিন্দুও ছিল। সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ ও ঢাকার নিহত নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়রা অন্য ধর্মালম্বি ছিলেন। যত টুকু জানি তারা ইসলাম ধর্ম মানার তো প্রশ্নই আসেনা নিজ ধর্ম ও মানতেননা। আমি মনে করি আমারা যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি এটা যেমন একটা বিশ্বাস তেমনি যারা বিশ্বাস করেননা সেটা ও একটা বিশ্বাস।

প্রতিটা ধর্মই একটা বিশ্বাসের উপর বেড়ে উঠে। আমি মুসলমান তাই আল্লাহ ও তার রাসূলে বিশ্বাস করি , যিনি হিন্দু তিনি ভগবানে বিশ্বাস করেন। আর যিনি কোন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনা তার ও একটা বিশ্বাস আছে! সে বিশ্বাস করে তার কোন প্রভু নেই। সবই বিশ্বাসের খেলা। ইসলাম গ্রহণ করতে হলে সবার আগে আল্লাহ ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনতে হবে অর্থাৎ বিশ্বাসস্থাপন করতে হবে।
বিশ্বাসের দিক থেকে চিন্তা করলে তার সাথে আমার সাথে কোন পার্থক্য নেই। আমার বিশ্বাস হল আল্লাহ আছে, তার বিশ্বাস হল খোদা নাই!
এসব নিয়ে তর্ক করা চলে কিন্তু আরেক জনের উপর আমার বিশ্বাস ছাপিয়ে দেয়া চলে না।
যিনি মুসলিম না তাকে যেমন আমার ধর্ম মানতে বলতে পারিনা তেমনি আমার ধর্মের সমালোচনা করলে তাকে শাস্থি ও দিতে পারিনা। কিন্তু আমরা সব বিশ্বাসীরা তাই করে যাচ্ছি অনবরত!
গোমাংস রাখার অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের দাদরিতে মুহাম্মদ আখলাক নামে ৫০ বছরের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। তিনি মুসলমান ছিলেন। তার ধর্ম মতে গোমাংস রাখা খাওয়া অপরাধ নয়। এমনকি আখলাকের ২২ বছরের ছেলে দানিশকেও মারধর করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের (আরএসএস) মুখপত্র ‘পাঞ্চজন্য’র সম্পাদকীয়তে লিখেছে, হিন্দুধর্মগ্রন্থ বেদে নির্দেশ দেওয়া আছে, যাঁরা এ দেশে থেকে গোহত্যা করছেন, তাঁদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যু। গো হত্যা হিন্দুধর্মের অনেক মানুষের কাছে জীবন-মরণের শামিল বলেও উল্লেখ করেন প্রতিবেদনটিতে।
অবার যেখানে মুসলমানের শক্তি বেশী সেখানে তার ধর্ম মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে না মানলে হত্যা ও করা হচ্ছে।
যারা কোন ধর্মে বিশ্বাস করেননা তারা এই ভেবে খুশি হওয়ার কোন কারন নাই যে- আমারা যেহেতু কোন ধর্ম মানিনা তাই কাউকে মানতে বাধ্য ও করিনা। তাদের যদি ক্ষমতা ও শক্তি থাকতো তারাও মানুষকে বাধ্য করতো ধর্ম না মানতে। একদিন তাদের ক্ষমতা আসলে তারাও ঠিক একই কাজ অন্যদের মতই করবে।

কিন্তু আমি যে ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝতে পারছিনা তাহল- যিনি আপানার ধর্ম বিশ্বাসই করছেনা তাকে কেন আপনার ধর্মের নিয়ম কানুন মানতে হবে? না মানলে হত্যা করতে হবে? প্রশ্নটা হয়তো খুব সরল হয়ে গেছে কিন্তু আমার কাছে এই সরল প্রশ্নটাই খুবই জটিল হয়ে উঠলো !!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:২৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×