আগের পর্ব
এভাবে বড় হতে লাগলো পার্থ। ঘরে বাইরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার বন্ধুর সংখ্যা। পার্থের কাছে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটাও একটু ভিন্নভাবে ধরা দিতে লাগলো। সে বন্ধু বলতে বোঝে যার কাছে চোখ বন্ধ করে মনের সব কথা বলা যায়, যাকে নিজের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করা যায়। তাই সে দিনে দিনে আরো বেশি বন্ধু প্রিয় হতে থাকে।
পার্থের মা, সাদাসাদি ভদ্র মহিলা। পৃথিবীর কোন কুটিলতা সে বোঝেনা। কমবয়সেই বিয়ে, আর সন্তানের মা হবার কারনে স্কুলের বেশি সে আর পড়তে পারেননি। যদিও পার্থকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে নিজেও একটি বেসরকারী কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। বেশ কিছু বইও কিনে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ছেলের দিকে খেয়াল রাখতে রাখতে কখন যে তার সেই সব বইখাতা কোথায় হারিয়ে গেছে নিজেও টের পাননি। ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার। দেখতে দেখতে পঞ্চম শ্রেণীতে পা রাখে পার্থ। ছেলের মেধার পরিচয় তিনি পেয়েছেন ছোট বেলায় তাই কোন অশুভ ছায়া যেন ছেলেকে ছুতে না পারে সেদিকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি মায়ের। বছরের মাঝামাঝি সময়ে পার্থের স্কুলে প্রাথমিক বৃত্তি পরিক্ষার যাচাই পরিক্ষায় অসামান্য কৃতিত্ব দেখাল পার্থ। তাই এবার শুরু হল তার বৃত্তি প্রস্তুতি পালা।
নভেম্বর মাসের মাঝেই বৃত্তি পরীক্ষার সকল বিষয়গুলো খুব ভালভাবে আয়ত্ত করা হয়ে গেছে তার। ডিসেম্বর মাস, খুব ভাল পরীক্ষা দিয়ে সেতো মহা খুশী। ভাল পরীক্ষার পুরষ্কার স্বরুপ তার মা তাকে বলল, আগামী দু-সপ্তাহ তার কোন পড়ালিখা নেই। শুধু বেড়ানো।
ফেব্রুয়ারীর প্রথম থেকেই পড়াশোনা শুরু হল আবার আগের নিয়মেই। এখন সে উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। ফুল প্যান্ট পড়ে স্কুলে যায়। নতুন জামা কাপড় পরে স্কুলে যায় নিয়মিত। এ মাসের মাঝামাঝিতে বৃত্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়া হবে। স্কুলে সবাই জানে আর কেউ না পেলেও পার্থ অবশ্যই পাবে। রেজাল্ট প্রকাশের দিন। সকালেই পার্থের মা ২০ কেজি মিষ্টির অর্ডার করে এসেছেন। দুপুরের দিকে খবর এলো, ঐস্কুল থেকে ৪জন বৃত্তি পেয়েছে কিন্তু তাতে পার্থের নাম নেই। সবাইতো আকাশ থেকে পড়লো। পার্থের মা, ছেলে মন খারাপ করবে ভেবে গোপনে অশ্রু ফেলেন। পার্থ কারো সাথে কোন কথা না বলে নিজের রুমের দরজা আটকে বসে থাকে সারারাত।
পরদিন, সকালে পার্থের মা দেখেন তখন পর্যন্ত পার্থ নিজের ঘর থেকে বের হয়নি। কিছুক্ষন ডাকাডাকি করে নাশতার টেবিলে বসতেই শুনতে পান কেউ একজন দরজায় কড়া
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


