somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাদকবিরোধী কনসার্ট

১২ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ঢাকার ফাঁকা রাস্তায় ছুটছে একটি ব্যান্ডদলের মাইক্রোবাস। মধ্য চল্লিশের দলপ্রধান ও ভোকালিস্ট বসেছে ড্রাইভারের পাশের সিটে। তার চোখে কালো সানগ্লাস, গায়ে কালো শার্ট, মাথায় কাঁধ-সমান লম্বা কালো চুল। জ্যোতিষ প্রদত্ত নানান রকম পাথরসমৃদ্ধ আংটি পরা দুই হাতের ছয় আঙুলে, ডান হাতের জলের বোতলে হুইস্কি। কয়েক চুমুক দিয়ে সে বোতলটি পিছনে বসা লিড গিটারিস্টের হাতে দেয়। আমিনবাজার ব্রিজের কাছে পৌঁছলে কর্তব্যরত একজন পুলিশ সদস্য শিল্পীদের গাড়িটি থামানোর জন্য নির্দেশ দেন। পুলিশের কাছে গিয়ে গাড়িটি থামে। ভোকালিস্ট পুলিশের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে, আর পুলিশ সদস্য তার মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের মুখে হাসির ফোয়ারা ছুটিয়ে গদগদ হয়ে লম্বা সালাম দেন। নিশ্চয় পুলিশ সদস্য এই ভোকালিস্টকে চেনেন। কেননা এদের ব্যান্ড যতোই পশ্চিমা ধারার হোক, এদের উচ্চারণ যতোই ইংরেজির অনুকরণে হোক, যন্ত্রের শব্দের আধিক্যে এদের গানের কথা যতোই বোঝা না যাক, এদের সুর যতোই শ্রবণেন্দ্রিয়ে বিরক্তির উদ্রেক করুক; দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা টেলিভিশনগুলেতে এরাই এখন দাপিয়ে বেড়ায়! কেউ এদের গান শুনতে না চাইলেও চ্যানেল পাল্টানোর সময় কখনো না কখনো টিভির পর্দায় এদের লম্ফ-ঝম্ফ চোখে পড়বেই! ভোকালিস্ট পুলিশের দিকে এমনভাবে ডান হাত তোলে যেন কোনো সন্ন্যাসী তার অন্ধ ভক্তের দিকে আশির্বাদের হাত বাড়িয়েছেন! গাড়ি আবার গতি বাড়িয়ে ছুটে চলে সামনের দিকে।

বেজ গিটারিস্ট এখন শিস বাজাচ্ছে, ড্রামার গাঁজা টানছে। গাঁজার স্টিকটি হাত ঘুরে চলে যায় সামনে বসা ভোকালিস্টের হাতে। সে গাঁজায় টান দিতেই ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে। মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটি বের করে, সাবিহার ফোন, ফোন রিসিভ করে সে-‘হ্যাল্লো, মাই ডিয়ার! হাউ আর ইউ?’

সাবিহা ভোকালিস্টের বন্ধু, র‌্যাম্প মডেল। সাবিহা বলে, ‘আই অ্যাম ওকে, তুমি কেমন আছো?’
‘পার্টি, প্র্যাকটিস, শো; সব মিলিয়ে বিন্দাস আছি সুইট হার্ট।’
সাবিহা কথার ফাঁকে ফাঁকে আ, উ, উম ইত্যাদি অদ্ভুত শব্দ করে, ‘আমাকে ভুলে গেছো না? একটা ফোনও তো দাও না?’
‘ও স্যরি ডার্লিং, আসলে কিছুদিন ধরে এতো বিজি আছি যে..’
‘শুধু অজুহাত।’
‘ও স্যরি বেবি।’
‘গাড়ির শব্দ শুনতে পাচ্ছি কোথাও যাচ্ছো নাকি?’
‘হ্যাঁ, শো করতে যাচ্ছি।’
‘কোথায়?’
‘নন্দনপার্কে, মাদকবিরোধী কনসার্টে!’
‘মাদকবিরোধী কনসার্টে? তুমি? হা হা হা, ও মাই গড।’
‘ও ডার্লিং কুল কুল, এতে হাসির কী হলো?’
‘হাসবো না! থাক বাদ দাও।’
‘শোনো, আমরা শিল্পী, স্যোশাল রেসপনসিবিলিটি আছে, সমাজের মানুষের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হয়।’
‘দ্যাটস রাইট।’
‘বিলিভি মি, অর্ধেক পেমেন্টে যাচ্ছি, শুধুমাত্র তরুণ সমাজের জন্য কিছু করতে চাই বলে।’
‘ইউ গ্রেট ডার্লিং!’
‘এই তুমি একদিন স্টুডিওতে আসো না!’
‘ওকে, আসবো।’
‘কবে আসবে?’
‘তুমি যেদিন বলো।’
‘ঠিক আছে আমি তোমাকে জানাবো।’
‘ওকে ডার্লিং, গুডলাক, রাখছি, বাই।’
‘লাভ ইউ বেবি, বাই!’

মধ্যরাতে রাতে চার পেগ ওয়াইন পান করার পর ঘুমাতে যায় ভোকালিস্ট। জাপানী পুতুলের মতো দেখতে তার স্ত্রী ঘুমিয়ে আছে বিছানায়। ভোকালিস্ট চিৎ হয়ে শুয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢোকে। মাদকবিরোধী কনসার্টের ছবি দিয়েছিল ফেসবুকে, সেই ছবিতে এখন হাজার তিনেক লাইক আর শ’তিনেক কমেন্টস। সে কয়েকটি কমেন্টে চোখ বুলায়-‘ইউ আর গ্রেট বস’, ‘স্যালুট বস’, ‘লাভ ইউ গুরু’, ‘চালাম বচ (বানান এভাবেই লেখা)’ ‘বস, আমি কনসার্টে ছিলাম, আমার জীবন ধন্য’, ‘আপনার মতো শিল্পীরা আছে বলেই সমাজটা এখনো এতো সুন্দর’ ইত্যাদি!

ঢাকা।
অক্টোবর, ২০১৮


সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:২৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আজ প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন

আজ ২০ সেপ্টেম্বর, Wife Appreciation Day—প্রিয়তমা স্ত্রীকে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানোর একটি সুন্দর উপলক্ষ।

সংসারের নানা দায়িত্ব, ভালো-মন্দ সময় এবং জীবনের কঠিন মুহূর্তে একজন স্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নিমো'র আসল নাম নিমচাঁদ না?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



সামুর আগের মডূ জাদীদ ভাই আমাকে একবার বলেছিলেন ব্লগার নিমো'র আসল নাম নিমচাঁদ, তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা মাঝে মাঝে পদ্মার পাড়ে ইলিশ খেতে যান। আর, গরুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

×