আশেক বলল চল ফিরে যাই। বাঙাল সব খতম করনে হুগা। বাঙাল নেহি রাহেগা তো ভোট দেয়গা কায়সা? সে আরও বলল এই এলাকায় কোন বাঙালি রাখা হবেনা। সব শেষ করে দাও। রাস্তায় এসে দাড়ালাম সবাই। একটা ট্রাক হাত তুলে থামাল আশেক। নিয়ে গেল সেই বাড়ীতে। সব দামি জিনিষ আর অনেকগুলো সুটকেস ট্রাকে উঠানো হল। সবশেষে সেই মহিলাকে টেনে হেচড়ে নিয়ে এল ট্রাকে। যার যার বাড়ীর সামনে ট্রাক থামিয়ে যার যার জিনিষ তাদের বাড়ীতে নিয়ে গেল। সবশেষে মহিলাকে নিয়ে গেল দশ নম্বরে আর্মি কেম্পে। কমান্ডারকে গিয়ে আশেক বলল, হুজুর আপকে লিয়ে তোফা।
বহুত আচ্ছা! বহুত আচ্ছা! তুম তো বহুত কামকা আদমী হো। তোমারা প্রমোশন মিল যায়েগা। যাও আচ্ছা সে কাম করো।
পরে টাকা আর সোনার গহনা সবার মাঝে ভাগ করে দিল আশেক। আমার ভাগে পড়ল দুহাজার টাকা আর দুটা হাতের বালা। এভাবেই শেষ হল আমার প্রথম ট্রেনিং।
আমাদের অপারেশন চলল রাত দিন, যখন তখন। মিরপুর, মুহাম্মদপুর, রায়ের বাজার, কাটাবন, ধানমন্ডি, ওদিকে তেজগা,কাওরান বাজার, গুলশান যখন যেখানে সুবিধা আমরা অপারেশন শুরু করলাম।
এর মধ্যে আমাদের আনসারী হুজুরের প্রমোশন হয়ে চলে গেছে হেড কোয়ার্টারে। হুজুরের জায়গায় প্রমোশন পেয়েছে আশেক। এখন আমাদের প্লাটুনে প্রায় ষাট জন রাজাকার কাজ করে। আসলে সব বিহারিরাই রাজাকার। আমার কাজে খুশি হয়ে আশেক আমাকে আরও দায়ীত্ব দিয়েছে। এখন আমি নিজেই অপারেশন লিডার। সব করতে পারি। বুঝতে পারলাম শত্র“ চেনার প্রয়োজন নেই। বাঙাল হলেই হল। যাদের ঘরে সোনাদানা টাকাপয়সা আছে তারাই দেশের শত্র“।
বাঙাল সব খতম করতে হবে। সেই আদেশে আমি আমার দল নিয়ে মিরপুরের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে হানা দিয়েছি। যে বাড়ীতে পুরুষ পেয়েছি তাদের ধরে এনে তাদের দিয়েই কবর খুরিয়েছি। তারপর তাদের লাইন করে দাড় করিয়ে খতম করেছি। মিরপুরের বধ্যভুমি বলে পরিচিত আজকের যে জায়গা তাতে আমার দান অনেক। বেশিরভাগ শত্র“ আমিই খতম করে ওখানে মাটিচাপা দিয়েছি। কখনও খোলা জায়গায় ফেলে এসেছি। তাদের বাড়িঘর লুট করেছি। লুটের মাল আমার দলের মাঝে ভাগ করে দিয়েছি ঈমানের সাথে। ইসলাম ধর্মের প্রধান অঙগ ঈমান। আমার ঈমান খুব শক্ত। আমার এসব কাজে খুশি হয়ে আশেক আমাকে প্রমোশন দিল কমান্ডার হিসেবে। তখন আমার ক্ষমতা আরও বেড়ে গেল।
একদিন গেলাম ধানমন্ডির একটা বাড়ীতে। আমাদের কাছে খবর ছিল। বাড়ীর মালিক আওয়ামীলীগ করে। অনেক ধনী। কাজেই সে দেশের শত্র“। একদিন সকাল দশটায় একটা ছোট ট্রাক নিয়ে আমরা সে বাড়ীতে উপস্থিত হলাম। বিরাট দুতলা বাড়ী। লোহার গেইট। অনেক ধাক্কাধাক্কির পরও দরজা খোলেনি। গুরগনকে এখন আর বলতে হয়না। দরজা ভাঙার জন্য সে উস্তাদ। একবার তার দিকে তাকালেই হল। আমি তার দিকে তাকাতেই সে তার কাজ শেষ করে ফেলল। আমরা পাঁচজন বিনা বাধায় বাড়ীর ভেতর ঢুকলাম। নীচের তলায় অনেকগুলো রুম। জিনিষপত্রে ঠাসা। দামী ফার্নিচার। একটা রুমে দেখলাম বেশ কিছু সুটকেস রাখা আছে। মনে হল হয় যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না হয় চলে গেছে। সবগুলো রুম তন্ন তন্ন করে খুজে দেখলাম। কেউ নেই। কিন্তু এতসব জিনিষ কিভাবে নিব! আমাদের ট্রাকে জায়গা হবেনা। ভাবলাম একবারে না পারি কয়েকবারে নেয়া যাবে। আমরা উপরে গেলাম। চারটা রুম। তিনটা রুম ভেতর থেকে বন্ধ। একটায় তালা দেয়া। বুঝলাম