শেষ পর্ব
আমার এখন সুটকেস ভরা টাকা আর সোনার গহনা, ছয়টা বাড়ী। পাঁচটা বাড়ীর ভাড়া পাই। ব্যবসা খুব ভাল চলছে। এখন আমি সরকারি অফিসে ষ্টেশনারী সরবরাহ করি। প্রতি মাসে দুএকবার গ্রামের বাড়ি যাই। গরীব দু:খিকে সাহায্য করি। আমার এখন অনেক সুনাম।
ঢাকা সাভারে দশ বিঘা পতিত জমি খুব কম দামে কিনে নিলাম। মিটফোর্ডে একটা ঔষদের দোকান নিলাম। আরও তিনজন কর্মচারি নিয়োগ দিলাম। আমার এখন কোন কাজ করতে হয়না। শুধু তদারকি করা। পাঁচ ওয়াক্ত আমি মসজিদে নামাজ আদায় করি। মাদ্রাসায় পড়ার গুনে আমি বেশ বয়ান করতে পারি। বয়ান করার জন্য আশে পাশের মসজিদেও আমার দাওয়াত পড়ে। আমি এখন একজন আলেম মানুষ। সবাই শ্রদ্ধা করে। কিন্তু রাতের বেলায় আমি কি করি তা কেউ জানেনা।
আমি এখন একজন ধনী মানুষ। হজ্ব আমার উপর ফরজ। তাই হজ্ব করে এলাম। মানুষ এখন আমাকে জানে মৌলানা হাজি ইসমাইল। কেউ কেউ হুজুর বলেও সম্বোধন করে। যেখানেই যাই আমার একটা আলাদা মর্যাদা থাকে।
আমার স্ত্রী ছেলেমেয়েরা গ্রামের বাড়িতেই থাকে। ছেলে মেয়েরা গ্রামের স্কুলে যায়। সবাই জানে শহরে আমি ব্যবসা আর ওয়াজ মাহফিল নিয়ে ব্যস্ত। আমার লেবাস এখন আধা সৌদি। ধর্মিয় সব অনুষ্ঠানে আমার দাওয়াত পড়ে।
আমার চার ছেলে তিন মেয়ে। কেউ লেখাপড়ায় ভাল করেনি। তিন ছেলেকে ঢাকায় এনে ব্যবসায় নিয়োজিত করলাম। কিন্তু কাশেম ব্যবসা করতে নারাজ। সে বিদেশ যাবে। তাই অনেক টাকা খরচ করে তাকে কানাডা পাঠিয়েছি। সে এখন কানাডার নাগরিক।
সব ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। আমার টাকাপয়সার অভাব নেই। আল্লাহর কাজে নিজকে নিয়োজিত রাখি। কিন্তু রাতে আমার কিশোরি চাই। এখন আর আগের মত প্রতি রাতে চাইনা। মাসে দুচার রাত।
কাশেম আমাদেরকে এদেশে আনার জন্য খুব করে ধরল। বলল, ভাল না লাগলে চলে যাবে যে কোন সময়। এদেশটা দেখারও সখ ছিল। এক সময় রাজি হলাম। সে তার মা এবং আমাকে স্পন্সর করেছে। আমরা তার বাসায় থাকি।
এখানে আসার কিছুদিন পরই আমার মাথায় কিশোরির চিন্তা ঢুকল। এখানে এসব কোথায় পাব! আমার অন্য কোন কাজ না থাকায় বাচ্চাদের আরবী শিক্ষা দেই। কিশোরি দেখলে মাথা ঠিক থাকেনা। অনেক সময় সুযোগ বুঝে অনেকের গায়ে হাত দিয়েছি।
এসময় উকিল তার অন্য মক্কেলের সাথে কাজ শেষ করে ফিরে এল। এসেই জিজ্ঞেস করল, ডিড ইউ ফিনিস? পড়া শেষ করেছ?
আমি বললাম, অলমোষ্ট ফিনিস। প্রায় শেষ করে ফেলেছি।
তারপর সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ক্যান আই আসক্ ইউ এ্যা কোশ্চেন? আমি কি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?
বললাম কর।
হুয়াই হি ওয়াজ নট ট্রাইড ইন বাঙলাদেশ? হি ইজ এ্যা সিরিয়েল কিলার! বাংলাদেশে তার বিচার হয়নি কেন?
প্রশ্নটা শোনার সাথে সাথে আমার সমস্ত শরীরে একটা বিদ্যুৎপ্রবাহ বয়ে গেল। মাথা থেকে পা পর্যন্ত জ্বলে উঠল। নিজেই যার কোন উত্তর খুজে পাইনি সে প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারিনি। মাথা নিচ করে আমি নীরবে বেরিয়ে এলাম। আমার সমস্ত শরীর জ্বলছে। রাগে দু:খে আমি আমার মাথার চুল ছিরছি! মাথার খুলি ভেদ করে আগুনের ফুলকির মত একটি প্রশ্ন বেরিয়ে আসছে : বাংলদেশে এই রাজাকারের বিচায় হয়নি কেন? কেন! কেন!! কেন....
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


