তখন প্রাইমারী স্কুলে পড়ি। আমাদের গ্রামের সুন্দর আলী বিখ্যাত ছিল গালাগালির জন্য। সুন্দর আলীর জমিতে যদি কারো ছাগল বা গরুতে একটা কামড় দিয়েছে তাহলেই হল। একদিন বা দুদিন পর যখনই সে বুজতে পারত তখনই ক্ষেতের আলে দাড়িয়ে শুরু হত উয়াজ নসিহত। তার গালাগালির ভান্ডার খুলে যেত। খুব জোরে জোরে মালার মত গালি ছাড়ত তা বহুদূর থেকে শোনা যেত। কার গরুতে তার ক্ষেতে কামড় দিয়েছে সে জানতনা। তাই সেই গরুর মালিকের উদ্দেশ্যে, তার এবং তার বংশের যত মহিলা আছে তাদের গোপন অংগের উদ্দেশ্যে করাতের মত এই বাক্যগুলো ছাড়ত। গালিগুলোর একটা শুরু এবং একটা শেষ ছিল। শুরুর দুএকটা উদাহরন না দিলে ঠিক বুজাতে পারবনা। যেমন: চুতমারানির পুতাইত, তর মারে চু.. তর বইনেরে চু... হেডামারানির পুতাইত, তর ...বরগিরির পুতাইত(মানে বড় শ্যালক), তর .. গাইরমারানির পুতাইত, তর ..। এভাবে তার মুখস্ত সব শব্দগুলো শেষ হয়ে গেলে আবার প্রথমটায় ফিরে এসে আবার চলত। চলতে চলতে তার মুখ দিয়ে ফেণা বেরুত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত, যতক্ষন সে নেতিয়ে পড়ত অথবা তার মেয়ে রানু এসে নিয়ে না যেত। মুরুব্বীরা তার এসব শব্দভান্ডার শুনে লজ্ঝায় কানে আংগুল দিত। কিন্তু আমরা বিলের পাড়ে আমগাছটার নীচে বসে শুনতাম আর খুব মজা পেতাম। কারন যার গরুতে ক্ষেত খেয়েছে নিশ্চয়ই সে শুনেছে এবং তার বড় শাস্তি হয়েছে।
আজ পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরে অনেক রকম জগন্য গালি শুনে বুজতে পারলাম পৃথিবীর সবচেয়ে জগন্য এবং সবচেয়ে বেশি ঘৃণা প্রকাশ করা হয় একটা গালিতে। সুন্দর আলির গালি ছাড়িয়ে,পাকি গালি, ইথিউপিয়ার গালি, সৌদি গালি (পাক পবিত্র নয় অবশ্যই) আর ইংলিশ ভাষায় সব গালি ছাড়িয়ে ঘৃণা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করা যায় রাজাকার গালিতে। তাই পৃথিবীর ঘৃন্য গালিগুলোর সংমিশ্রনে তৈরি হয়েছে একটি গালি: রাজাকার! রাজাকার!! রাজাকার!!! তারাই রাজাকার যারা রাজাকারের পক্ষে কথা বলে। মইন্যা (ব্যারিষ্টার মইনুল হুসেন)রাজাকার। ব্লগে আছে কিছু রাজাকার!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