তিনটা রুমে মানুষ আছে। ধাক্কা দিলাম। খোলেনি। তারপর গুরগন তার কাজ করল। দরজা খুলতেই আমরা ভেতরে ঢুকলাম। খুজতে লাগলাম মানুষ এবং সোনাদানা কি আছে। ষ্টিলের আলমারী বন্ধ। পাশে আলনায় অনেক দামী কাপড়। দামী ফার্নিচার। পেছন থেকে গুড্ডু চিৎকার করে উঠল, মিল গায়া! সে খাটের নীচ থেকে একটা লোক টেনে বের করে আনল। দেখলাম আধ বয়সি লোকটা কাপছে। আমি খুব জোরে একটা ঘুসি লাগিয়ে দিলাম তার মুখে। বললাম, আলমারির চাবি দে! সে কাপতে কাপতে বালিশের নিচে থেকে চাবি দিল। আলমারিতে আমরা অনেক টাকা পয়সা সোনাদানা পেলাম। গুড্ডু আবার চিৎকার করে উঠল, কিমতি চিজ মিল গায়া উস্তাদ! দেখলাম আলনার পেছন থেকে এক অনিন্দ সুন্দরি মহিলাকে সে টেনে বের করে আনল। মহিলার বয়স তিরিশের উপর হবে। এমন সুন্দরি মহিলা আমি আর দেখিনি। তার গায়ে অনেক গহনা। জ্বল জ্বল করছে। মহিলা আমার পায়ের উপর পরে কেঁদে উঠল। বলল, আমাদের সব নিয়ে যাও! আমাদেরকে মেরোনা! এর মধ্যে গুরগন লোকটার হাত পিছমোরা করে বেধে ফেলল। গুরগনের কাছে সব সময় দড়ি আর চোখ বাধার কাপর থাকে। তার লম্বা কুর্তার পকেটে আরও অনেক কিছু রাখা যায়। লোকটা যেন একটা পুতুল। কোন কথা বলছেনা। গুরগন তাকে নীচে ফেলে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরেছে। একটার পর একটা লাথি দিচ্ছে। কোন আওয়াজ নেই। বোধ হয় বোবা। তারপর মহিলাকে হাত বেধে আমরা সব রুম দেখলাম। যে রুমটা তালা দেয়া সে রুমের চাবি নিলাম মহিলার ব্যাগ থেকে। খুলে দেখলাম। রুমে মানুষ নেই। তবে কাপড়চোপর ভর্তি। খাটের নিচে খুজলাম। দেখলাম একটা কম্বল পড়ে আছে। টান দিতেই এটা ভারি মনে হল। বের করে আনলাম। কম্বলটা সরাতেই একটা চিৎকার করে উঠল। একটা দশ বার বছরের মেয়ে। কম্বল জড়িয়ে এখানে লুকিয়ে আছে। আর বাইরে থেকে তালা দিয়ে রেখেছে। মেয়েটার বারন্ত গড়ন। দুধে আলতা গায়ের রং। এত রূপ! চোখ ফেরানো যায় না। মেয়েটার চিৎকার থামছেনা। আব্বু! আম্মু! আমাকে নিয়ে যাও! আমাকে ধরে ফেলেছে! একটা ধমক দিলাম। কাজ হয়না। তার মুখে একটা কাপড় গুজে গুড্ডুকে বললাম, তুম সব দোসরা কামড়ে মে যাও আওর গনিমত কামে লাগাও। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলাম। মেয়েটাকে বিছানায় আনার সাথে সাথে সে একবারে নির্জীব হয়ে গেল। মেয়েটাকে ধর্ষন করার আগে আমার মনে দ্বিধা ছিল। মনের যুক্তি ছিল: যুদ্বের সময় সবকিছুই জায়েজ। এখন সে গনিমতের মাল। আমাদের। আমরা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারব। ধর্মে এটা জায়েজ। তার মুখে ভাল করে কাপড় গুজে দিয়ে আমি ধর্ষন করলাম। আমি এত পুলকিত হলাম মনে হল এটাই বেহেস্তের শান্তি। এই কয়মাসে আমি কত মহিলাকে ধর্ষন করলাম। কিন্তু এত সুখ আমি আর কোথাও পাইনি। ধর্ষন শেষে আমি তার মুখের কাপড় খুলে দিলাম। একি! মেয়েটা নড়াচড়া করছেনা কেন! নাকে হাত দিয়ে দেখলাম। কই শ্বাস প্রশ্বাস নেই কেন! ধাক্কা দিলাম। একদম নিথর। ধর্ষনের আগেই মারা গেল নাকি ধর্ষন করার সময় মারা গেল তা বুঝতে পারলাম না। হয়ত বা মুখে কাপড় গুজে দেবার সময়ই মারা গেছে! আমার খুব খারাপ লাগল মেয়েটার জন্য। আমার ইচ্ছে ছিল আরও ধর্ষন করব, নিয়ে যাব। ইচ্ছেমত করব। যখন তখন। সে সুযোগটা আর থাকলনা! কিন্তু সেই থেকে কিশোরির প্রতি আমার আকর্ষন বেড়ে গেল। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


